বাংলাদেশের চেয়ে ভিয়েতনামে এফডিআই ১৩ গুণ বেশি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:২০
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয়হীনতাকে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আঙ্কটাড)। এ রকম বেশ কিছু কারণে সমপর্যায়ের অন্য দেশগুলোর তুলনায় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতি বাস্তবায়ন পর্যালোচনাবিষয়ক আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিনিয়োগ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। আঙ্কটাডের ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ বিভাগের লিগ্যাল অফিসার কিয়োশি আদাচি প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
২০২৪ সালের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশেও এফডিআই বাংলাদেশের চেয়ে কয়েক গুণ। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তুলনায় ভিয়েতনামের এফডিআই স্টক বা ওই বছর পর্যন্ত দেশে থাকা মোট সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ১৩ গুণ, ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ১৭ গুণ ও কম্বোডিয়ার প্রায় তিন গুণ। বাংলাদেশে এফডিআই স্টক কম হওয়ার কারণ হলো এফডিআইয়ের প্রবাহও কম। নানা কারণে বাংলাদেশ এ অঞ্চলের দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বেশ কিছু খাতে দুর্বলতা থাকলেও বিগত দিনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতির সংস্কারের অনেক সুপারিশই আংশিকভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। যেসব সুপারিশ বাস্তবায়ন বাকি রয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশে এফডিআই এসেছিল ১৮০ কোটি ডলারের বেশি। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে যায়। কভিড-১৯ মহামারির শুরুর সময়ের তুলনায়ও এফডিআইয়ের প্রবাহ কম হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতিও বাংলাদেশে এফডিআইয়ের নিম্ন প্রবাহের কারণ। তবে এ বছর এফডিআই বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় ও আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের মাধ্যমে এফডিআইয়ের প্রবাহ আবার বাড়তে শুরু করেছে।
আঙ্কটাডের পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিনিয়োগ পরিবেশ আরও অনুকূল করা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে আরও সমন্বিত ও কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া দরকার। পাশাপাশি বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংস্কার চলমান রাখা, পুরোনো বিনিয়োগ আইনে সংশোধনের মাধ্যমে ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়ন হালনাগাদ করা ও একটি সমন্বিত জাতীয় বিনিয়োগ নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংলাপে বক্তব্য দেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দয়ারত্নে, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম. মাসরুর রিয়াজ, বিল্ডের সিইও ফেরদৌস আরা বেগম, বিডার সাবেক মহাপরিচালক মো. আরিফুল, র্যাংগস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহানা রউফ চৌধুরী প্রমুখ।
- বিষয় :
- এফডিআই
