ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানতের তুলনায় ঋণ বাড়ছে দ্রুত

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানতের তুলনায় ঋণ বাড়ছে দ্রুত
×

ওবায়দুল্লাহ রনি 

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংকগুলোর এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহের চেয়ে এখন ঋণ বিতরণ দ্রুত বাড়ছে। এর বড় কারণ হলো, গ্রামীণ এলাকায় অনেক ব্যাংক এনজিও সংযোগের পরিবর্তে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি কৃষি, কুটির ও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করছে। গত জুন পর্যন্ত এক বছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ঋণ প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে যেখানে আমানত ১৪ শতাংশ বেড়ে ৫২ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিং থেকে ঋণ বিতরণে সবার ওপরে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। আর আমানত সংগ্রহে এগিয়ে আছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ।
বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী সমকালকে বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ দ্রুত বৃদ্ধির বিষয়টি গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য অনেক ভালো খবর। মূলত ব্যাংকগুলো এখন কৃষি এবং ক্ষুদ্র খাতের প্রণোদনার ঋণ এই মাধ্যমে বিতরণ করছে। আগামীতে দেখা যাবে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যে পরিমাণ আমানত সংগ্রহ হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ হচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূল অর্থনীতিতে যুক্ত করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও উচিত হবে এ ক্ষেত্রে সহায়তা করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩১টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন নিয়ে একটি ছাড়া বাকি সব ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করেছে। এসব ব্যাংকের ১৫ হাজার ৪২৪টি এজেন্ট রয়েছে। একই এজেন্ট একাধিক আউটলেটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। সে বিবেচনায় আউটলেট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৯৭-এ। গত বছর এজেন্ট মাত্র ৫১টি বেড়েছে। আর আউটলেট বেড়েছে ৪০টি।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকের হিসাব সংখ্যা এক বছরে ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৭২ লাখ ২৪ হাজার হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকার মানুষের খোলা অ্যাকাউন্ট ২ কোটি ৩০ লাখ ২৮ হাজার। মোট হিসাবের যা ৮৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। নারী হিসাব প্রায় অর্ধেক, যার সংখ্যা এক কোটি ৩৫ লাখ ৫৯ হাজার। অ্যাকাউন্টের মধ্যে শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের রয়েছে ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে মোট অ্যাকাউন্টের ৩০ দশমিক ৩১ শতাংশ রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ব্যাংক এশিয়ায় ২৮ দশমিক ৪৫, ইসলামী ব্যাংকে ২২ দশমিক ৯৯ শতাংশ, আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ব্র্যাক ব্যাংকে রয়েছে মোট অ্যাকাউন্টের ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেক এজেন্ট পালিয়ে গেছে। নানা অনিয়ম-জালিয়াতির কারণে কিছু এজেন্ট বাদ পড়েছে। আবার দেশের বেশির ভাগ এলাকায় এরই মধ্যে এজেন্ট প্রসারিত হয়েছে। এসব কারণে সাম্প্রতিক সময়ে এজেন্ট বাড়ছে কম। তবে ঋণ, আমানতসহ অন্য ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে।
ঋণ আমানতে শীর্ষে যারা

গত জুন পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এযাবৎকালের মধ্যে যা সর্বনিম্ন। তবে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ ৪০ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়েছে। ঋণ বিতরণ বাড়াতে এককভাবে সবচেয়ে ভূমিকা রাখছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক। গত এক বছরে শুধু এই ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ ১০ হাজার ১০০ কোটি টাকা বেড়ে জুন পর্যন্ত ৩০ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা হয়েছে। ব্যাংক খাতের মোট ঋণের যা ৭৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। 
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ বিতরণ করেছে সিটি ব্যাংক। পর্যায়ক্রমে ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মাধ্যমে ৪ দশমিক ৩৮ এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ হয়েছে ৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে মোট ঋণের ৯৬ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ বিতরণ করেছে এই পাঁচ ব্যাংক।
মোট আমানতের ৮২ দশমিক ৯৫ শতাংশ এসেছে শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের মাধ্যমে। সবচেয়ে বেশি আমানত সংগ্রহ করা ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। গত জুন পর্যন্ত এই ব্যাংকের মাধ্যমে আমানত এসেছে ২০ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। মোট আমানতের যা ৩৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। পর্যায়ক্রমে শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের তালিকায় থাকা ব্যাংক এশিয়ার ১৪ দশমিক ৬৯, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ৭ দশমিক ৯২ এবং ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ।

আরও পড়ুন

×