ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে নিরন্তর এগিয়ে যাচ্ছে আবুল খায়ের স্টীল

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে নিরন্তর এগিয়ে যাচ্ছে আবুল খায়ের স্টীল
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:১৫

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একেএস স্টীলের কারখানায় গেলে দেখা মিলবে বিশাল কর্মযজ্ঞের। লাল-তপ্ত বিলেট ছুটে চলেছে একের পর এক স্ট্যান্ড পেরিয়ে। চোখের পলকে সেটি রূপ নিচ্ছে নির্দিষ্ট মাপের রডে। সেকেন্ডের ভগ্নাংশকে পাল্লা দিয়ে। আর এই অবিশ্বাস্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দিয়ে একেএস নাম লিখিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে। 

এক মিনিটে সর্বাধিক স্টীল রিবার (রড) উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে একেএস। আরও উন্নত গুণগণ মান নিশ্চিত করে মিনিটে ৫২টি ১০৮ মিটার দৈর্ঘ্যের স্টীল রিবার উৎপাদন করার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে এই রেকর্ড। যা একেএস এবং আবুল খায়ের গ্রুপের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে নিরন্তর নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টার গৌরব-মুকুটের আরেকটি পালক।

এর আগে ২০১৯ সালে আবুল খায়ের গ্রুপ তাদের শাহ সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে স্থাপন করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভার্টিকাল রোলার মিল (ভিআরএম)। প্রতিদিন ১৫ হাজার টন এবং বছরে ৬০ লাখ টন সিমেন্ট উৎপাদনে সক্ষম এই ভিআরএম। এই খবর পাওয়ার পর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নিজ উদ্যোগেই শাহ সিমেন্ট নাম লিখিয়েছে তাদের খাতায়। বৃহৎ শিল্পপ্রযুক্তির জন্য সুখ্যাত ডেনমার্কের এফএলস্মিথ এই ভিআরএম বানিয়ে দিয়েছিল আবুল খায়ের গ্রুপকে।

এবার একেএস-এর জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হয়েছে জার্মানির এসএমএস গ্রুপের কাছ থেকে। জার্মানিও ভারী শিল্পের জন্য সারাবিশ্বে সুপরিচিত। নতুন এই রোলিং মিলে সর্বাধুনিক হিট-রিকোভারি প্রযুক্তি ও ইকো ফ্লেম-প্লাস বার্নার যুক্ত হয়েছে। যা নাইট্রোজেন অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় করে। উত্তপ্ত বিলেট পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার আগেই রোলিংয়ে পাঠানো হয় বলে পুনরায় গরম করতে লাগে অনেক কম জ্বালানি। পানি, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মাধ্যমেই তৈরি হচ্ছে উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প সহনশীল স্টীল। 

মিয়ারড্রাইভ ব্লকে প্রতিটি পাসের জন্য আলাদা ড্রাইভ থাকায় সব ব্যাসের রডে মান থাকে সমান। পুরো বিষয়টি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে মনিটর করা হয় বলে প্রতিটি রড উৎপাদনে নিশ্চিত করা সম্ভব হয় শতভাগ মান। একেএসের উৎপাদন সক্ষমতাও অনেক বেড়েছে। বছরে ৩০ লাখ টন স্টীল উৎপাদনের মাধ্যমে একেএস এখন বাংলাদেশে স্টীল উৎপাদনেও এক নম্বরে।

প্রযুক্তির প্রতি ধারাবাহিক বিনিয়োগের এই ভিত তৈরি হয়েছিল এক দশক আগে। ২০১৫ সালে দেশে প্রথমবারের মতো ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস (ইএএফ) চালু করে একেএস। উচ্চ তাপে স্ক্র্যাপ (ইস্পাতের কাঁচামাল) গলিয়ে প্রচলিত ইন্ডাকশন পদ্ধতিতে রড উৎপাদনের মধ্য দিয়ে স্টীলের শতভাগ বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। প্রথম ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস-এর মাধ্যমে একেএস ‘শতভাগ রিফাইন্ড স্টীল’-এর প্রতিশ্রুতি দেয় ক্রেতাদের।

এর পাশাপাশি একেএসের আছে দেশের বৃহত্তম অক্সিজেন প্ল্যান্ট, যার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ২৬০ টন। অক্সিজেন-নির্ভর অক্সিডেশন প্রক্রিয়ায় গলিত স্টীল থেকে ফসফরাসের মতো অপদ্রব্য সরিয়ে ফেলা হয়। এভাবেই শতভাগ রিফাইন্ড, ভূমিকম্প-সহনশীল স্টীল তৈরি হয়। রাসায়নিক শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচ কমে, কমে কার্বন নিঃসরণও।

সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে ২০২৫ সালে দেশে প্রথম স্টীল কোম্পানি হিসেবে ৭০০ গ্রেডের রড উৎপাদনের অনুমোদন পায় একেএস। পদ্মা সেতু, ঢাকা মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো স্থাপনায় ব্যবহৃত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির স্টীল। 

সীতাকুণ্ডে প্রতি মিনিটে যে ৫২টি রড তৈরি হয়, তার কোনোটি যায় দেশের সুউচ্চ ইমারতে, কোনোটি কারও আজীবনের স্বপ্নের ছোট্ট বাড়িতে। আর সেই স্বপ্নকে শতভাগ বিশুদ্ধতার দৃঢ়তা দেয় একেএস।

আরও পড়ুন

×