ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ফলাফলের বাইরে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে: ববি হাজ্জাজ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ফলাফলের বাইরে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে: ববি হাজ্জাজ
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৫১

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতা এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

বুধবার ঢাকার লা মেরিডিয়ান হোটেলে ‘একসঙ্গে আরও শক্তিশালী, আগামীকাল আরও নিরাপদ—বাংলাদেশে শিশুদের নিরাপদ রাখা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলন-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। হেইলিবারি ভালুকা ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষা নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সুরক্ষা পেশাজীবীরা অংশ নেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে ব্যাপক পরিসরে বিভিন্ন সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নিয়েছে। পড়াশোনার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ বর্তমান সরকার। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান সারওয়াত রেজা বলেন, বিদ্যালয়ের উৎকর্ষতার ধারণাকে একাডেমিক ফলাফলের বাইরে নিয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি।

হেইলিবারি ভালুকার প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক সাইমন ও’গ্রেডি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিদ্যালয় নেতাদের দৃশ্যমান, অনুসন্ধিৎসু, সাহসী, ধারাবাহিক, তথ্য-প্রমাণনির্ভর ও শেখার মানসিকতাসম্পন্ন হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর শারীরিক ও মানসিক শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করার হার কমে যাওয়া, অভিযোগ না জানানোর প্রবণতা এবং কর্তৃত্বকে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতার মতো বিষয় উঠে আসে।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শিশু সুরক্ষায় শুধু নীতিমালা তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। কোনো উদ্বেগ দেখা দিলে কী করতে হবে, কার কাছে জানাতে হবে, কীভাবে তা নথিভুক্ত করতে হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—এসব বিষয়ে শিক্ষক, কর্মী ও বিদ্যালয় নেতৃত্বের স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।

সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘আপনি কী করতেন যদি...?’ শীর্ষক অংশগ্রহণমূলক অধিবেশন। সাইমন ও’গ্রেডির পরিচালনায় এতে শিক্ষা নেতারা শিক্ষার্থীর আত্মক্ষতি, বিদ্যালয়ের কর্মীর আচরণ নিয়ে অভিযোগ, নিপীড়ন ও অন্তর্ভুক্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এসব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ, প্রতিবেদন করার দায়িত্ব, গোপনীয়তা রক্ষা, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিয়ে মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।

সম্মেলনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে স্পষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ, উদ্বেগ প্রকাশের নিরাপদ পরিবেশ তৈরি, পেশাগত প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার নিয়মিত পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থী সুরক্ষা কোনো একটি নীতিমালা বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির একক দায়িত্ব নয়। এটি কার্যকর করতে প্রয়োজন নেতৃত্ব, জবাবদিহিতা, তথ্য-প্রমাণ, পেশাগত উন্নয়ন এবং পুরো বিদ্যালয়জুড়ে সম্মিলিত দায়িত্ববোধ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরও পড়ুন

×