ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

আজ নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

নীতি সুদহার কমাবে না বাংলাদেশ ব্যাংক

নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে

নীতি সুদহার কমাবে না বাংলাদেশ ব্যাংক
×

বাংলাদেশ ব্যাংক

ওবায়দুল্লাহ রনি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৬ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ | ০৮:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

বৈশ্বিক পরিস্থিতিসহ নানা কারণে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ঋণ চাহিদা নেমেছে তলানিতে। এ রকম অবস্থার মধ্যে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন। বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের  প্রথম মুদ্রানীতি এটি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মাঝে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছিল। এর মধ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। যে কারণে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে গত মে মাসে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে উঠেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর যা সর্বোচ্চ। মূল্যস্ফীতি শিগগিরই কমার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। যে কারণে প্রধান নীতি সুদহার রেপো রেট ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবার ব্যাংকগুলোর বিধিবদ্ধ জমা সংরক্ষণেও কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

গত ফেব্রুয়ারিতে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছিলেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে না আসা পর্যন্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির ধারা বজায় থাকবে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম সরকার গঠনের প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করা। এ লক্ষ্যে সরকার গঠনের শুরুর দিকে সুদহার কমানোসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলা হয়। নতুন গভর্নর যোগদানের পর নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়। সুদহার কমানোর যুক্তি হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ এক বৈঠকে গভর্নর  বলেন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়াতে সুদহার কমানো হবে। আর এ জন্য মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকও ডাকেন তিনি। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরু হলে সুদহার কমানোর উদ্যোগ থেকে ফিরে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে জুন নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ধরা হয় ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। যদিও গত এপ্রিল পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ যাবৎকালের মধ্যে যা সর্বনিম্ন। বর্তমানের এ প্রবৃদ্ধি প্রকৃত পক্ষে ঋণাত্মক। কেননা ঋণের সুদ যোগ হয়ে প্রবৃদ্ধির হিসাব হয়। বর্তমানে ঋণের গড় সুদহার রয়েছে ১১ শতাংশের ওপরে। এর আগে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ৭ দশমিক ২০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত হয় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। সরকারি খাতের ঋণ চাহিদা বিবেচনায় জুন পর্যন্ত ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ ধরা হয়। তবে গত এপ্রিল পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ২২ দশমিক ১৬ শতাংশ। মূলত সরকারের কাঙ্ক্ষিত আয় না থাকায় ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে গতকাল চলতি মুদ্রানীতির ওপর একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রধান নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অবশ্য শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর ভর করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে, বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কঠোর নীতি অনুসরণের কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। প্রভিশন বা মূলধন ঘাটতি থাকলে কোনো ব্যাংক আর লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

জানা গেছে, সুদহার সহনীয় রাখতে ঋণ আমানতের মধ্যকার সুদহারের ৪ শতাংশ নির্ধারণের বিষয়টি আজকের মুদ্রানীতিতে তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কম সুদে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা, বিভিন্ন নীতি সহায়তার কথা উল্লেখ করা হতে পারে। আর দীর্ঘ ৪৫ মাস পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ বিলিয়নের ঘর পেরোনো এবং ডলারের দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় স্থিতিশীল থাকার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য সফলতা হিসেবে বর্ণনা করা হবে। প্রবাসী আয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসীদের জন্য রূপান্তরযোগ্য টাকা অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ব্যাংক খাতের চলমান সংস্কার অব্যাহত রাখার বিষয়টি তুলে ধরা হবে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থার সঙ্গে চুক্তিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও জানানো হবে। 

আরও পড়ুন

×