ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেটে হাম উপসর্গে এক দিনে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় দুইশ

সিলেটে হাম উপসর্গে এক দিনে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
×

সিলেট ব্যুরো 

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:০২

সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। দিন দিন পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। এতে হাম নিয়ে বিভাগজুড়ে দেখা দিয়েছে প্রচণ্ড উদ্বেগ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হামে প্রাণ হারিয়েছে আরও তিন শিশু। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৯৩ জন রোগী। বুধবার সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে দুজনের বাড়ি সুনামগঞ্জে এবং একজনের মৌলভীবাজারে। এ নিয়ে হাম ও সন্দেহভাজন হামে বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৬৮ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের, আর বাকি ১৫৮ জনের মৃত্যু সন্দেহভাজন হাম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু সুনামগঞ্জ ও সিলেটে। সিলেটে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৬৩ জন, সুনামগঞ্জে ৬২ জন, হবিগঞ্জে ১৯ জন এবং মৌলভীবাজারে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।

এদিকে বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন মোট ৫১৮ জন রোগী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ভর্তি ১৯২ জন। এছাড়া শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৫৪ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪৩ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২২ জন এবং হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭ জন ভর্তি আছে। বাকি রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ১৯৩ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭১ জন ভর্তি হয়েছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ৬২ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২৫ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১১ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৬ জন, বিয়ানীবাজারে ৫ জন, রাগীব-রাবেয়া ও পার্কভিউ হাসপাতালে ৪ জন করে, কোম্পানীগঞ্জে ৪ জন এবং ধর্মপাশায় ১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে সামনের দিনগুলোতে সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

আরও পড়ুন

×