ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেয়ারবাজারে দর পতন গড়াল টানা ষষ্ঠ দিনে

শেয়ারবাজারে দর পতন গড়াল টানা ষষ্ঠ দিনে
×

ফাইল ফটো

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৫ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের শেয়ারবাজারে দর পতন চলছেই। গতকাল সোমবারও প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে তিন-চতুর্থাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। এতে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আরও ৩৯ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৩৭৯ পয়েন্টে নেমেছে। এ নিয়ে টানা ছয় দিনে সূচকটি হারাল ১৮৮ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সমাপনী সূচকের হিসাবে গতকাল সূচক ৩৯ পয়েন্ট কমলেও দিনের মাঝের সূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান বিবেচনায় সূচকটি প্রায় ৭৮ পয়েন্ট হারিয়েছিল। যদিও লেনদেনের শুরু হয়েছিল বেশির ভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধি দিয়ে। কিছুটা ওঠানামার পরও বেলা ১১টায় অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধির ওপর ভর করে ডিএসইএক্স সূচক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪৫৪ পয়েন্ট ছাড়ায়। এরপর ফের দর পতন শুরু হলে তা প্রায় লেনদেনের শেষ পর্যন্ত চলে। এক পর্যায়ে সূচকটি কমে ৫৩৭৬ পয়েন্টে নামে।

তবে টানা দর পতন সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে নারাজ। কমিশনের বক্তব্য, অতীতে এমন হস্তক্ষেপ করে কোনো ফল মেলেনি, উল্টো দীর্ঘমেয়াদে ভালোর তুলনায় ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা তাদের সুবিবেচনা প্রসূত সিদ্ধান্ত নিয়ে শেয়ার কেনাবেচা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ চলমান দর পতনের মধ্যে দেশের শীর্ষ ৩০ ব্রোকারেজ হাউসের সিইওদের সঙ্গে একটি বৈঠক ডেকেছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ডিএসইর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, ভারপ্রাপ্ত সিআরও মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।


ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার সমকালকে জানান, পরিকল্পনা ছিল শীর্ষ ৩০ ব্রোকারেজ হাউসের সিইওদের সঙ্গে বৈঠক করে বাজারের চলমান অবস্থা এবং বাজারে ভবিষ্যৎ ঠিক করতে এক্সচেঞ্জ কী করছে, সে বিষয়ে তথ্য দেওয়া। তবে এর বাইরে আরও কিছু ব্রোকারেজ হাউসের সিইওরা এ বৈঠকে উপস্থিত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

নুজহাত আনোয়ার বলেন, জ্বালানি সংকট ছাড়াও বৈশ্বিক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা চলছে। এর আঁচ সবকিছুতেই পড়ে। তবে এসব ক্ষেত্রে সবার আগে শেয়ারবাজারেই প্রভাবিত হয় বেশি। কেন শেয়ারবাজারের দর পতন হচ্ছে, এর মূল কারণ কী কী হতে পারে, এসবের সমাধানের আদৌ কিছু করার আছে কিনা– এ বিষয়ে মঙ্গলবারের বৈঠকে খোলামেলা আলোচনার প্রত্যাশা করছেন তিনি। এ কারণে ডিএসইর পর্ষদের কাউকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকেও কেউ থাকবে না। এখানে করণীয় বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মতামত কেউ দিলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল পর্যায়ে সে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘কেবল চলমান বাজার ইস্যু নয়, এ বাজারটি বর্তমান অর্থনৈতিক ধারা এবং ভবিষ্যতের অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে গড়ার ক্ষেত্রে বাজারে কী ধরনের নতুন পণ্য যুক্ত করতে পারি তা জানতে চাইব। বাজারের উন্নয়নে এক্সচেঞ্জের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, ব্রোকার কমিউনিটি কী ভূমিকা রাখতে পারে, এমন আলোচনাও মঙ্গলবারের বৈঠকে হবে।’

ডিএসইর এমডি বলেন, শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন একটি স্বাভাবিক ঘটনা। কখনও বেশি বাড়বে, কখনও কমবে, এ ক্ষেত্রে বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ থাকা একেবারেই উচিত নয়। বিনিয়োগকারীরা নিজেদের বিবেচনায় বিনিয়োগ করবেন–এটাই সবার প্রত্যাশা। কারণ এই বিনিয়োগ থেকে দিন শেষে তাদের লাভ বা লোকসান হবে।

এদিকে এ বৈঠক আদৌ কোনো ফল বয়ে আনবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অন্তত তিন ব্রোকারেজ হাউসের সিইও। তারা সমকালকে বলেন, অতীতে এমন বহু বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে দর পতন নিয়ে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয়। তবে প্রকৃত কারণ নিয়ে আলোচনা হয় না। কারণ প্রকৃত কারণ খুঁজতে গেলে অনেকের দায় বের হবে। এতে বাজার অংশীজন প্রতিষ্ঠানগুলোও এ দায় এড়াতে পারবে না। 

গত সপ্তাহের মঙ্গলবার ডিএসইর সঙ্গে ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর জরুরি অনলাইন বৈঠকের উদাহরণ টেনে একটি ব্রোকারেজ হাউসের এমডি বলেন, ওই বৈঠকটি ছিল স্ববিরোধিতায় ভরা। ডিবিএর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কারসাজি বা অনিয়মের কথা বলে চিঠি দিয়ে বা তথ্য চেয়ে বা হঠাৎ ব্রোকারেজ হাউস পরিদর্শনে গিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা না হয়। আবার তারাই বলেছে– কারসাজি বা অনিয়ম হলে তা দেখার দায়িত্ব স্টক এক্সচেঞ্জের। 

বাজার সংক্ষেপ
গতকাল ডিএসইতে ৫৩ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিপরীতে ২৬৩ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিটি খাতেরই অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে। তবে বীমা খাতের শেয়ারদর গড়ে পৌনে ২ শতাংশ কমেছে। সিরামিক খাতের শেয়ারদর কমেছে পৌনে ৪ শতাংশ। তবে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ৪ শতাংশের বেশি দর পতন ছিল খাতওয়ারি সর্বাধিক। এমন দর পতনে শেয়ার লেনদেনও আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৮৫ কোটি টাকা কমে ৪৮৬ কোটি টাকায় নেমেছে।

আরও পড়ুন

×