ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে কারখানা বন্ধ হয়নি

উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে কারখানা বন্ধ হয়নি
×

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে পোশাক খাতের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথনকশা বিষয়ে আয়ােজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, সহসভাপতি মিজানুর রহমান, পরিচালক এবিএম শামসুদ্দিনসহ অন্যরা ফটাে রিলিজ

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩২ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫১

| প্রিন্ট সংস্করণ

গত প্রায় দুই মাসে তীব্র জ্বালানি সংকটে পোশাক কারখানা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করেছে। গ্যাস- বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন কার্যক্রমে কর্মঘণ্টা বেশি লেগেছে। এতে বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। তবে এই সংকটের কারণে কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি। অবশ্য জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে আগামীতে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 
গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। পোশাক খাতের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথনকশা তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের পরিচালনা বাের্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পোশাক শিল্পে জ্বালানি সংকট ও এর অভিঘাতে কারখানা বন্ধ হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, হঠাৎ কোনো অভিঘাত এলেই কারখানা বন্ধ হয়ে যায় না। কয়েক মাস পর অভিঘাতটা বোঝা যায়। আবার কোনো কারখানা বন্ধ হলে সেটার জন্য জ্বালানি সংকট দায়ী নাও হতে পারে। কারণ কারখানা বন্ধ হওয়া ও নতুন কারখানা চালু হওয়া নিয়মিত ঘটনা। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এক সময় বিজিএমইএর সদস্য কারখানার সংখ্যা ছিল ৭ হাজার। এখন তা ৩ হাজারেরও কম। কারখানা বন্ধ হওয়ার পেছনে ব্র্যান্ড-ক্রেতাদের দেওয়া রপ্তানি আদেশ, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের সক্ষমতার বিষয় জড়িত। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটে কোনো কারখানা বন্ধ না হলেও বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। 
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। অন্তত আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পাশাপাশি স্থলভিত্তিক এলএনজি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা দরকার। এ ছাড়া তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে গ্যাস সাশ্রয় করে তা কারখানায় সরবরাহের প্রস্তাব দেন মাহমুদ হাসান খান।

শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গত তিন বছরে পোশাক ব্যবসায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়নি। এর মধ্যে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বড় আমদানিকারক দেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, যুদ্ধ, জাহাজ চলাচল ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা পোশাক শিল্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে কাস্টমস-বন্ডে হয়রানি হয়। এ কারণে ব্যবসার খরচ ও পণ্য সরবরাহে সময় বেড়ে যায়। কাস্টমসের হয়রানি থেকে এখনও পুরোপুরি উত্তরণ হয়নি। তবে প্রক্রিয়া চলছে। অনেক কার্যক্রম ডিজিটাল করা হচ্ছে। ব্যবসা পরিচালনা প্রক্রিয়া এখন বেশ জটিল। এখনও ২১টি পৃথক লাইসেন্স নিতে হয় উদ্যোক্তাদের। এ রকম জটিল প্রক্রিয়ার কারণে উদ্যোক্তাদের মধ্যে ভীতি রয়েছে। এ কারণে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) যথেষ্ট বাড়ছে না। 
বিভিন্ন চ্যলেঞ্জ মোকাবিলায় জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, ঋণ পেতে ব্যাংকের উচ্চ হারের সুদ কমিয়ে আনা, ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় কমিয়ে আনা, বন্ড অডিটের জন্য দেশের পেশাদার নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত করে স্থায়ী নীতিমালা করার প্রস্তাব দিয়েছে বিজিএমইএ। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমদানি করা পণ্যের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক স্থায়ী কার্গো শেড নির্মাণের দাবি জানানো হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। 

১৩ বছর পর বাটেক্সপো 
তৈরি পোশাকের ব্র্যান্ড ইমেজ বাড়াতে প্রতিবছর বড় আয়োজনে প্রদর্শনীর আয়োজন করে থাকে বিজিএমইএ। গত ১৩ বছর আয়োজনটি বন্ধ ছিল। এই আয়োজনটি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৮ নভেম্বর রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাটেক্সপো উদ্বোধন করবেন। পরদিন সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন ক্রেতা ও বাজার খোঁজার উদ্দেশ্যে এই আয়োজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের পোশাকশিল্পের পরিবর্তন, উচ্চমূল্যের পণ্য, প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরা হবে এই আয়োজনে। এবারের বাটেক্সপোতে গ্লোবাল অ্যাপারেল এক্সপো, গ্লোবাল অ্যাপারেল সামিট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবন হাব, টেকসই ও চক্রাকার অর্থনীতির প্রদর্শনী, টেকসই নেতৃত্ব পুরস্কার ও ফ্যাশন রানওয়ের আয়োজন থাকবে।
বিজিএমইএ সভাপতি জানান, নতুন বাজার ও ক্রেতা খোঁজার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ২৮ ও ২৯ অক্টোবর হংকংয়ে বাংলাদেশ অ্যাপারেল রোড শো, হংকং ২০২৬ আয়োজন করা হবে। হংকংয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের সরাসরি যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে যেসব
ব্র্যান্ড ও ক্রেতা এখনও বাংলাদেশ থেকে পোশাক সংগ্রহ করেন না, তাদের লক্ষ্য করেই রোড শো আয়োজন করা হচ্ছে। জাপানি ব্র্যান্ড ও বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বিজিএমইএ কার্যালয়ে বিজিএমইএ-জাপান ডেস্ক চালু হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×