দাবি পরিশোধে প্রয়োজনে সম্পদ বিক্রি করুন
আমির খসরু মাহমুদ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৩
বীমা খাতে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি গভীরে শিকড় গেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গ্রাহকের বৈধ দাবি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। প্রয়োজনে গ্রাহকের পাওনা পরিশোধে বীমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করতে হবে। দাবি পরিশোধ না করে কোনো কোম্পানিকে জমি বা অন্য সম্পদ কেনা, বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ কিংবা সরকারি সিকিউরিটিজে অর্থ রাখার সুযোগ দেওয়া হবে না।
গতকাল সোমবার রাজধানীতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। একইদিন কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন জানান, দেশের বীমা খাতে গ্রাহকদের সাত হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া রয়েছে। বর্তমানে সামগ্রিকভাবে দাবি নিষ্পত্তির হার ৫৭ শতাংশ। এ হার ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মানুষ নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য বীমা করেন। অথচ অনেক কোম্পানি গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করছে না। বর্তমানে প্রায় ৫৭ শতাংশ বীমা দাবি অনিষ্পন্ন। অর্থাৎ ১০০টি দাবির মধ্যে ৫৭টিই নিষ্পত্তি হয়নি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘যে মানুষ নিরাপত্তার জন্য ইন্স্যুরেন্স করে, নিজের কষ্টের অর্জিত টাকা থেকে দেয়, তাঁকে আপনি কীভাবে সেই টাকা থেকে বঞ্চিত করবেন?’ ইতোমধ্যে কিছু দাবি পরিশোধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইডিআরএর চেয়ারম্যান নিজেও একটি দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছেন, যা মূলত একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য। তবে দাবি পরিশোধ করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নয়; সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিকেই গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
সাত-আটটি কোম্পানির অবস্থা উদ্বেগজনক
অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বীমা খাতে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অনিয়ন্ত্রণ দেখা গেছে। ব্যাংকিং খাতের মতো এ খাতেও অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে। বীমা খাতকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি জানান, সাত-আটটি বীমা কোম্পানির অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব কোম্পানি কীভাবে এখনও কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেটিই চিন্তার বিষয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইডিআরএর নির্দেশনা মেনে স্বল্প সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। যারা তা পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনো কোম্পানিকে একীভূত করার বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চান না মন্ত্রী। তিনি বলেন, বীমা কোম্পানির জন্য যা প্রয়োজন, সেটিই করা হবে। প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন ও কাঠামো প্রস্তুত হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা
বীমা খাতে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আইডিআরএর পক্ষ থেকে আগে প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যবস্থা না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন প্রত্যেক বীমা কোম্পানিকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় এনে অনলাইনে লেনদেন করতে হবে।
আইডিআরএর জনবল ঘাটতি
আইডিআরএর জনবল সংকটের পাশাপাশি দক্ষ ও পেশাদার জনবলের ঘাটতি রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় জনবলের সংখ্যা ও মান-দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দুটির ঘাটতি রয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে সরকারের ডেপুটেশনে থাকা কর্মকর্তার সংখ্যা কমিয়ে আইডিআরএর নিজস্ব জনবল গড়ে তোলা হবে। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করতে পারেন। বীমা একটি বিশেষায়িত পেশা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতা আছে এমন দক্ষ লোকজনকে আইডিআরএর সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।
- বিষয় :
- আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী