ঘোড়াশালে কারখানা উদ্বোধন
সব ধরনের এক্সেসরিজ তৈরি হবে হা-মীম গ্রুপের কারখানায়
কর্মসংস্থান হবে ১৫ হাজার মানুষের
গতকাল সােমবার নরসিংদীর ঘোড়াশালে হা-মীম চিং থাই পকেটিং অ্যান্ড এক্সেসরিজ কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ, ইনডিটেক্সের কান্ট্রি ম্যানেজার হাভিয়ের সান্তোজা ওলমেডোসহ অন্যরা - সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে লিড টাইম। ব্র্যান্ড-ক্রেতাদের কাছ থেকে রপ্তানি আদেশ পাওয়ার পর দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহ কিংবা বিদেশ থেকে কাঁচামাল এনে পণ্য উৎপাদন করে তাদের শোর রুমে পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত অনেক সময় লাগে। পোশাক উৎপাদনে প্রধান কাঁচামাল ফেব্রিক্স তুলনামূলক সহজলভ্য হলেও সব এক্সেসরিজ এখনও সহজলভ্য নয়। ছোট একটি এক্সেসরিজের জন্য লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে ছোট প্রয়োজনেও লিড টাইমও বেড়ে যায়। এ সংকট কাটাতে তৈরি পোশাক খাতের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হা-মীম গ্রুপ সব ধরনের এক্সেসরিজ নিজেরাই উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে।
গতকাল সোমবার নরসিংদীর ঘোড়াশালে ‘হা-মীম চিং থাই পকেটিং অ্যান্ড এক্সেসরিজ’ নামে নতুন এক্সেসরিজ কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ। এ সময় কয়েকটি ব্র্যান্ড-ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নতুন কারখানায় অন্তত ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
অনুষ্ঠানে এ. কে. আজাদ বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চীন থেকে এক্সেসরিজ এনে পোশাক উৎপাদন করতে হয়। এতে লিড টাইম বেড়ে যায়। এ সংকট কাটাতে চিং থাইয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চীনা প্রযুক্তি এবং অত্যাধুনিক মেশিনে এক্সেসরিজ উৎপাদনের কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। এখানকার এক্সেসরিজ হা-মীম গ্রুপের বিভিন্ন কারখানার চাহিদামতো সরবরাহ করার পাশাপাশি রপ্তানিও করা হবে। ফলে একদিকে যেমন লিড টাইম কমিয়ে আনার বড় সুবিধা পাওয়া যাবে, অন্যদিকে আমদানি বাবদ ডলার ব্যয় হবে না এবং এক্সেসরিজ রপ্তানি থেকে ডলার আসবে দেশে।
তিনি জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসহ অন্যান্য অবকাঠামো সুবিধা পাওয়া গেলে তৈরি পোশাকের কাঁচামাল উৎপাদন থেকে চূড়ান্ত পণ্য পর্যন্ত সব ধরনের পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে হা-মীম গ্রুপের। তিনি বলেন, ‘আমার কাজই হচ্ছে বন্ধ কারখানা সচল করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এক সময় বন্ধ থাকা টঙ্গীর নিশাত জুট মিল এবং কালীগঞ্জ মসলিন কটন মিলস হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনে ফিরেছে।’
বাংলাদেশের পোশাকের দ্বিতীয় প্রধান আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান স্পেনভিত্তিক ইনডিটেক্সের কান্ট্রি ম্যানেজার হাভিয়ের সান্তোজা ওলমেদো বলেন, হা-মীমের এ উদ্যোগ থেকে সব পক্ষ উপকৃত হবে। স্থানীয়ভাবে মানসম্পন্ন এক্সেসরিজ উৎপাদন ও সরবরাহ করার ফলে লিড টাইমের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হবে। ব্র্যান্ড-ক্রেতারা রপ্তানি আদেশ দিতে এখন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। এ দেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়বে। অন্যান্য ক্রেতা প্রতিনিধিরা এ ধরনের উদ্যোগের আরও সম্প্রসারণের পরামর্শ দেন।
জানা গেছে, নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে ৫২ একর জায়গাজুড়ে ‘ফৌজিয়া চটকল’ নামে ব্যক্তি খাতের একটি পাটকল পাটের ব্যাগ উৎপাদন করত। লোকসানে পড়ে দীর্ঘ দিন যা বন্ধ ছিল। ২০১৪ সালে হা-মীম গ্রুপ কারখানাটি কিনে নেয়। পুরোনো শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ সব পাওনা পরিশোধ করে হা-মীম গ্রুপ। প্রাথমিকভাবে ৬ একর জায়গায় নতুন কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছে। এতে চীনা চিন থাইয়ের ২৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। প্রতি মাসে উৎপাদন হবে ৬ থেকে ৭ লাখ গজ কাপড়। পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদনে আসলে উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ২০ লাখ গজ। বিনিয়োগের পরিমাণ শুরুতে ১০০ কোটি টাকা। পর্যায়ক্রমে সব ধরনের এক্সেসরিজ উৎপাদন করা হবে। কয়েকজন পুরোনো শ্রমিক সমকালকে জানান, কারখানাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রধান সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, হা-মীম টেক্সটাইল জোনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মুহাম্মদ আমিন, হা-মীম গ্রুপের এক্সেসরিজ বিভাগের প্রধান এ কে এম মাহফুজুল হক, গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক নিতীশ চন্দ্র শিকদার প্রমুখ।
- বিষয় :
- উদ্বোধন
