বাংলা কিউআর জনপ্রিয় করতে চার্জ তুলে দিতে হবে: ড. আহসান এইচ মনসুর
বনানীতে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিআরআই আয়োজিত এক কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বক্তব্য রাখেন। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৪২ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
অ্যাপভিত্তিক লেনদেন নিষ্পত্তির প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলা কিউআর’ পরিশোধ ব্যবস্থায় মার্চেন্ট থেকে ১ শতাংশ চার্জ তুলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত এক কর্মশালার সমাপনীতে তিনি এ পরামর্শ দেন। গেটস ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ‘বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক তাৎক্ষণিক পরিশোধ পদ্ধতির বিশ্লেষণ এবং একটি ব্যবহারিক ক্ষেত্র হিসেবে আন্তঃসীমান্ত রেমিট্যান্স’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, প্রবাসী আয়ের বিপরীতে প্রণোদনা দিতে এখন বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার মতো খরচ হয়। সেখান থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা ডিজিটাল লেনদেনের চার্জের ভর্তুকিতে ব্যয় করে জনপ্রিয় করা যায়। বর্তমানে নগদ লেনদেন ব্যবস্থাপনায় বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। এই ব্যয় প্রতি বছর বাড়ছে, যা কমাতে ডিজিটাল লেনদেনের খরচ কমানো অপরিহার্য।
তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক আর্থিক চ্যানেলের ব্যবহার বাড়াতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা জরুরি। এ ছাড়া প্রবাসীদের বিনিয়োগে বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে বিনিয়োগ হিসেবে আরও ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার দেশে আনা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক তাৎক্ষণিক পরিশোধ ব্যবস্থা ডিজিটাল পেমেন্টের খরচ কমাতে ও ইকোসিস্টেমের দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে। চার্জ আরোপের কারণে বাংলা কিউআরে এখন হাজারে ১০ টাকা বেশি দিতে হয়। এই চার্জ কমানো উচিত।
পিআরআইর চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার ও পরিচালক ড. এম এ রাজ্জাক। তারা বলেন, বর্তমানে কী পরিমাণ প্রবাসী আয় অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে আসে তা নিয়ে একটি সমীক্ষা করবে পিআরআই। কেন প্রবাসীরা অন্য মাধ্যমে টাকা পাঠান সমীক্ষায় তা তুলে আনা হবে। প্রধান গন্তব্য ছয়টি দেশের তথ্যের ভিত্তিতে এ সমীক্ষা করা হবে। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ জাহিদ ইকবাল এবং বিকাশের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ শেখ ইবনে জিলানী।
ড. জাইদি সাত্তার বলেন, বর্তমানে রেমিট্যান্স দেশের জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশের সমান। এই অর্থপ্রবাহকে ভোগব্যয় থেকে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে প্রবাহিত করতে নীতিগত পদক্ষেপ নিতে হবে।
- বিষয় :
- বাংলা কিউআর
- ড. আহসান এইচ মনসুর