এমন বাজেট দেওয়া ঠিক হবে না যাতে মূল্যস্ফীতি বাড়ে, মানুষ কষ্টে পড়ে
ডিসিসিআই-সমকাল-চ্যানেল ২৪ প্রাক-বাজেট আলোচনায় বক্তারা
ডিসিসিআই, দৈনিক সমকাল ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের যৌথ আয়োজনে প্রাক-বাজেট আলোচনা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪:০০ | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪:০৪
বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার জন্য ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ কমাতে হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এমন বাজেট প্রণয়ন করা ঠিক হবে না যাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়, সাধারণ মানুষ কষ্টে পড়ে। আজ সোমবার ডিসিসিআই সমকাল ও চ্যানেল ২৪- আয়োজিত বাজেট আলোচনায় আর্থিক খাত সম্পর্কিত সেশনে বক্তারা এ কথা বলেন। ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এ আলোচনায় প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মোট চারটি সেশনে অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ কম নেওয়ার পরামর্শ
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আক্তার হোসেন বলেন, ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ যত কম হবে তত ভালো। বর্তমান বাস্তবতায় সরকারকে পপুলিস্ট বাজেট না দিয়ে সংকোচনমূলক বাজেট করতে হবে। সতর্কতার সাথে বাজেট দিতে হবে। এমন বাজেট প্রণয়ন করা ঠিক হবে না যাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়, সাধারণ মানুষ কষ্টে পড়ে।
উচ্চ খেলাপি ঋণ একটা বড় সমস্যা
ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহীর বলেন, ব্যাংক খাতের উচ্চ খেলাপি ঋণ একটা বড় সমস্যা। পাশের দেশ ভারতে আড়াই শতাংশ, পাকিস্তানের খেলাপির হার ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ৩০ শতাংশের ওপরে। সামগ্রিক ব্যাংক খাতে এখন ৩ শতাংশের মতো মূলধন ঘাটতি রয়েছে। মন্দ ঋণ কমানোর একটা ফ্রেমওয়ার্ক করতে হবে। ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণের ওপর জোর দিতে হবে। তা না হলে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট লাইন কমিয়ে দিচ্ছে, পুরো ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর যার প্রভাব পড়ছে।
তিনি বলেন, আমরা স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করি। সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ কম নিতে হবে। কর আদায় ব্যবস্থাপনা ডিজিটাইজেশন করতে হবে। স্বচ্ছতা বাড়াতে পুরো লেনদেন ব্যবস্থাপনাকে ক্যাশলেস করতে হবে।

পুঁজিবাজার থেকে অর্থায়নে জোর
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থায়নের ওপর জোর দিতে হবে। সরকারের লাভজনক প্রতিষ্ঠান ও বড় প্রকল্পের অর্থায়ন পুঁজিবাজার থেকে নিতে হবে। পুঁজিবাজার থেকে অর্থ নিয়ে সরকারের পতিত জমিতে কীভাবে আবাসন করা যায় ভাবতে হবে। এসএমই প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে আনার ওপর জোর দিতে হবে। সরকারের স্বচ্ছতার জন্য সব মন্ত্রণালয়, প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
করহার ২৫-৩০ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে
সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, ব্যাংকের ওপর সব দিক থেকে নজরদারি বেশি। ব্যাংক শুধু তার লভ্যাংশের ওপর কর দেয় তেমন না। তার মানবসম্পদ, বিভিন্ন ধরনের লেনদেনসহ বিভিন্নভাবে কর দেয়। বর্তমানের করহার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে। এর মাধ্যমে ব্যাংক খাতের মূলধন বাড়ানোর সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, ব্যবসা শুরু করা যেমন সহজ করা উচিত, একই সাথে ব্যবসা পরিচালনা, কোনো কারণে বন্ধ হলে পুনরায় চালু করাও সহজ করতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মোট লেনদেনের মাত্র ৩০ শতাংশ হচ্ছে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে। বাকি ৭০ শতাংশ নগদ বা ম্যাট্রেস মানি। এটা কমাতে হবে। স্বচ্ছতার জন্য আমাদের লেনদেন ডিজিটাইজ করতে হবে। অথচ ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনে কর, ভ্যাট আরোপ করা হয়।
হোসেন খালেদ বলেন, শতভাগ অনলাইনে কর পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যবসায়ী ও কর আদায় কর্মকর্তার মধ্যে যোগাযোগ যত কম হবে তত ভালো। অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগে আনতে না পারলে এসব অর্থ বিদেশে চলে যাবে।
- বিষয় :
- মূল্যস্ফীতি
- প্রাক-বাজেট আলোচনা
- পুঁজিবাজার
- ব্যাংক
- ঋণ
