আগস্টে সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংকোচন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
গত আগস্ট মাসে বাংলাদেশের সার্বিক পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) জুলাইয়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ পয়েন্ট কমে ৪৯ দশমিক ৯-এ নেমেছে। এটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা সংকোচন নির্দেশ করে। এই পতনের প্রধান কারণ উৎপাদন ও সেবা খাতের কর্মকাণ্ডে মন্থরতা। এই দুই খাতেই সামান্য সংকোচন পরিলক্ষিত হয়েছে। অন্যদিকে কৃষি খাতের সম্প্রসারণ অব্যাহত ছিল। আর নির্মাণ খাত পুনরায় সম্প্রসারণের ধারায় ফিরে এসেছে।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ঢাকা ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের (পিইবি) পিএমআই সম্পর্কিত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য, পিএমআই ১০০ নম্বরের মধ্যে পরিমাপ করা হয়। স্কোর ৫০-এর বেশি হলে অর্থনীতির সম্প্রসারণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। ৫০-এর নিচে হলে সংকোচন বোঝায়। আর স্কোর ৫০ থাকার অর্থ ওই মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এমসিসিআই ঢাকা ও পিইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদন খাতে পিএমআই ১৮ পয়েন্ট কমার মাধ্যমে ৪৭ দশমিক ৪-এ নেমে সংকোচনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এ খাতে নতুন অর্ডার, নতুন রপ্তানি অর্ডার, উৎপাদন, উপকরণ ক্রয়ের মজুত, আমদানি, কর্মসংস্থানসহ সব সূচকই সংকোচনের পর্যায়ে ফিরে গেছে। উপকরণের দাম দ্রুত বাড়তে দেখা গেছে এ খাতে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সেবা খাত ২২ মাস পর ফের সংকোচনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আগস্টে এ খাতের পিএমআই ৪৯ দশমিক ২-এ নেমে এসেছে, যা জুলাইয়ের তুলনায় ৬.৮ পয়েন্ট কম। নতুন ব্যবসা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলেও উভয় ক্ষেত্রেই সম্প্রসারণের হার কমেছে। উল্লেখযোগ্য সংকোচন হয়েছে কর্মসংস্থানে।
এ সম্পর্কিত জরিপে উত্তরদাতাদের মতামতে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতার পাশাপাশি ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রতিফলনও দেখা গেছে। অনেক উত্তরদাতা বর্তমান ব্যবসায়িক অবস্থা সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং সামনের মাসগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতির আশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ব্যবসার ব্যয় কমানো, আর্থিক সহায়তা বাড়ানো এবং আরও সহায়ক নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
উৎপাদন খাতের উত্তরদাতারা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রাপ্তিতে জটিলতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি এবং তৈরি পোশাক খাতে অর্ডার কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসার গতি মন্থর হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তারা জ্বালানির মূল্য ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সেবা খাতের উত্তরদাতারা আর্থিক সহায়তা, বিদ্যুৎ বিল ও পরিচালন ব্যয় ও করের চাপ কমানোর দাবি জানিয়েছেন। কৃষি খাতের উত্তরদাতারাও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের মূল্য কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, উৎপাদন খাতের মন্থরতা আংশিকভাবে মাসওয়ারি রপ্তানি কমে যাওয়া ও এলএনজি অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত সাময়িক জ্বালানি বিঘ্নের প্রতিফলন। জ্বালানির সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, রপ্তানি চাহিদা বৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক পদক্ষেপ অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল করতে এবং আরও দৃঢ় প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে।
- বিষয় :
- অর্থনৈতিক পর্যালোচনা