ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে হবে

সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বিশিষ্টজন

নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে হবে
×

‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভা

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৪ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় আরও জোরালো রাজনৈতিক অঙ্গীকার, সুশাসন এবং সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজন। তারা বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো এখন পরিমাপযোগ্য কর্মসূচি ও কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এই আহ্বান জানান। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর জোট কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইকুইটি অ্যান্ড জাস্টিস এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। 

সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যালোচনা ও রাজনৈতিক দলগুলোকে জনসমক্ষে জবাবদিহির আওতায় রাখার উদ্যোগ নেওয়ায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতি পেশিশক্তির ওপর নয়; মেধা, সেবা ও জনগণের আস্থার ওপর পরিচালিত হওয়া উচিত। বিভাজন বন্ধ করে একটি বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যেখানে নারীরা শুধু কারও মেয়ে, মা বা স্ত্রী হিসেবে পারিবারিক পরিচয়ে নয়, নিজেদের পরিচয় ও অবদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি পাবেন।

সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর নজরদারির আওতায় আনার জন্য কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষিত আসন ও পিংক বাসের মতো সাময়িক ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। তবে লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে নারীরা নিরাপদে, সরাসরি ও মর্যাদার সঙ্গে অংশ নিতে পারবেন। 

পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, প্রতিশোধের শঙ্কা কিংবা আইনি পদক্ষেপের ব্যয় বহন করতে না পারায় সহিংসতার অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দলকে শূন্য সহনশীলতার অবস্থান নিতে হবে।

বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ বলেন, দলীয় কাঠামো, মনোনয়ন প্রক্রিয়ার বাধা, নির্বাচনী খরচ ও অনলাইন হয়রানির কারণে সংরক্ষিত আসনে থাকা নারীদের সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এখনও সীমিত। রাজনীতিতে নারীর ৩৩ শতাংশ অংশগ্রহণের লক্ষ্য এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। নারীর পাশাপাশি অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে রাজনৈতিক দলের ভেতর থেকেই প্রকৃত অন্তর্ভুক্তির সূচনা করতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি বলেন, নারী ও শিশুরা এখনও ঘরে, জনপরিসরে, অনলাইনে; এমনকি বিচার চাইতে গিয়েও অনিরাপত্তার মুখোমুখি হন। তাদের সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দিতে সাইবার আইনে আরও স্পষ্ট বিধান করতে হবে। ডিপফেকের মাধ্যমে হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, নারীদের শুধু সমতা নয়, ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ বছরের পর বছর নীতিগত ঘাটতির কারণে তারা পিছিয়ে রয়েছেন। পিংক বাসের মতো উদ্যোগ কয়েক মাস পরপর পর্যালোচনা করে এগুলো নারীদের হয়রানি কমাতে পারছে কিনা, নাকি নতুন কোনো বাধা তৈরি করছে– সেটা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। 

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, নারী ও শিশুর জন্য বিনিয়োগকে দয়া বা অনুদান হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটিকে অধিকারভিত্তিক ও কৌশলগত উন্নয়ন অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। 

সভায় আরও বক্তব্য দেন সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা, অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অনিল পান্ত। মূল প্রবন্ধ 

উত্থাপন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) ওয়াসিউর রহমান তন্ময় এবং অক্সফাম ইন বাংলাদেশের রওশন আক্তার ঊর্মী। 

আরও পড়ুন

×