এডিবির প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত এশিয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি জ্বালানি বাজারে এক বছরের বেশি সময় ধরে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তবে ২০২৬-২০২৭ সময়কালে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত কমে যেতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি ৩.২ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এক গবষেণায় এমন প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল সংস্থাটি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব পড়ছে উচ্চ জ্বালানি মূল্য, সরবরাহ শৃঙ্খল ও বাণিজ্য বিঘ্ন এবং কঠোর আর্থিক পরিস্থিতির মাধ্যমে। পর্যটন ও প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এডিবির প্রতিবেদনে তিনটি ঝুঁকির পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলের উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর ওপর প্রভাব মূলত নির্ভর করবে বর্তমানের সংঘাত কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর। স্বল্পমেয়াদি সংঘাত হলে জ্বালানি মূল্যের চাপ তুলনামূলক দ্রুত কমে আসবে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন হলে প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ওপর আরও বড় এবং স্থায়ী প্রভাব পড়বে।
এডিবির গবেষণা বলছে, উচ্চ জ্বালানি মূল্যের পাশাপাশি বিস্তৃত সরবরাহ শৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে। আর মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি বাড়বে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলোতে। এসব পরিস্থিতি সংঘাত এবং সংশ্লিষ্ট বিঘ্ন কীভাবে বিকশিত হবে সে বিষয়ে উচ্চ অনিশ্চয়তাকে প্রতিফলিত করে। তাই এগুলো সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
প্রতিবেদনটি চারটি প্রধান নীতিগত পদক্ষেপ প্রস্তাব করেছে। প্রথমত– মূল্য সংকেত দমন না করে স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেওয়া উচিত। আংশিকভাবে উচ্চ জ্বালানি মূল্য ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে দিলে জ্বালানি সাশ্রয়, বিকল্প জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং জ্বালানি পরিবর্তনে উৎসাহিত করা যায়। দ্বিতীয়ত– প্রয়োজন হলে রাজস্ব সহায়তা লক্ষ্যভিত্তিক এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হওয়া উচিত। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তৃতীয়ত– কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর উচিত বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা। অতিরিক্ত কঠোর নীতি প্রবৃদ্ধিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। চতুর্থত– সরকারগুলোর উচিত যেখানে সম্ভব জ্বালানির চাহিদা কমানো। যেমন– এয়ারকন্ডিশনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় আলো কমানো, বিদ্যুৎ সাশ্রয় প্রচারণা, ঘরে বসে কাজ বা ভিন্ন সময়সূচি চালু করা ইত্যাদি।
- বিষয় :
- এডিবি
