ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুরে নাশকতার চেষ্টা চালালে ছাড় দেওয়া হবে না: পুলিশ সুপার

জঙ্গল সলিমপুরে নাশকতার চেষ্টা চালালে ছাড় দেওয়া হবে না: পুলিশ সুপার
×

ছবি- সমকাল

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:০৬ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৪৭

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে তিন বাহিনীর দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নেন। চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তিনটি দলে ভাগ হয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান ও মহড়া চালান। অভিযান শেষে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের নাশকতার চেষ্টা চালালে ছাড় দেওয়া হবে না।

সন্ত্রাসীরা আবার সংগঠিত হচ্ছে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চলা অভিযানে বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের আশ্বস্ত করে বলা হয়, কাউকে উচ্ছেদ বা বিতাড়িত করা হবে না। বরং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সেখানে ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্ক দূর করার পাশাপাশি সন্ত্রাসীদেরও বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য ক্যাম্পের যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীদের কেউ কেউ গোপনে রাতে এলাকায় আসছে। তাদের অনুসারীরা গোপনে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

গত ৯ মার্চ যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের পর প্রশাসন জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে সন্ত্রাসীদের ‘বাদশা’ হিসেবে পরিচিত ইয়াসিন, রোকন মেম্বার ও ছিন্নমূল নেতা মশিউর এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তারা আত্মগোপনে থাকলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির সদস্যরা গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর আগে গত অক্টোবরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় এক র‌্যাব কর্মকর্তা নিহত ও র‌্যাব-পুলিশের একাধিক সদস্য আহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে একটি চক্র।

এদিকে গত ১ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ডে আত্মগোপনে থাকা রোকন মেম্বারকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা অবস্থায় দেখা গেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে। ওই সময় সেখানে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিও দেখা যায়। গোলাগুলি ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রোকন মেম্বারের নাম ১০ নম্বরে রয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

×