ট্রান্সফরমার চুরির প্রতিরোধের ব্যর্থতা
আদালতের আদেশে মতলব উত্তর থানার ওসিকে অপসারণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো ও চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৪৫ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৫৭
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও চুরির ঘটনায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগে আদালতের আদেশে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে অপসারণ করা হয়েছে। তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন) নাজিমুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রুটিন বদলির অংশ হিসেবে তাকে বদলি করা হয়েছে।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহর আদালত ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় মামলা না নেওয়ায় ওসি কামরুল হাসানকে দায়িত্ব পালনে ‘অযোগ্য ও অদক্ষ’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন আদালত।
আদালত আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ওসির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে তা সার্ভিস বুকে সংরক্ষণ এবং আদালতকে অবহিত করতে বলেছেন। একই আদেশে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়া ২৩টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় তিন কার্যদিবসের মধ্যে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার সাড়ে তিন মাসে ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় পৃথকভাবে থানায় মামলা করার আবেদন করেন। এর মধ্যে ২৩টি আবেদন এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত না করায় ওসি কামরুল হাসানকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়। পরে তিনি লিখিত জবাব দিয়ে অব্যাহতি চান।
জবাবে ওসি দাবি করেন, বাদীর পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর না থাকায় মামলা করা সম্ভব হয়নি। তবে আদালত নথি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রতিটি আবেদনে ঘটনার স্থান, তারিখ ও চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের সিরিয়াল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ ছিল।
আদালত বলেন, গত ১ মে থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ২৫টি স্মারকের মাধ্যমে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় মামলা করার আবেদন করা হলেও ৪ আগস্ট দুটি ঘটনায় আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রতিবেদন চাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো মামলা করেননি ওসি। পরবর্তী সময়েও অবশিষ্ট ২৩টি আবেদনের বিষয়ে কারণ দর্শানোর আগ পর্যন্ত মামলা হয়নি।
আদেশে আদালত মন্তব্য করেন, ট্রান্সফরমার চুরির মতো আমলযোগ্য অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পরও এফআইআর না করা দায়িত্বে অবহেলার শামিল। এতে পল্লী বিদ্যুতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ চুরির পুনরাবৃত্তি উৎসাহিত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়ে জনরোষ সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আদালত আরও বলেন, আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদ পাওয়ার পরও এফআইআর না করে ওসি পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গলের ২৪৩ ও ২৪৪ বিধি এবং ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৫৪ ধারার বিধান লঙ্ঘন করেছেন। তাঁর এমন নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলা দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৬৬ ও ২১৭ এবং দ্য পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৬১-এর ২৯ ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আদেশে বলা হয়, ‘নিষ্ক্রিয়, উদাসীন ও দায়িত্বে অবহেলাকারী’ ব্যক্তি থানার ওসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অযোগ্য ও অদক্ষ—বিষয়টি আদালতের কাছে সুস্পষ্ট। তাই তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
- বিষয় :
- ওসি
- প্রত্যাহার