ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউপি নির্বাচন

নেতাদের সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা

নেতাদের সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা
×

বিএনপির দলীয় মনোগ্রাম

শেখ হারুন অর রশিদ, কয়রা (খুলনা) 

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৪ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:৩৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর বিএনপির প্রার্থীরা দলীয় সমর্থনের আশায় নেতাদের কাছে ছুটতে শুরু করেছেন। এমন অবস্থা খুলনার কয়রা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের। অন্যদিকে দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা আগে থেকেই প্রচার ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত সোমবার ইউপি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রাক-প্রস্তুতি সভা শেষে সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়। ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে এ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এমন ধারণায় প্রার্থীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। প্রায় এক দশক পর এবার নির্দলীয়ভাবে ইউপি নির্বাচন হবে।

জানা গেছে, কয়রার সাতটি ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থন পেতে চেষ্টা করছেন ২৪ জন সম্ভাব্য প্রার্থী। তারা হলেন– আমাদি ইউনিয়নে আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল হামিদ, জাহিদুর রহমান শোভন, জোবায়ের হোসেন, দিলরুবা মিজান; বাগালি ইউনিয়নে আব্দুর রহিম সানা, সাইফুজ্জামান, আশরাফ হোসেন পল্টু; মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, পীর আলী, হাসান শেখ, নাজমুল হুদা; মহারাজপুর ইউনিয়নে মনিরুজ্জামান বেল্টু, শরীফুল ইসলাম, কোহিনুর ইসলাম, নুরুল ইসলাম খোকা, আবু সাঈদ বিশ্বাস; কয়রা সদর ইউনিয়নে নুরুল আমীন বাবুল, এমএ হাসান; উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নে সরদার মতিয়ার রহমান, সিরাজুল ইসলাম; দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নে মনজুর আলম, সিরাজুল ইসলাম ও ওসমান গনি খোকন। 

সম্ভাব্য এসব প্রার্থীর বেশির ভাগই এখন খুলনা জেলা শহরে অবস্থান করছেন। বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি দুজন কেন্দ্রীয় নেতার বাসা খুলনা শহরে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ পছন্দের নেতাদের সমর্থন পাওয়ার আশায় তাদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। 

কয়রা উপজেলায় বিএনপির কমিটি নেই প্রায় দুই বছর। যে কারণে স্থানীয়ভাবে ইউপি নির্বাচনে ‘দলীয় প্রার্থী’ হিসেবে কাউকে সমর্থন দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীরা জেলা পর্যায়ের নেতাদের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। 

উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মওলা বকস বলেন, ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্তের ব্যাপারে কেন্দ্রীয়ভাবে সঠিক কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ফলে যিনি যেভাবে পারছেন, দলীয় সমর্থনের আশায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। অনেকেই নানাভাবে নেতাদের নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন। 

উপজেলা বিএনপির সাবেক আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। কেউ কারও নির্দেশনা মানতে চাইছেন না। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে এখানে। তারা মনে করছেন, দলীয় সমর্থন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেই সহজে জয়লাভ করা যাবে। এ কারণে এলাকার জনসমর্থনের চেয়ে নেতাদের কাছে ছুটছেন তারা। 

এদিকে অনেক আগে থেকেই জামায়াতে ইসলামী ইউপি নির্বাচনে তাদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করে রেখেছে। এসব প্রার্থী প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি এলাকার মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের সমর্থন পাওয়া প্রার্থীরা হলেন– আমাদি ইউনিয়নে মাওলানা সাজ্জাদুল ইসলাম, বাগালি ইউনিয়নে মাওলানা সালাউদ্দীন, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে এম আয়ুব আলী, মহারাজপুর ইউনিয়নে সাইফুল্লাহ হায়দার, কয়রা সদরে সরদার জুলফিকার আলম, উত্তর বেদকাশিতে নুর কামাল, দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নে গাজী বেলাল হোসেন।  

কয়রা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, কয়েক মাস আগে সংগঠনের বৈঠকে ইউপি নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী বাছাই চূড়ান্ত করে গণসংযোগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রার্থীরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে না পারলেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা মাঠে থাকবেন। তাদের সাংগাঠনিক শক্তি এ উপজেলায় বিএনপির চেয়ে বেশি। বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই না করলে ফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।  

খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী খুব শিগগির ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য দলীয়ভাবে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হবে। এ মুহূর্তে অনেকেই মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে দলীয় সমর্থনের আশায় লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে এলাকার মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা আছে, কেবল তাদেরই সমর্থন দেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×