ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন শেয়ারবাজারে

প্রধান সূচক কমেছে ২০৯ পয়েন্ট

ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন শেয়ারবাজারে
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ২০:৪০

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে তার ফলে টালমাটাল বিশ্বের প্রায় সব দেশের শেয়ারবাজার। এশিয়া থেকে ইউরোপ, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত সব বাজারে ব্যাপক দরপতন হচ্ছে। তার রেশ এসেছে পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারেও। ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে আজ মঙ্গলবার।

যুদ্ধ শুরুর খবরে গত রোববার বড় পতন হলেও সোমবার ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ ছিল দেশের শেয়ারবাজারে। তবে বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারের পতন দেখে বিনিয়োগকারীরা আশা ছাড়েন। ফলে আজ মঙ্গলবার লেনদেন শুরু হতেই শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ে।

সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ক্রমাগত দর হারাতে থাকে একের পর এক শেয়ার, যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত চলে। লেনদেনে থাকা ৩৫১ কোম্পানির মধ্যে ৩১৪টির শেয়ার দর হারায়। এতে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ২০৯ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৩২৫ পয়েন্টে নেমেছে। সূচক পতনের হার পৌনে ৪ শতাংশ। এ পতন ২০২০ সালের ৯ মার্চের পর বা গত প্রায় ছয় বছরের সর্বোচ্চ। ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির প্রাক্কালে দেশে রোগী শনাক্তের খবরে ওই বছরের ৯ মার্চ সূচক ২৭৯ পয়েন্ট বা সাড়ে ৬ শতাংশ পতন হয়েছিল।

দিনের লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, প্রায় সব কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছে। ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে ১১৫ কোম্পানির শেয়ার। সবচেয়ে বড় মূলধনী ব্যাংক খাতের ৩১ কোম্পানির গড়ে দরপতন ৪ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এ খাতের দরপতনেই সূচক হারিয়েছে ৭৯ পয়েন্ট। এছাড়া বীমার ৫৮ কোম্পানির দরপতন হয়েছে ৫ শতাংশ। এছাড়া পাট খাতের তিন কোম্পানির সাড়ে ৭ শতাংশ এবং তথ্য-প্রযুক্তি খাতের ১১ কোম্পানির সোয়া ৬ শতাংশ দরপতন হয়। ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, বিএটি বাংলাদেশ, বেক্সিমকো ফার্মা এবং স্কয়ার ফার্মার দরপতনেই সূচক হারায় ৬০ পয়েন্টের বেশি। 

দরপতনের মধ্যেও ডিএসইতে ১০৫ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা বেড়েছে। মোট কেনাবেচা হয় ৮৮৫ কোটি টাকার শেয়ার। আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি বৃদ্ধির কারণে লেনদেন বেড়েছে বলে জানান বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা।

সর্বাধিক ৫৬ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা নিয়ে একক কোম্পানি হিসেবে লেনদেনে শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক। খাতওয়ারি হিসেবে সর্বাধিক ২৩৫ কোটি টাকা বা সাড়ে ২৬ শতাংশ লেনদেন হয়েছে ব্যাংক খাতে।

আরও পড়ুন

×