ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য

২০৩০ সালের মধ্যে এক  কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য
×

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করাসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো (জুলাই ২০২৬-জুন২০৩১) উন্মোচন করেছে সরকার। গতকাল বুধবার পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রণীত মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল বুধবার রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সরকারের বর্তমান মেয়াদে গতকালই প্রথম এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। 

একনেক বৈঠক শেষে সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো ও একনেকে অনুমোদন হওয়া বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী। তিনি জানান, সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো প্রণয়ন করা ছিল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার। এই কৌশলের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ক্লাস্টারভিত্তিক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪১টি মন্ত্রণালয় তাদের পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। সব মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। এ ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশনের অবকাঠামো বিভাগের সদস্যের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। এর ফলে নির্দিষ্ট বাজেট এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। 

সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। জিইডি সদস্য ড. মনজুর হোসেন ব্রিফিংয়ে বলেন, কৌশলগত কাঠামোর পাশাপাশি এটি একটি গতিশীল হিসেবে কাজ করবে। এর সঠিক বাস্তবায়ন ও সময়োপযোগী নীতি সংস্কার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে প্রতি বছর এটি কঠোরভাবে পর্যালোচনা করা হবে। গতিশীল দলিল এবং বাস্তবায়নে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নথিটির দ্বিতীয় খণ্ড স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন ম্যাট্রিক্সে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন এই উন্নয়ন ব্লু-প্রিন্টে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারে উন্নীত করার দ্বৈত রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মূল বৈশিষ্ট্য ও সংস্কার দলিলটিকে মোট পাঁচটি প্রধান স্তম্ভ ও ১১টি অর্থনৈতিক ক্লাস্টারে ভাগ করা হয়েছে। পুরো নথিতে প্রায় ৩০টি অধ্যায় রয়েছে, যেখানে প্রতিটি অগ্রাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত দায়বদ্ধ মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

কৌশলপত্র অনুযায়ী প্রথম দুই বছর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই সময়ে সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক স্থিতিশীল করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট নিরসন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তৃতীয় বছর অর্থনীতির পুনর্বাসন ও রূপান্তর হবে। এই ধাপে ব্যাংক খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জোরদার, বাণিজ্য ও লজিস্টিক খাতের আধুনিকায়ন এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা হবে। 
চতুর্থ ও পঞ্চম বছর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও ত্বরান্বিত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। চূড়ান্ত ধাপে প্রযুক্তিভিত্তিক দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন, চরম দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের ওপর জোর দেবে সরকার।
এতে বলা হয়, বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ৩০ শতাংশে উন্নীত করলে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ কর্মসংস্থান বাড়বে। বার্ষিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির দ্বিগুণ করার মাধ্যমে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব। স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন ম্যাট্রিক্সে সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫ বছরে বাস্তবায়নের জন্য তাদের অঙ্গীকারকৃত কার্যক্রম যুক্ত রয়েছে। এটি মন্ত্রণালয়গুলোকে তাদের নিজ নিজ প্রতিশ্রুতিগুলোর স্ব-মূল্যায়ন করার সুযোগ দেবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে মিল রেখে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×