ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উদার মার্জিন বিধিমালার পরও ষষ্ঠ দিনে দর পতন

উদার মার্জিন বিধিমালার পরও ষষ্ঠ দিনে দর পতন
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

শেয়ারবাজারের পতন ঠেকাতে অনেকটা তাড়াহুড়া করে গত সোমবার রাতে মার্জিন বিধিমালা সংশোধনের গেজেট আকারে প্রকাশ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। রাতেই তা বাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রচার করা হয়। তারপরও পতন ঠেকানো যায়নি। দর পতন টানা ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে লেনদেন শেষ হয় ৬৫ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে আড়াইশ শেয়ারের দর পতনের মধ্য দিয়ে। যদিও মার্জিন ঋণের উদার নীতি দেখে লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় সোয়া তিনশ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিপরীতে ২৫টির দর কমেছিল।

গতকাল লেনদেনের প্রথম পৌনে দুই ঘণ্টায় সিংহভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে ভর করে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৫৮ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে ৫৮৭২ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল। তবে শেষ সোয়া দুই ঘণ্টায় ক্রমাগত দর পতনে ওই সূচকই দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ১০৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৭৬৬ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমেছিল। তবে সমাপনী মূল্যের হিসাবে সূচকের পতন হয়েছে ৪১ পয়েন্টের কম। আগের পাঁচ দিনে ডিএসইএক্স সূচক ৮৯ পয়েন্ট হারিয়েছিল। গতকালের পতনসহ তা বেড়ে প্রায় ১৩০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।

শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট নানা সূত্র থেকে জানা গেছে, লেনদেনের শুরুতে দর বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে বড় বিনিয়োগকারীদের অনেকে শেয়ার বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে ‘জুয়াড়ি’ বলে পরিচিতরাও আছেন।
গতকালের দর পতনের কারণ জানতে চাইলে একাধিক শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘একক কোনো কারণ নয়। অনেকগুলো কারণে দর পতন হয়েছে। সোমবার মার্জিন বিধিমালার যে গেজেট দেখলাম, তা ছিল প্রত্যাশার বাইরে। এতটা উদার নীতি বাজারও আশা করেনি। তা সত্ত্বেও যখন দর পতন হয়েছে, এটা নেপথ্যে অন্য অনেক কারণ আছে।’ 
কারণ হিসেবে নানা অনিয়ম ও কারসাজি বন্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জের কড়াকড়ি, বড় বিনিয়োগকারীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং বাজারের প্রভাবশালী মহলের ‘চ্যালেঞ্জ’ ছুড়ে দেওয়ার মানসিকতাকে দায়ী করছেন শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের সিইও বলেন, গত কিছুদিন ধরে বাজারে গুঞ্জন আছে, বড় জুয়াড়িদের ধরতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জ। কিছু ব্রোকারেজ হাউসে সারপ্রাইজ ভিজিটে যাচ্ছে, ব্রোকারেজ হাউস বন্ধ করে দিচ্ছে। ব্রোকারেজ হাউসের বড় কর্মকর্তাদেরও দায়ী করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেকের মধ্যে এক ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কারসাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে–এমন খবরে গতকাল বড় দর পতন হয়েছে বলে কেউ কেউ বলাবলি করছে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এমন পদক্ষেপে ভীত হওয়ার কারণ কী– এমন প্রশ্নে শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের সিইও বলেন, ‘প্রথমত, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ নিজের সিদ্ধান্তে নয়, জুয়াড়ি চক্রকে অনুসরণ করে শেয়ার কেনাবেচা করেন। আবার বাজারের আচরণ ঠিক হয় জুয়াড়িদের শেয়ার কেনাবেচায়। এরা বিক্রি করলে শেয়ারের পতন হয়, বিনিয়োগকারীরাও আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে। এভাবে দর পতন ত্বরান্বিত হয়।

একই প্রশ্নের জবাবে অন্য এক বড় ব্রোকারেজ হাউসের সিইও বলেন, কখনও কখনও জুয়াড়িচক্র দর পতন ঘটিয়ে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে উল্টো চাপে ফেলতে বা চ্যালেঞ্জ করতে চায়। এমন উদাহরণ এ বাজারে অনেক আছে। 
গত কিছু দিনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা শুনেছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বড় কয়েকজন বিনিয়োগকারীকে তলব করেছে। এ ছাড়া ফৌজদারি মামলার গুঞ্জন এবং ব্রোকার কমিউনিটিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে ফোন করে জবাবদিহি চাওয়ার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করেছে। 
শীর্ষ অপর এক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজারকে একটি স্বচ্ছ ও স্বাভাবিক নিয়মে ফেরাতে চাইছে। তবে যারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে বা করতে চায়, তারা এই পরিবর্তনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। তারা হয়তো দেখতে চাচ্ছে তাদের তথাকথিত ‘সাপোর্ট’ ছাড়া বাজার কতদিন টিকে থাকে। 
উদার মার্জিন বিধিমালা
সংশোধিত বিধিমালায় জীবন বীমা ছাড়া অন্য সব কোম্পানির ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণ যোগ্যতা আগের ৩০ পিই রেশিও থেকে বাড়িয়ে ৪০ করা হয়েছে। ফলে সোমবারের তুলনায় মার্জিনযোগ্য শেয়ার ১৮টি বেড়ে ১৩৮টিতে উন্নীত হয়েছে। 
এ ছাড়া এর আগে মার্জিন যোগ্যতা নির্ধারণে কোম্পানির ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা, খাতের পিই ২০ থাকা, কোম্পানির টিকে থাকা নিয়ে সন্দেহ– এমন সব শর্ত তুলে দেওয়া হয়েছে। উপরন্তু আগে ঋণগ্রহীতার মূলধন ৭০ শতাংশে নামলে ফোর্স সেল করার শর্ত শিথিল করে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×