ঢাকা দক্ষিণে মশা নিধন চলছে ধার করা ওষুধে
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু। আক্রান্ত ও মৃত্যুতে আগের দিনের রেকর্ড পরের দিন ভেঙে যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর ভিড়। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতাল থেকে তোলা সমকাল
অমিতোষ পাল
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৮ | আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী, মৃত্যুও থেমে নেই। অথচ এ সময়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ওষুধ ধার করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে ‘১০০-তে ১০০’ কর্মসূচি চালু করতে চাইছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসজুড়ে ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার বিস্তার বাড়বে। থেমে থেমে বৃষ্টি হলে মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৫৯০ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১১৭ জন। ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৭৪৪ জন। গত মাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ২০ হাজার ৫৩৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কিছু দিন ধরে প্রতিদিন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
কারণ হিসেবে কীটতত্ত্ববিদ ড. ইন্দ্রানী ধর সমকালকে বলেন, আগামী নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু মশার বিস্তার থাকবে। কারণ এ সময়ে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এতে পানি জমে মশার বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়। এবার লোডশেডিংয়ের কারণে আরও বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমনিতে তীব্র গরম। এ কারণে অনেকে হালকা পোশাক পরিধান করেন। বিদ্যুৎ না থাকলে মানুষ আরও বেশি ঘামে। এই ঘাম মশাকে আকৃষ্ট করে। বিদ্যুৎ না থাকলে রাতে চারদিকে অন্ধকার থাকে। তখন মানুষের শরীরে মশার কামড় দেওয়ার সুযোগ বাড়ে। এ জন্যও ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে।
তিনি বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর আক্রান্ত হওয়ার স্থান চিহ্নিত করে তার চারপাশের ৫০০ গজের ভেতরে অভিযান চালাতে হবে। এ ছাড়া অন্যান্য কার্যক্রম চালাতে হবে। এবার শঙ্কার বিষয় হলো– ডেঙ্গু রোগীদের শরীরে ডেন-৩ ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে, যা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি পর্যায়ের মধ্যে তৃতীয়টি।

ধারের ওষুধে চলছে ডিএসসিসি
জানা গেছে, এতদিন ডিএসসিসি উড়ন্ত মশা মারার জন্য ডেলটামেথ্রিন নামের ওষুধ ব্যবহার করে আসছিল। এই ওষুধ মশা নিয়ন্ত্রণে এখন ঠিকমতো কার্যকর না থাকায় ডিএনসিসি কয়েক বছর ধরে ভারত থেকে আমদানি করা ম্যালাথিয়ন ওষুধ ব্যবহার করে আসছে। তবে গত বছর জাপানের গবেষকরা দেখতে পান ডেলটামেথ্রিনের কার্যকারিতা ঢাকার মশার ক্ষেত্রে অনেকটা কমেছে। তখন ডিএসসিসি ডেলটামেথ্রিনের বদলে ম্যালাথিয়ন ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানকে ম্যালাথিয়ন সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের সরবরাহ করা ওষুধের নমুনা পরীক্ষাগারে উত্তীর্ণ হয়নি। পরে তারা ডিএনসিসির দ্বারস্থ হয়। ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ ২৭০ লিটার ম্যালিথিয়ন ওষুধ ধার হিসেবে চায় ডিএনসিসির কাছে। গত মাসে ডিএনসিসি ৮০ লিটার ম্যালাথিয়ন দেয়। সেটি দিয়ে চলছে ডিএসসিসির মশক নিধন কার্যক্রম। ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।’
অবশ্য এ বিষয়টি এড়িয়ে ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহান ফেরদৌস বিনতে রহমান সমকালকে বলেন, ‘এখন আমরা ডেলটামেথ্রিনই আপাতত ব্যবহার করব। আমাদের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার আছে। আরও সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করা হবে। আগামী রোববার মুগদা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে।’ এ ছাড়া ডিএসসিসি এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুরু হচ্ছে ‘১০০-তে ১০০’ কর্মসূচি
সম্প্রতি ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ মশক নিয়ন্ত্রণের জন্য এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে এরইমধ্যে নিজস্ব জনবলের বাইরে অতিরিক্ত ৫০০ কর্মীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ডিএনসিসি এলাকার ১০০টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিদিন একেকটি স্পটে ১০ জন করে কর্মী কাজ করবেন। এ কর্মসূচির জন্য একটি নিজস্ব অ্যাপ চালু করেছে ডিএনসিসি। সেই অ্যাপের মাধ্যমে হটস্পটের সব তথ্য সঙ্গে সঙ্গে জানাবেন কর্মীরা। ১০০ দিন ধরে চলবে এই ক্রাশ কার্যক্রম। এ কর্মসূচি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানানো হয়েছে। তিনি এ কর্মসূচি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দশেনা দিয়েছেন।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস সমকালকে বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ‘১০০-তে ১০০’ কর্মসূচি শুরু হবে। তবে জোরদার করা হবে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে।