বাংলা কিউআরের ক্ষুদ্র মার্চেন্টের চার্জে ভর্তুকি দিতে একশ কোটি টাকার তহবিল
ছবি-সংগৃহীত
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ | ২২:৫৪
অ্যাপভিত্তিক লেনদেন নিষ্পত্তির অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম বাংলা কিউআরে পরিশোধে মার্চেন্ট থেকে ১ শতাংশ চার্জ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নগদবিহীন লেনদেন জনপ্রিয় করার উদ্যোগের মধ্যে বাড়তি এই খরচ আরোপ করায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে এ প্রক্রিয়া। এ অবস্থায় ক্ষুদ্র মার্চেন্টের চার্জে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ তহবিলের গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
পর্ষদ সভায় নতুন তহবিল গঠন ছাড়াও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের নিজের ও পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য ১০ লাখ টাকা তোলার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া পাঁচ ব্যাংক মিলে গঠিত সম্মিলিত ব্যাংক থেকে ধাপে ধাপে সব প্রশাসক তুলে আনার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।
শুরুতে এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকেও প্রশাসক প্রত্যাহার করা হবে।
জানা গেছে, ক্ষুদ্র মার্চেন্টদের কোন উপায়ে, কোন পর্যায়ে ভর্তুকি দেওয়া হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। কোন ধরনের মার্চেন্ট চার্জের এক শতাংশ ভর্তুকি পাবেন শিগগিরই সে বিষয়ে একটি নীতিমালা জারি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নীতিমালা করার জন্য বাংলা কিউআরের সাম্প্রতিক লেনদেন পর্যালোচনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফুটপাথ বা ভ্যানের বিক্রেতাদের মতো ক্ষুদ্র পর্যায়ের মার্চেন্টকে এ ব্যবস্থায় আনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য। অবশ্য মার্চেন্ট পয়েন্টে পরিশোধ ছাড়া কোনো ধরনের ক্যাশ আউট করা যাবে না। কেউ সেটা করলে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের বাংলা কিউআর বাতিল হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালে বাংলা কিউআর ব্যবস্থা প্রবর্তন করে। দেশজুড়ে ইন্টারঅ্যাপারেবল, নিরাপদ, ব্যয় সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১ জুলাই থেকে সব ব্যাংকের অ্যাপভিত্তিক লেনদেন নিষ্পত্তিতে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করেছে। এ ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে ৩৭টি ব্যাংক। ব্যাংক, এমএফএসসহ লেনদেন নিষ্পত্তিতে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সারা দেশে প্রায় ২৩ লাখ কিউআর দিয়েছে, যেখানে দ্রুত বাড়ছে লেনদেন। কোনো ব্যাংক বা এমএফএস যথাযথ নিয়মে বাংলা কিউআর প্রতিস্থাপন না করলে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা বিবেচনায় করে ন্যূনতম ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জ আরোপ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেননা এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের মূল উৎস ক্যাশ আউট ও বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ। ব্যাংকগুলোর কাছে টাকা জমা হলেই সে ঋণ দিয়ে আয় করতে পারে। আর এরকম জমা হওয়া অর্থ ব্যাংকের ‘নো কস্ট ডিপোজিট’ হিসেবে বিবেচিত। ফলে ব্যাংক খরচ না নিয়ে উল্টো বিভিন্ন অফার দিলেও তার লাভ। এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা বিবেচনায় ন্যূনতম ১ শতাংশ চার্জ আরোপ করে একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অবশ্য কোনো ব্যাংক চাইলে অন্যভাবে অফার দিতে পারবে।
এদিকে বুধবার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা এখন থেকে নিজ প্রয়োজনের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। এতোদিন শুধু আমানতকারীর ক্যান্সার, কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো চিকিৎসার জন্য টাকা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত তোলা যেত। এখন থেকে নিজের পাশাপাশি মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন ও স্বামী-স্ত্রীর চিকিৎসাসহ অন্য জরুরি প্রয়োজনে এ অর্থ তোলা যাবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ঘোষিত স্কিমে কিছু সংশোধন এনে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। সংশোধিত স্কিমে চিকিৎসার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের অনেক সময় চিকিৎসার বাইরেও জরুরি প্রয়োজনে অর্থের প্রয়োজন হয়। আগের স্কিমে এ ধরনের জরুরি প্রয়োজনে অর্থ তোলার সুযোগ ছিল না। সংশোধিত স্কিমে সেই সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হবে।
- বিষয় :
- বাংলা কিউআর