তেজগাঁওয়ে বিটিসিএল কার্যালয়ে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৪৭
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পিটুনিতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে দুপুরের পর ওই যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তাঁর নাম–পরিচয় জানা যায়নি।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, এমন একটি ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। কী ঘটেছে তা বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিটিসিএল কার্যালয়ের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকে কয়েকজন। তারা চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকেছেন ভেবে ধাওয়া করেন বিটিসিএল কর্মীরা। তখন একজনকে আটক করা সম্ভব হয় এবং বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে আটক যুবককে বিটিসিএল ক্যাম্পের আনসার সদস্যদের কাছে সোপর্দ করা হয়।
বিটিসিএলের ওই কার্যালয়ের অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সকালে অফিসে এসে জানতে পারেন, চুরি করতে আসা এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তাকে আনসার ক্যাম্পে রাখা হয়। সেখান আনসার সদস্যদের মারধরে অজ্ঞাতপরিচয় ওই যুবক অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী ওই যুবককে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাকে পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
পুলিশ সূত্র জানায়, নিহতের আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডার থেকে তাঁর নাম–ঠিকানা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সড়কের মাঝামাঝি স্থানে পাবলিক টয়লেটের পাশে বিটিসিএলের কার্যালয়। সেখানে ‘আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রস্তাবিত সদর দপ্তর’ লেখা সাইনবোর্ডও রয়েছে। প্রধান ফটকেই তিনজন আনসার সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেল। তবে তারা দাবি করেন, সকালে ঘটনার সময় তারা দায়িত্বে ছিলেন না। ওই সময় যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তারা এখন বিশ্রামে রয়েছেন।
একজন আনসার সদস্য সমকালকে বলেন, আমি গেটের দিকে ছিলাম, পরে হৈচৈ শুনে গিয়ে দেখি এক চোরকে আটক করা হয়েছে। আগে–পরে কী হয়েছে আমি জানি না।
ঘটনার সময় আনসারের প্লাটুন কমান্ডার নুরুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। তবে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘মিটিংয়ে আছেন’ বলে জানানো হয়। তাঁর মোবাইল ফোন নম্বরে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আনসারের পাশাপাশি বিটিসিএল কর্মীরাও ‘চোরকে’ মারধর করেছে। তারা প্রায়ই চোর ধরে বিটিসিএলকে জানালেও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানায়নি।
এদিকে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তেজগাঁও টিঅ্যান্ডটি তার ভাণ্ডার এলাকায় সকালে কিছু যুবক প্রবেশ করেন। এসময় দায়িত্বে থাকা অঙ্গীভূত আনসার সদস্য শাহজামাল এক যুবককে চুরি করতে দেখে ধাওয়া করেন। পুরোনো টিনের চালের ওপর দিয়ে দৌড়ানোর সময় ওই যুবক চাল ভেঙে নিচে পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে বিটিসিএলের স্টাফ শওকত হোসেন আটক করেন। সংস্থার নির্দেশে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা তাকে আটক করতে সহযোগিতা করেন। আনসারের প্লাটুন কমান্ডার নুরুল ইসলাম আটক যুবককে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের পিও সুলতান মাহমুদ ও ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর আনসার সদস্যরা নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে ফিরে যান।
বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, আনসার সদস্যরা ওই যুবককে ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন বা মারধর করেছেন এমন তথ্যেরও কোনো ভিত্তি নেই।