ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

গ্রাহকরা আস্থা রেখেছেন বলেই এবি ব্যাংক টিকে আছে

গ্রাহকরা আস্থা রেখেছেন বলেই এবি ব্যাংক টিকে আছে
×

রিয়াজুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত এমডি ও সিইও

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:১৭ | আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

আজ দেশের বেসরকারি খাতের প্রথম ব্যাংক এবি ব্যাংকের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৮২ সালের ১২ এপ্রিল ব্যাংকটি কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন এবি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি ও সিইও রিয়াজুল ইসলাম

সমকাল: এবি ব্যাংকের দীর্ঘ পথ চলা নিয়ে জানতে চাই।

রিয়াজুল ইসলাম: দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে এবি ব্যাংক ৪৪ বছর পার করতে যাচ্ছে। এ ব্যাংকের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ  মোরশেদ খান। তাঁর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় গৌরব করার মতো বহু ইতিহাস সৃষ্টি করেছে এ ব্যাংক। দীর্ঘ যাত্রায় অনেক চ্যালেঞ্জও ছিল। নানা সময় নানা প্রতিকূলতায় পড়তে হয়েছে। 

সমকাল: এখনকার বড় চ্যালেঞ্জটি কী? কীভাবে তা সৃষ্টি হয়েছে?

রিয়াজুল ইসলাম: খেলাপি ঋণ বড় সমস্যা। ফলে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে। তবে এ সমস্যা কেবল এবি ব্যাংকের নয়।  আরও বেশ কিছু ব্যাংক এমন সংকট মোকাবিলা করছে। কেন এমন হয়েছে, তার অনেক ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব। আসলে একটি প্রতিষ্ঠান কেবল নিজে চলে না, অনেককে নিয়েই চলে। দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সব কিছুকে প্রভাবিত করে। কখনও কখনও ইচ্ছার বিরুদ্ধেও চলতে হয়। এভাবে সংকট তৈরি হয়।

সমকাল: বর্তমান সংকট টিকে থাকা নিয়ে। এ অবস্থায় ব্যাংকের মূল শক্তি কী বলে মনে করেন?

রিয়াজুল ইসলাম: আমি প্রায় ২০ বছর ধরে এই ব্যাংকের সঙ্গে আছি। আশি বা নব্বইয়ের দশকেও এই ব্যাংক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। এবি ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর বিশাল গ্রাহক ভিত্তি এবং শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং। এ ছাড়া আমাদের কর্মীরা মালিকানাবোধ নিয়ে কাজ করেন, যা যে কোনো চ্যালেঞ্জিং মোড়ে ব্যাংককে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে।

সমকাল: সংকট উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা আছে?

রিয়াজুল ইসলাম: অবশ্যই। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে, আমরা ব্যাংকটিকে কীভাবে আগের অবস্থায় ফেরাতে চাই। আমরা ৫ থেকে ১০ বছরের একটি কৌশলগত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছি। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তার মাধ্যমে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার চেষ্টা করছি। ২০২৪-২৫ সালে আমরা ৩০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে পেরেছি। এই বছর আরও ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। 

সমকাল: নতুন আমানতকারী বা গ্রাহক পাওয়ার ক্ষেত্রে সফলতা কেমন?

রিয়াজুল ইসলাম: গত বছরে আমাদের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন এবং নতুন আমানত এসেছে। আমাদের মূল কাজ ছিল বর্তমান আমানত ধরে রাখা। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি আমানত বিভিন্ন কারণে চলে গিয়েছিল। যা এখন আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে। 

সমকাল: ব্যাংকটিকে আগের অবস্থায় নিতে আর কী করছেন?

রিয়াজুল ইসলাম: এ মুহূর্তে পরিচালন খরচ কমানোর চেষ্টা করছি। অন্তত ২০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য আছে। বড় শাখাগুলোর আয়তন কমিয়েছি। যেমন– তিন হাজার বর্গফুটের শাখাগুলোকে দেড় হাজার বর্গফুটে নিয়ে আসছি। এতে বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকা খরচ কমবে।

সমকাল: ঋণের ঝুঁকি কমাতে এবং ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

রিয়াজুল ইসলাম: আমরা ঋণ বৈচিত্র্যকরণের দিকে যাচ্ছি। বড় করপোরেট ঋণ কমিয়ে এসএমই, এমএসএমই এবং রিটেইল লোনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। এ ছাড়া আমরা সম্পূর্ণ এআইভিত্তিক একটি ‘লোন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালু করতে যাচ্ছি। এটি হলে ঋণের ঝুঁকি মূল্যায়নে মানুষের হস্তক্ষেপ থাকবে না। ফলে জালিয়াতি বা এনপিএল হওয়ার সুযোগ কমে যাবে।

সমকাল: বিদেশে থাকা সম্পদ বা খেলাপি ঋণ উদ্ধারে কী করছেন?

রিয়াজুল ইসলাম: আমরা চার-পাঁচটি বিশেষজ্ঞ কোম্পানির সঙ্গে অর্থ আদায়ে কাজ করছি। এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। অনেক গ্রাহক যখন দেখছেন নিউইয়র্ক বা লন্ডনে তাদের সম্পদের ওপর হাত পড়ছে, তখন তারা নিজেরাই নানা উপায়ে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাচ্ছেন।

সমকাল: কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী ধরনের সহায়তা দিচ্ছে?

রিয়াজুল ইসলাম: বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের যথেষ্ট সহায়তা করছে। যথেষ্ট ‘লিকুইডিটি সাপোর্ট’ দিয়েছে। সবশেষ রোজার ঈদের আগে আমরা প্রায় এক হাজার কোটি টাকার সহায়তা পেয়েছিলাম। বর্তমানে পরিস্থিতি উন্নত হচ্ছে।  নতুন অ্যাকাউন্ট খুলছে। আশা করছি, ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ‘সাপোর্ট’ এর প্রয়োজন হবে না।

সমকাল: মূলধন ঘাটতি মেটাতে আপনাদের ভবিষ্যৎ কৌশল কী?

রিয়াজুল ইসলাম: মূলধন ঘাটতি মেটাতে কৌশলগত বিনিয়োগকারী আনা বা শেয়ারের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের পরিকল্পনা আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০০টি উপশাখা খোলার অনুমতি চেয়েছি। উপশাখাগুলোর মাধ্যমে কম খরচে বেশি আমানত সংগ্রহ করা সম্ভব, যা আমাদের তারল্য সমস্যার স্থায়ী সমাধান দেবে।

সমকাল: সবশেষে গ্রাহক এবং অংশীজেনর  উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?

রিয়াজুল ইসলাম: আমাদের সব গ্রাহক ও অংশীজন আস্থা রেখেছেন বলেই আমরা টিকে আছি। আমি মনে করি, আমাদের খারাপ সময়টা পার হয়ে গেছে। ২০২৪-২৫ সাল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রাখুন, আমরা সামনের দিকে ভালো করব, ইনশাআল্লাহ। 

আরও পড়ুন

×