ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেরুদণ্ডহীন ইসি দিয়ে সুষ্ঠু ভোট হতে পারে না: গোলাম পরওয়ার

মেরুদণ্ডহীন ইসি দিয়ে সুষ্ঠু ভোট হতে পারে না: গোলাম পরওয়ার
×

বুধবার রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৫৬

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য দিন ঘোষণা করেও সরকারের মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পিছিয়ে আসায় সমালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী। ইসিকে সরকারের আজ্ঞাবহ আখ্যা দিয়ে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘এত নতজানু, এত মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন দিয়ে এই নির্বাচন কখনো সুষ্ঠু হতে পারে না।’

বুধবার রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গত সোমবার ইসি জানিয়েছিল, ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ ইসির একক এখতিয়ার নয়; সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে তা করতে হবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসি জানায়, বৃহস্পতিবার আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঠিক করা হবে। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্য ‘শিরোধার্য’। তবে এ বিষয়ে পাল্টা মন্তব্য করার ‘ধৃষ্টতা’ তিনি দেখাবেন না।

ইসির এই অবস্থানের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রাথমিক ঘোষণার পর মন্ত্রীর মন্তব্যের পরের দিনই ইসি অবস্থান পরিবর্তন করেছে। তাঁর দাবি, এভাবে বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচন বর্জনের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, অবসরের পর বিএনপির কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শামসুল আলমকে গত জুলাইয়ে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তাঁর দাবি, ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ও অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলম নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করছেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘মন্ত্রীর কথা শিরোধার্য, আমি তাঁর ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করার মতো ধৃষ্টতা দেখাতে পারব না’—এ ধরনের বক্তব্য সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণা এবং তাঁদের পদত্যাগের দাবিও জানান তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রশাসকের দায়িত্বে থেকে সরকারি অর্থ ব্যয় করে কেউ নির্বাচনের আগে পরোক্ষভাবে প্রচারের সুযোগ পেলে নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে না। তাই তাঁদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে এখনই পদত্যাগ করাতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের কাছে আট দফা দাবি তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নির্বাচনের সময়সূচি ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং কোনো মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী বা রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ না করা।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত না করে দ্রুত সুস্পষ্ট, চূড়ান্ত, সময়বদ্ধ ও বাস্তবায়নযোগ্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানো হয়। সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ ও কার্যকর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা এবং নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের কার্যকর নিশ্চয়তা দেওয়া।

এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিও জানায় জামায়াত।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×