বাড়তি করের কারণে আবাসনে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৭:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
আবাসন খাতে নতুন কর আরোপ এবং রডসহ বিভিন্ন নির্মাণ পণ্যে কর বাড়ানোর কারণে ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে যেতে পারে। এতে এ খাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে। তাই বাজেট পাস হওয়ার আগে এ খাতে আরোপ করা বাড়তি করহার প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রিহ্যাবের প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল। সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সহসভাপতি আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ, ড. মো. হারুন অর রশিদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রিহ্যাব নেতারা বলছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নির্ধারিত কর পরিশোধের মাধ্যমে জমি, ফ্ল্যাট ও ভবন কেনাবেচায় অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক। এতে অর্থনীতির বাইরে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ পেলে তা বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তবে প্রস্তাবিত বাজেটে জমির মালিকদের অংশ হিসেবে পাওয়া ফ্ল্যাটের ওপর ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স আরোপ এবং নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি উপেক্ষা করায় আবাসন বাজারে বিদ্যমান স্থবিরতা আরও গভীর হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন রিহ্যাব নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে ড. আলী আফজাল বলেন, আবাসন খাত বর্তমানে উচ্চ নির্মাণ ব্যয়, অর্থায়ন সংকট, ক্রেতা সংকট এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ অবস্থায় নতুন কর আরোপ এ খাতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
তাঁর মতে, প্রস্তাবিত বাজেট অনুসারে যৌথ উন্নয়নভিত্তিক আবাসন প্রকল্পে জমির মালিকদের অংশ হিসেবে প্রাপ্ত ফ্ল্যাটের ওপর নতুন করে ১৫ শতাংশ কর আরোপ করা হলে অনেক জমির মালিক ও ডেভেলপার নতুন প্রকল্পে আগ্রহ হারাতে পারেন।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, একটি আবাসন প্রকল্পে জমির মালিক যে ফ্ল্যাট পান, তার বাজারমূল্যের ওপর কর আরোপের ফলে উল্লেখযোগ্য আর্থিক দায় তৈরি হবে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে যুক্ত হয়ে ফ্ল্যাটের দাম বাড়ার কারণ হতে পারে।
রিহ্যাবের নেতারা বলেন, আবাসন খাত শুধু নির্মাণ ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি রড, সিমেন্ট, কাঁচ, সিরামিক, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, পরিবহন, ব্যাংকিংসহ শতাধিক শিল্প ও সেবা খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ খাতে বিনিয়োগ কমে গেলে অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে তার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তারা।
- বিষয় :
- রিহ্যাব
