ফুলবাড়ীতে হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা ধসে আহত ৫, আতঙ্কে ছোটাছুটি
জরুরি বিভাগে রোগীর ড্রেসিং ও চিকিৎসা চলার সময় হঠাৎ করে ছাদের পলেস্তারা প্লাস্টিকের সিলিং ভেদ করে নিচে মেঝেতে আছড়ে পড়ে। ছবি: সমকাল
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৫১ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:০৫
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে রোগীর ড্রেসিং ও চিকিৎসা চলার সময় হঠাৎ করে ছাদের পলেস্তারা প্লাস্টিকের সিলিং ভেদ করে নিচে মেঝেতে আছড়ে পড়ে। এ সময় সুজাপুর প্রফেসরপাড়ার ফেরদৌস (২০) নামে এক যুবকের ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করা হচ্ছিল এবং পাশের বেডে শিবনগর ইউনিয়নের রহিমা বেগম (৪০) পা ভাঙা অবস্থায় শুয়ে ছিলেন।
আকস্মিক এই ঘটনায় বিকট শব্দ হলে রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতরা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
জরুরি বিভাগে কর্মরত ব্রাদার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সে সময় ঘরে অনেক রোগী ও স্বজন উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়লে সবাই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শামীমা আক্তার সুইটি জানান, জরুরি বিভাগে পর্যাপ্ত ভিড় থাকায় পলেস্তারা পড়ে অনিক (২৪), মিরপুরের আব্বাস আলী (২৬) ও পাকাপানের নরেন চন্দ্রসহ (৩৮) পাঁচজন আহত হন।
জুনিয়র মেকানিক আবুজার গিফারী বলেন, ‘ভাগ্যিস ছাদের নিচে প্লাস্টিকের সিলিং দেওয়া ছিল, তা না হলে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারত।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও জরুরি বিভাগের ছাদের পলেস্তারা তিনবার ধসে পড়েছিল। প্রায় তিন বছর পরপর এটি সংস্কার করা হলেও এবারসহ মোট চারবার ধসের ঘটনা ঘটল। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে ভবনটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সেবা নিতে আসা রোগী, স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই বিপজ্জনক পুরোনো ভবনটিকে দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর পরই স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী এ জেড এম মোস্তাহিদুল ইসলামসহ দুই কর্মকর্তা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা স্বীকার করেন যে, ভবনটি জরুরি ভিত্তিতে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সাজেদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বারবার পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো সত্ত্বেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত পাশের কক্ষে জরুরি বিভাগের সেবা কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়েছে।’
- বিষয় :
- দিনাজপুর
- ফুলবাড়ী
- আহত
- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স