ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এলপিজি আমদানিতে একক গ্রাহকের ঋণসীমা শিথিল

এলপিজি আমদানিতে একক  গ্রাহকের ঋণসীমা শিথিল
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের তীব্র সংকট এবং অস্বাভাবিক দাম পেয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এর আমদানিকারকদের জন্য একক গ্রাহকের ঋণসীমা তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বুধবার এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 
সার্কুলার অনুযায়ী এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে একক গ্রাহকের ঋণের ঊর্ধ্বসীমা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হলেও নতুন সীমা কার ক্ষেত্রে কত হবে, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারণ করে দেবে। এই বিশেষ সুবিধা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দেশে প্রয়োজনীয় এলপিজি আমদানিতে এলসি বা ঋণপত্র খোলার জটিলতা নিরসন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৬খ(১) ধারার বিধান সাময়িকভাবে শিথিল থাকবে।
আইনের ওই ধারার শর্ত অনুযায়ী, কোনো একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক গ্রুপকে একক কোনো ব্যাংকের মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি (ফান্ডেড বা নন-ফান্ডেড বা উভয় মিলে) ঋণ দিতে পারে না। বর্তমান আন্তর্জাতিক সংকটে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকদের এলসি খুলতে আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন তৈরি হওয়ায় এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শীর্ষ আমদানিকারক কোম্পানিগুলো যেসব ব্যাংক থেকে এলসি খুলে থাকে, সেগুলোর মূলধন বড় হওয়ায় একক গ্রাহকের ঋণসীমা কোনো সমস্যা ছিল না। তারপরও কোনো কোম্পানির যাতে এলপিজি আমদানিতে কোনো সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

গত জানুয়ারিতে দেশের বাজারে এলপিজির সরবরাহ সংকট তৈরি হলে তখনও সার্কুলার করে বাকিতে এলপিজি আমদানির সুযোগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বলা হয়েছিল, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট, বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বায়ার্স বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে এলপিজি আমদানি করতে পারবে। 
গত ফেব্রুয়ারিতে এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠনের আবেদনের প্রেক্ষিতে পৃথক দুই প্রজ্ঞাপনে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ে ২ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে এলপিজি আমদানি পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করে। এনবিআর জানায়, এতে এলপি গ্যাস কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে প্রায় ২০ শতাংশ ভ্যাট কমেছে।

গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে এসব সুবিধা দেওয়ার বিভিন্ন কারণ ছিল। ওই সময় দেশে এলপিজি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসির নির্ধারিত এক হাজার ২৮৩ টাকার স্থলে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায় কেনাবেচা হয়। উচ্চমূল্য দিয়েও গ্যাস সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। আমদানিকারকদের দাবি ছিল– গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকেন্দ্রিক ৪৮ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং এলপিজি বহনকারী জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে আমদানি করতে পারছে না।
দেশের বাজারে এলপিজির ব্যবসার প্রায় শতভাগ বেসরকারি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। এলপিজি আমদানিকারকদের মধ্যে অন্যতম মেঘনা গ্রুপ, ওমেরা পেট্রোলিয়াম, বসুন্ধরা গ্রুপ এবং ইউনাইটেড আয়গাজ। এ ছাড়া সরকারিভাবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সম্প্রতি আমদানির অনুমোদন পেয়েছে এবং দেশে মোট ২৩টি প্রতিষ্ঠানের এলপিজি আমদানির সক্ষমতা রয়েছে।
প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া এবং সৌদি আরব থেকে এলপিজি আমদানি করা হয়। সংকট কাটাতে গত জানুয়ারিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিপিসিকে এলপিজি আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। 

আরও পড়ুন

×