ইউএসটিআরের শুনানিতে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাণিজ্যমন্ত্রী
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য বা কাঁচামাল আমদানির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরে (ইউএসটিআর) আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ইউএসটিআর কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় এ শুনানিতে আত্মপক্ষ সমর্থনে বাংলাদেশ সরকার কিংবা বেসরকারি খাতের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকছেন না। এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান চায় ঢাকা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, শুনানিতে অংশ নিতে সরকার বা বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে কোনো নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) বা লিখিত উপস্থাপন (সাবমিশন) করা হয়নি। তবে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য ইউএসটিআরের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সমকালকে বলেন, এ বিষয়ে ইউএসটিআরের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। তাদের যা যা তথ্য দেওয়া প্রয়োজন, তা দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশের অবস্থানও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের নিযুক্ত একটি গবেষক দল বাংলাদেশ সফর করে। তারা জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য বা কাঁচামাল বাংলাদেশ আমদানি করে কিনা, তা সরেজমিন যাচাই করেন। এর আগে একই ইস্যুতে ইউএসটিআরের সঙ্গে একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এসব আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত কোনো কাঁচামাল বা পণ্য বাংলাদেশ আমদানি করে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ অ্যাক্টের সেকশন ৩০৭-এর আওতায় উত্থাপিত অভিযোগ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশের এ অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে বাণিজ্য আইনের ৩০১ সেকশন অনুযায়ী গত জুনে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করে ইউএসটিআর। এ বিষয়ে মঙ্গলবার শুনানির আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার ও বেসরকারি খাত নিজেদের পক্ষে যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন দেশের সরকার সরাসরি শুনানিতে অংশ না নিয়ে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের পাঠাচ্ছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতও অংশ নিচ্ছে না। যদিও বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে লিখিত মতামত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তারা বুঝতে পেরেছেন, শুনানিতে অংশ নিলেও ফলাফলে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। ইউএসটিআর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের পরিবর্তে অন্য ইস্যুতে বাড়তি শুল্ক আরোপের দিকে এগোচ্ছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তির পর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্কহার ১৯ শতাংশে নেমে আসে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাড়তি শুল্ক আরোপ ব্যবস্থা বাতিল করার পর ওয়াশিংটন ভিন্ন আইনি কাঠামোর আওতায় ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে এবং একই সঙ্গে বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১ অনুযায়ী তদন্ত চালিয়ে যায়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, ২০১৮ সালে নকল পণ্য রপ্তানির অভিযোগে বাংলাদেশকে তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তখন বাংলাদেশ শুনানিতে অংশ নিয়ে অবস্থান তুলে ধরে। পরে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি আর এগিয়ে নেয়নি। তদন্ত পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা সব সময় আলোচনাকারী দলের সুপারিশ অনুসরণ করেন না। তাই শুনানিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা কৌশলগতভাবে আরও কার্যকর হতে পারত।
- বিষয় :
- খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির