দর হারিয়েছে ৮৪% শেয়ার টানা ৬ দিন সূচকে পতন
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:২৬
টানা ষষ্ঠ দিনে দর পতন হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। গেল সপ্তাহের পুরো পাঁচ কর্মদিবসে দর হারালেও বৃহস্পতিবারের শেষ ঘণ্টার ঊর্ধ্বমুখী ধারা আশা জাগিয়েছিল। তবে গতকাল রোববার তালিকাভুক্ত প্রায় ৮৪ শতাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে।
এতে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৬৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ হারিয়ে ৪৮৯৯ পয়েন্টে নেমেছে। ফলে সূচকটি ফিরে গেছে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগের অবস্থানে।
ঢাকার শেয়ারবাজার ডিএসইতে গতকাল তালিকাভুক্ত ৩৬০ কোম্পানির মধ্যে ৩৫১টির কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০১টি দর হারিয়েছে, বেড়েছে ৩৩টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে বাকি ১৭টির দর। মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ছিল একই ধারা। তালিকাভুক্ত ৩৭টি মেয়াদি ফান্ডের মধ্যে একটিরও দর বাড়েনি। উল্টো ২৫টি দর হারিয়েছে।
বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান নীতিনির্ধারকরা অর্থনৈতিক উন্নয়নে শেয়ারবাজারকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা মুখে বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন কম। সর্বশেষ একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ইসলামী ব্যাংকে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার শূন্য ঘোষণার নেতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়েছে বলে তারা মনে করেন।
জানতে চাইলে ডিএসইর ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তিনটি ইস্যু বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের অস্বস্তিতে ফেলে। এগুলো হলো– নতুন মার্জিন বিধিমালা, পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ এবং জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এর মধ্যে মার্জিন বিধিমালা ইস্যুটির সমাধান হয়েছে বৃহস্পতিবার গেজেটের মধ্য দিয়ে। বিদ্যমান অবস্থা থেকে নতুন ব্যবস্থায় যাওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু পাঁচ ইসলামী ব্যাংক যেভাবে একীভূত করা হচ্ছে, তা কোনো বিনিয়োগকারী ভালোভাবে নেয়নি। এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আরও উদ্বেগের কারণ হলো– শুধু এই পাঁচ ব্যাংকই নয়, আরও অনেকগুলো বাণিজ্যিক ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা কোম্পানি রুগ্ণ অবস্থায়। শোনা যাচ্ছে, এর অনেকগুলো অবসায়ন বা একীভূত হবে। এই ভয়ে অনেকে শেয়ার বিক্রি করছেন। শেয়ার বিক্রি হলে সূচকের পতন হয়। এভাবে ভীতি পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে।
এর মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনের অস্থিরতা বিদেশি এবং দেশীয় বড় বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বলে মনে করেন তিনি।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, বড় বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চিত পরিস্থিতি পছন্দ করেন না, তারা হাত গুটিয়ে রাখেন। ফলে ক্রয় চাহিদা কমে এবং ক্ষেত্রবিশেষ বিক্রির চাপ বাড়ে, যা দর পতনকে উস্কে দিতে পারে।
গতকালের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শুরুতে অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধি পায়। তালিকাভুক্ত ৩৯৭ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩২৯টিই আগের দিনের তুলনায় বেড়েছিল। তবে লেনদেনের শেষ দিকে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। মোট ৩৭৩ শেয়ার ও ফান্ড দর হারায়। শেয়ার দরের প্রভাব সূচকেও দেখা গেছে। সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর মাত্র ১১ মিনিটে প্রধান সূচক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫০০১ পয়েন্ট ছাড়ায়। দুপুর ২টা ২০ মিনিটে স্বাভাবিক লেনদেন শেষ হওয়ার মাত্র ১৩ মিনিট আগেই ওই অবস্থান থেকে ১০২ পয়েন্ট হারিয়ে ৪৮৯৭ পয়েন্টে নামে।
পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইএক্স সূচকের ৬৮ পয়েন্ট পতনের মধ্যে ব্যাংক, বীমা এবং আর্থিক খাতের অবদান ছিল ৩৭ পয়েন্ট। শুধু ব্যাংক খাতের দর পতনে সূচকটি হারিয়েছে ২২ পয়েন্ট। একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের লেনদেন স্থগিত করার কারণে সূচকের পতনে এগুলোর কোনো ভূমিকা ছিল না। এ ছাড়া বীমার কারণে হারায় আরও প্রায় ১২ পয়েন্ট।
খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কাগজ ও ছাপাখানা খাতের ছয় কোম্পানির গড়ে পৌনে ৮ শতাংশ দর পতন হয়েছে, যা একক খাত হিসেবে গতকালের সর্বোচ্চ দর পতন। সোয়া ৫ শতাংশ দর হারিয়ে এর পরের অবস্থানে ছিল সিরামিক খাত। বড় খাতগুলোর মধ্যে বীমার ৫৮টি কোম্পানি গড়ে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ দর হারিয়েছে।
এ অবস্থায় গতকাল ঢাকার শেয়ারবাজারের লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ১৭ কোটি টাকা কমে ৪০২ কোটি টাকায় নেমেছে। এর মধ্যে একক খাত হিসেবে প্রকৌশল খাতে সর্বাধিক প্রায় ৫৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়, যা মোটের সাড়ে ১৪ শতাংশ। একক কোম্পানি হিসেবে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের ২৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
- বিষয় :
- শেয়ারবাজার
- দরপতন
