ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিপিপি পদ্ধতিতে চালু হচ্ছে দুই টেক্সটাইল মিল

পিপিপি পদ্ধতিতে চালু হচ্ছে দুই টেক্সটাইল মিল
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:১৩

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে নীলফামারীর দারোয়ানী ও মাগুরা টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দুই মিলের বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনের চূড়ান্ত চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রকল্প দুটিতে সরকারের কোনো বিনিয়োগ থাকবে না। মিলের জমি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে, আর পুরো বিনিয়োগ করবে বেসরকারি অংশীদার।

বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে ১৬টি পিপিপি পদ্ধতিতে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে চারটি মিল বেসরকারি অংশীদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দারোয়ানীতে বিনিয়োগ ২০০ কোটি টাকা

দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলটি ৩৭ দশমিক ৮৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ১৯৮০ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে চালু ছিল মিলটি। পুনরায় চালুর জন্য ঢাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেডকে পছন্দের দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির মেয়াদ হবে ৩০ বছর। ভূমি ব্যবহারের বিপরীতে বেসরকারি অংশীদার এককালীন ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা সাইনিং মানি দেবে। তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড শেষে প্রতি মাসে ১২ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৭ টাকা কন্ট্রাক্ট ফি হিসেবে বিটিএমসিকে দিতে হবে।

এ ছাড়া পিপিপি কর্তৃপক্ষকে ডেভেলপমেন্ট ফি হিসেবে ৭৫ লাখ টাকা এবং বিটিএমসিকে ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে।

পিপিপির আওতায় মিলটি চালু হলে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মাগুরায় চুক্তি ৩০ বছরের

মাগুরা টেক্সটাইল মিলটি ১৬ দশমিক ০৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে চালু ছিল এটি। পুনরায় পিপিপি পদ্ধতিতে চালুর জন্য চর্কা টেক্সটাইল লিমিটেডকে পছন্দের দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, মাগুরা টেক্সটাইল মিল পরিচালনার মেয়াদ হবে ৩০ বছর। এ প্রকল্পেও জমি ছাড়া সরকারের কোনো বিনিয়োগ থাকবে না। পুরো অর্থায়ন করবে বেসরকারি অংশীদার।

চুক্তির আওতায় ভূমি ব্যবহারের বিপরীতে এককালীন ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা সাইনিং মানি হিসেবে বিটিএমসিকে দেবে চর্কা টেক্সটাইল। তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড শেষে প্রতি বছর কন্ট্রাক্ট ফি হিসেবে দিতে হবে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। পাশাপাশি পিপিপি কর্তৃপক্ষকে ৫০ লাখ টাকা ডেভেলপমেন্ট ফি এবং বিটিএমসিকে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে।

মাগুরা মিলেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

দুই মিলের চুক্তি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় নতুন আইনের বিষয়টিও এসেছে। দারোয়ানী মিলের চূড়ান্ত চুক্তির নীতিগত অনুমোদনের প্রস্তাব এর আগে ১৯ আগস্টের সভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। তখন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে মতামত নিয়ে চুক্তি সংশোধন করে চূড়ান্ত করা হয়।
 

আরও পড়ুন

×