ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফের বড় দর পতন

ফের বড় দর পতন
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে গ্যাস সংকট গত কয়েক বছরের। তবে এখন তা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। দেশের বহু কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে গ্যাস সংকটে। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে আছে। এমন সময়ে দেশের শেয়ারবাজারে ব্যাপক দর পতন চলছে। সর্বশেষ ৯ কর্মদিবসের মধ্যে আট দিন দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সোমবারের দর পতন ছিল সবচেয়ে বড়। 
গতকাল সোমবার ঢাকার শেয়ারবাজার ডিএসইতে লেনদেনযোগ্য ৩৫২ কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে মাত্র ১২টির দর বেড়েছে। বিপরীতে দর হারিয়েছে ৩২৫টি। এর থেকে খারাপ পরিস্থিতি হয়েছিল সাড়ে পাঁচ মাস আগে গত ৮ মার্চ। ওই দিন মাত্র ১০ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৩৩৯টি দর হারিয়েছিল।

তবে সাড়ে পাঁচ মাস আগের ওই দর পতনের দিনে বাজারের প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ২৩১ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৪২ পয়েন্ট হারিয়েছিল। গতকালের দর পতনে সূচকটি হারিয়েছে ৭৮ পয়েন্ট। আগেরবারের দর পতনের কারণ ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের খবর। এখনকার দর পতনের কারণ জ্বালানি সংকট–এমনটা মনে করেন শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্টরা। 
জানতে চাইলে শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, দেশে গ্যাস সংকট নতুন কিছু নয়। তবে হঠাৎ সংকট বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমে যেভাবে এই সংকটকে উপস্থাপন করা হচ্ছে, বিশেষ করে ‘অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাবে, মানুষের চাকরি চলে যাবে’–এমন খবর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
শিগগিরই এ সংকটের সমাধান নেই–সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এমন মন্তব্য পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল করেছে মন্তব্য করে এই প্রধান নির্বাহী বলেন, যখন দেশের শীর্ষ জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায় যখন অর্থমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে খবর আসে, ‘চাইলেই কাল সকালে বিদ্যুৎ আর গ্যাস দিতে পারব না’, তখন সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। তখন তারা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি শুরু করেন। এখন এমনটাই হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের শেয়ারবাজার মূলত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীনির্ভর, প্রায় ৯০ শতাংশ লেনদেনই তাদের। এই ধরনের বাজারে কোনো ভীতি তৈরি হলে আতঙ্ক খুব দ্রুত বড় আকার ধারণ করে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রভাব বেশি থাকলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না। দেখা যাচ্ছে, দর পতনের এ সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যতটা শেয়ার বিক্রি করছে, তার থেকে বেশি কিনছে। ডিএসইর ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ হচ্ছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, অতীতেও অনেকবার এমন ‘প্যানিক’ দেখা গেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি মানিয়ে নেন, বাজারও ঘুরে দাঁড়ায়।
এই মতকে সমর্থন করেছেন অপর এক শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউসের সিইও। তিনিও মনে করেন, বিনিয়োগকারীদের এই আতঙ্ক সাময়িক। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, তখনও বাজারে বড় পতন হয়েছিল। তবে দুই দিন পরই পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যায়। তাঁর মতে, বাজারের মৌলিক ভিত্তি যদি ঠিক থাকে, তবে এই সাময়িক আতঙ্ক স্থায়ী হবে না।
গ্যাস সংকটের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশ কয়েকটি ইতিবাচক দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সম্প্রতি অনুমোদন হওয়া সহজ মার্জিন লোন সুবিধাটি সাধারণ বিনিয়োগকারীরা খুব পছন্দ করেছেন। তার আগে বাংলাদেশ ব্যাংক পলিসি রেট কমিয়েছে এবং ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার কমছে। ফলে সার্বিকভাবে সুদের হার কমে আসবে। সুদের হার কমলে বাজারে তারল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। তাছাড়া বর্তমানে ব্যাংকের কাছে উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। এর বাইরে লভ্যাংশের ওপর ১৫ শতাংশ অগ্রিম আয়করকে (এআইটি) চূড়ান্ত কর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। যারা ভালো শেয়ার কিনে ডিভিডেন্ড পেতে চান, তাদের জন্য এটি বিরাট সুযোগ। এ সবগুলোর ইতিবাচক প্রভাব বাজারে এক দিন আগে বা পরে আসবে।

গতকালের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, স্বাভাবিকভাবে গতকাল প্রতিটি খাতের সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে এবং বড় দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, প্রকৌশল, বস্ত্র, তথ্যপ্রযুক্তি, সেবা ও নির্মাণ, কাগজ ও ছাপাখানা এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের শেয়ারগুলোর গড় দর পতন হয়েছে ২ থেকে পৌনে ৩ শতাংশ। ব্যাংক খাতের দর পতন হয়েছে ১ শতাংশের বেশি।
ব্যাপক দর পতনে ডিএসইর লেনদেন ১০৯ কোটি টাকা কমে ৬০২ টাকারও নিচে নেমেছে। এর মধ্যে একক খাত হিসেবে বস্ত্র খাতেই ১৪৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়, যা মোট লেনদেনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

আরও পড়ুন

×