ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান যুক্তফ্রন্টের

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান যুক্তফ্রন্টের
×

সিপিবি কার্যালয়ে যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সভায়।

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৪৭

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে রুখে দাঁড়াতে এখনই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। নেতারা বলেছেন, স্বাধীনতার শত্রু জামায়াত-শিবির ডাকসু সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি টাঙিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রম হারানো ২ লাখ নারীর প্রতি চরম অবমাননা প্রদর্শন করেছে। এ ঘটনা দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিশোধ স্পৃহার একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক বার্তা। এর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক ও সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, বজলুর রশীদ ফিরোজ, ডা. মুশতাক হোসেন, অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, মোশরেফা মিশু, মাসুদ রানা, হারুনার রশিদ ভূঁইয়া, আব্দুল আলী, রজত হুদা, সৈয়দ হারুন অর রশীদ, রাগিব আহসান মুন্না, নিখিল দাস, শহীদুল ইসলাম সবুজ, মহিউদ্দিন চৌধুরী লিটন প্রমুখ।

নেতারা বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে যুদ্ধাপরাধী ও ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী জামায়াত-শিবির ও তাদের সহযোগীরা দেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের মদদে মব সৃষ্টি করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি ও মুজিবনগর অস্থায়ী সরকারের স্মৃতিস্তম্ভসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এক হাজারের বেশি স্মারক ধ্বংস করেছে। তারা জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকা বদলের দাবি করেছিল। গত দুই বছরে মুক্তিযুদ্ধের যতগুলো ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে, সরকারি উদ্যোগে তা পুনর্নির্মাণ করতে হবে। তদন্ত করে ভাস্কর্য ভাঙার সঙ্গে যুক্ত দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

সভায় হাম ও ডেঙ্গুতে মানুষের মৃত্যুমিছিল থামাতে সরকারের ব্যর্থতায় অসন্তোষ জানিয়ে অবিলম্বে ডেঙ্গুর উৎপত্তিস্থল ধ্বংস ও ডেঙ্গু পরীক্ষার সরঞ্জামাদি নিয়ে বিভিন্ন বস্তি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিনামূল্যে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়। ৪৪টি কলকারখানা বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত ও ব্যাংকিং খাতে লুটপাট বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে নেতারা আরও বলেন, অবিলম্বে প্রাচারকৃত টাকা দেশে ফিরিয়ে আনা ও খেলাপীঋণ উদ্ধার এবং পাচারকারী ও ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যবস্থা নিতে হবে। 

এছাড়া সভায় র‌্যাব বিলুপ্ত ও কেবল নাম পরিবর্তন করে পুরোনো কাঠামো বহাল রাখায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। 

সভা থেকে হাম-ডেঙ্গুতে মানুষের মৃত্যু ও প্রশমনে সরকারি ব্যর্থতার প্রতিবাদে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ সমাবেশ এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও খেলাপীঋণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার প্রতিবাদে ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ ও গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি পেশ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নীতিমালার গণবিরোধী ধারাগুলো বাতিলের দাবিতে ১৪ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি পালন করবে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট।

আরও পড়ুন

×