গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক
সুদের হার কমানোর পদক্ষেপ চায় ঢাকা চেম্বার
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকা চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২১:১৪ | আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২১:৪৬
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) বলেছে, বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদহার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এ কারণে ব্যাংক থেকে অর্থায়ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রমেই ব্যয়বহুল ও অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং স্বল্প মুনাফাভিত্তিক উৎপাদনশীল শিল্পের জন্য যা মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সুদের হার ক্রমান্বয়ে কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং এসএমই খাতের মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকিযুক্ত ঋণসুবিধা চালু করার প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে ঢাকা চেম্বার এসব সুপারিশ করে। চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বাংলাদেশ ব্যাংকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা চেম্বারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যা জানানো হয়।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক শূন্য তিন শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীত সুদহার ১০ শতাংশ রয়েছে। এর ফলে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদের হার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশে পৌঁছেছে। বর্তমান অবস্থা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য সংকটের প্রতিফলন।
তাসকীন আহমেদ উল্লেখ করেন, ঋণ গ্রহণ ও ঋণ প্রদানের সুদের হারের মধ্যে বড় ব্যবধানের স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে এবং সেই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগে নিম্নমুখী প্রবণতা সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঋণ শ্রেণিকরণ নীতিমালা ৯ মাস থেকে ৩ মাসে নামিয়ে আনা, ব্যবসা পরিচালনায় উচ্চ ব্যয়, জ্বালানি সংকট এবং কম চাহিদার মতো সমস্যায় থাকায় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকৃত (অনিচ্ছাকৃত) খেলাপিদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা পুনর্বিবেচনা করার পাশাপাশি ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা কমপক্ষে ৬ মাস পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেন তাসকীন আহমেদ।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতি বেশকয়েকটি সুনির্দিষ্ট পণ্য, সেবা ও রপ্তানি বাজারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এবং এ অবস্থা উত্তরণে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের কোন বিকল্প নেই। বিশেষকরে দেশের সিএসএমই খাত ও কৃষি ব্যবস্থাপনা উপর অধিক হারে গুরুত্বারোপ করতে হবে, যার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসবে ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
দেশে দীর্ঘসময়ের বজায়ে থাকা উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য লজিস্টিক ও পণ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যয়ের উচ্চ হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, এক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিরসনে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আশাব্যঞ্জক না হওয়ায় আমরা বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণসহ স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণেও পিছিয়ে রয়েছি। এ অবস্থা উত্তরণে ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ক নীতিমালার সংষ্কারের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাসের কোন বিকল্প নেই।
ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ সহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ ব্যাংক
- গভর্নর
- ঢাকা চেম্বার
- বৈঠক
