ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিয়মের বাইরে ১১৬ কোটি টাকা বোনাস দিয়েছে সোনালী ব্যাংক

নিয়মের বাইরে ১১৬ কোটি টাকা বোনাস দিয়েছে সোনালী ব্যাংক
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৬ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

২০২৩ সালের পারফরম্যান্সের জন্য সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তিনটির বাইরে আরও দুটি উৎসাহ বোনাস দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নীতিমালাবহির্ভূতভাবে দেওয়া ওই দুই বোনাসের অর্থের পরিমাণ প্রায় ১১৬ কোটি টাকা। দেড় বছর আগে অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনও তা আদায় হয়নি। এবার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে সেই অর্থ আদায় করে সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শওকত আলী খানকে চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

গত ১১ সেপ্টেম্বর দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, ২০২৩ সালের পারফরম্যান্সের জন্য পাঁচটি উৎসাহ বোনাস দেওয়ার বিষয়ে অসম্মতি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নীতিমালার বাইরে দেওয়া বাড়তি দুই বোনাসের অর্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে আদায় করে সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বোনাস নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ২১ হাজার ৫০০। নিয়মিত তিনটির পাশাপাশি তারা বাড়তি দুটি উৎসাহ বোনাস নিয়েছেন। প্রতিটি বোনাসের অর্থ মূলত এক মাসের মূল বেতনের সমান। ব্যাংকটির একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা জানান, বাড়তি দুই বোনাসের অর্থ প্রায় ১১৬ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এমডি ও সিইও শওকত আলী খানকে কয়েকবার ফোন ও এসএমএস করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, টাকা যেহেতু ইতোমধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া হয়ে গেছে, তাই সরকারকে তা মেনে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। নতুন করে একই অনুরোধ জানানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই দিন পর ৭ আগস্ট সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন এমডি ও সিইও আফজাল করিমকে অবরুদ্ধ করেন একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের দাবি ছিল, বছরে পাঁচটি উৎসাহ বোনাস দিতে হবে। অথচ অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনটির বেশি বোনাস দেওয়ার সুযোগ ছিল না।

বোনাসের দাবিতে আন্দোলন চলতে থাকলে একপর্যায়ে ২০ আগস্ট পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী। এর আগে তাঁর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ চাপের মুখে নীতিমালাবহির্ভূতভাবে পাঁচটি উৎসাহ বোনাস অনুমোদন করে। এ নিয়ে নিরীক্ষা আপত্তিও ওঠে। বাংলাদেশ ব্যাংকও এতে সম্মতি দেয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সোনালী ব্যাংকের এমডিকে চিঠি দিয়ে নীতিমালাবহির্ভূতভাবে দেওয়া বাড়তি দুই বোনাসের অর্থ ফেরত আনার নির্দেশ দেয়। কিন্তু দেড় বছরেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই অর্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে ফেরত নিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৩ সালের নীতিমালা এবং ২০২৫ সালের নীতিমালা— কোনোটিতেই সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাঁচটি বোনাস নেওয়ার সুযোগ ছিল না। অথচ ২০২৩ সালের পারফরম্যান্সের জন্য তারা পাঁচটি উৎসাহ বোনাস নিয়েছেন।

বোনাস দেওয়ার পর সোনালী ব্যাংক তা অনুমোদনের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আবেদন করে এবং নীতিমালা লঙ্ঘনের জন্য ক্ষমাও চায়। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নিজেদের নীতিমালা লঙ্ঘন করে পাঁচটি বোনাস অনুমোদন করেনি। 

এদিকে সোনালী ব্যাংকের এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরভিত্তিক একটি পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ২০২৫ সালের ১১ মার্চ ব্যাংকের এমডিকে দেওয়া চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, সোনালী ব্যাংক ২০২৩ সালের জন্য পাঁচ উৎসাহ বোনাস বাবদ ২৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, উৎসাহ বোনাসবিষয়ক সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ীও তিনটির বেশি বোনাস দেওয়ার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন

×