পিরিয়ড সচেতনতায় ফ্রেশ অনন্যা ও বুয়েটের যৌথ উদ্যোগ, ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৩৯
পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যবিধি ও সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমএমই) বিভাগে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) ফেমিনিন হাইজিন ব্র্যান্ড ফ্রেশ অনন্যা ও বুয়েটের এমএমই বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়।
বুধবার বুয়েটের পুরাতন অ্যাকাডেমিক ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভেন্ডিং মেশিনটির উদ্বোধন করা হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভেন্ডিং মেশিন থেকে নারী শিক্ষার্থী ও কর্মীরা প্রয়োজনের সময় সহজে ও সম্মানজনকভাবে স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারবেন। মোবাইল পেমেন্টের মাধ্যমে বাজারদরের চেয়ে কম দামে ফ্রেশ অনন্যা ন্যাপকিন কেনার সুযোগ থাকবে।
২০১৮ সালের জাতীয় স্বাস্থ্যবিধি জরিপের তথ্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে বলা হয়, বাংলাদেশে পিরিয়ডরত নারীদের মধ্যে মাত্র ২৯ শতাংশ স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন। এই পরিস্থিতিতে ন্যাপকিন সহজলভ্য করার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রেশ অনন্যা।
ভেন্ডিং মেশিন উদ্বোধন করেন এমজিআইয়ের পরিচালক ব্যারিস্টার তাসনিম মোস্তফা, বুয়েটের কেমিক্যাল অ্যান্ড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক মুসাররাত সুলতানা সুমি, এমএমই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. মুক্তাদির বিল্লাহ এবং এমজিআইয়ের চিফ মার্কেটিং অফিসার কাজী মো. মহিউদ্দিন।
অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার তাসনিম মোস্তফা বলেন, পিরিয়ড স্বাস্থ্যবিধি শুধু ব্যক্তিগত অস্বস্তির বিষয় নয়; এর সঙ্গে স্বাস্থ্য, মর্যাদা, আত্মবিশ্বাস ও সমান সুযোগের বিষয়ও জড়িত। সঠিক তথ্য ও মানসম্মত পণ্যের অভাবে কোনো নারীর শিক্ষা, কর্ম বা দৈনন্দিন জীবন বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
তিনি বলেন, বুয়েটের এমএমই বিভাগের সঙ্গে ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি ছোট কিন্তু অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশের আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্যাম্পাসে এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণের কথাও জানান তিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক মুসাররাত সুলতানা সুমি বলেন, পিরিয়ড নিয়ে ভুল ধারণা ও সংকোচের কারণে অনেক নারী সঠিক তথ্য বা সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দ্বিধা করেন। এতে সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যাও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে স্বাস্থ্যসম্মত পিরিয়ড ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ফর হার: টুগেদার টুওয়ার্ডস আ বেটার সোসাইটি’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে নারী শিক্ষার্থীরা চিকিৎসকদের কাছে মাসিক স্বাস্থ্য ও সংশ্লিষ্ট শারীরিক সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।
অনুষ্ঠানে বুয়েটের স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ডিরেক্টোরেটের পরিচালক অধ্যাপক একেএম মাসুদ, তাজকিয়াতুল ইসলাম মৌ, এমএমই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাকিয়ান ফখরুল এবং প্রভাষক নবিলা মাহজাবিন রিয়াসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
- বিষয় :
- বুয়েট
- স্যানিটারি ন্যাপকিন
- মেঘনা গ্রুপ