ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অটোরিকশার গ্যারেজে ডিপিডিসির অভিযান নিয়ে প্রশ্ন

অটোরিকশার গ্যারেজে ডিপিডিসির  অভিযান নিয়ে প্রশ্ন
×

ডিপিডিসির অভিযানে জব্দ করা অটোরিকশা গ্যারেজের বিভিন্ন সরঞ্জাম সমকাল

 সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যুৎ চুরি রোধে সিদ্ধিরগঞ্জের অটোরিকশার কয়েকটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)। এ সময় তিন এলাকার পাঁচটি গ্যারেজ মালিককে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে ওসব এলাকায় প্রায় অর্ধশত গ্যারেজ থাকলেও মাত্র পাঁচটিতে অভিযান চালানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
ডিপিডিসির সিদ্ধিরগঞ্জ নেটওয়ার্ক অপারেশন অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস (এনওসিএস) শাখা গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত অভিযান চালায়। এতে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারিফ আল তাওহীদ নেতৃত্ব দেন।

অভিযানে সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা এলাকায় জসিম উদ্দিনের অটোরিকশার গ্যারেজে বিদ্যুতের চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত লোড ও পার্শ্ববর্তী তাঁর আরেকটি গ্যারেজে মিটারছাড়া সংযোগ নেওয়ার অপরাধে বিদ্যুৎ আইনের ৩৮ ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং পাশের গ্যারেজটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। 
এ ছাড়া বাতানপাড়া ক্যানেলপাড়ে একই অভিযোগে মো. রাজা নামের এক অটোরিকশার গ্যারেজের মালিককে ১ লাখ টাকা এবং পাশেই থাকা মজিবুর রহমানের অটোরিকশার গ্যারেজে বিদ্যুৎ চুরি ও অতিরিক্ত লোড পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গোদনাইল চৌধুরী বাড়ি এলাকায় জামিল ইজিবাইকের মালিক মো. শাকিলের তিনটি গ্যারেজে বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোড ব্যবহার করার অভিযোগে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট। কারাদণ্ড এড়াতে রাতেই জরিমানার টাকা দেন মো. শাকিল। 
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ডিপিডিসির সিদ্ধিরগঞ্জ এনওসিএস কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী মো. রাহুল, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সানোয়ার হোসেন, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. অলিউল্ল্যাহসহ ডিপিডিসির অন্য সদস্যরা। থানা পুলিশের সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 
বিদ্যুৎ আইনের ৩২ ও ৩৮ ধারায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিফ আল তাওহীদ। তিনি বলেন, কয়েকটি অটোরিকশার গ্যারেজকে চার লাখ টাকা জরিমানা করে তা আদায় করা হয়েছে। 

ডিপিডিসির এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও স্থানীয়রা অভিযানের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সিআইখোলার বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ রয়েছে। অনেকগুলোতেই দিনের বেলা মিটার সংযোগ দিয়ে অটোরিকশায় চার্জ করা হয়। কিন্তু রাতের বেলায় মিটার ছাড়াই বিদ্যুৎ চুরি করে চার্জ করা হয়। এটি প্রকাশ্যেই ঘটে এবং স্থানীয়দের অনেকেই তা জানেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যবহার করা অনেক গ্যারেজই রহস্যজনকভাবে অভিযান থেকে বাদ পড়েছে। ওইসব গ্যারেজের সঙ্গে ডিপিডিসির মিটার রিডিং সংগ্রহকারীদের গোপন আঁতাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ডিপিডিসির সিদ্ধিরগঞ্জ নেটওয়ার্ক অপারেশন অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. রাহুল বলেন, অটোরিকশার গ্যারেজ মালিকদের সঙ্গে মিটার রিডিং সংগ্রহকারীদের আঁতাতের প্রমাণ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, একসঙ্গে এতগুলো গ্যারেজে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। আমরা পর্যায়ক্রমে অভিযান চালাব। বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যবহার করলে কেউ পার পাবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, যে তিনটি এলাকায় ডিপিডিসি অভিযান চালায়, সেখানে অটোরিকশার গ্যারেজ রয়েছে প্রায় অর্ধশত। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা চুনা ফ্যাক্টরির পশ্চিম পাশে জসিম উদ্দিনের অটোরিকশার গ্যারেজে অভিযান চালালেও একই এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি গ্যারেজ রয়েছে। এর মধ্য রয়েছে রুবেল, ওসমান, হাবিবুল্লাহ ও শাওনের অটোরিকশার গ্যারেজসহ আরও অন্তত ১০টি। একই ওয়ার্ডের বাতানপাড়ার ক্যানেলপাড়ে রাজা ও মজিবুর রহমানের গ্যারেজে অভিযান চালানো হয়। একই এলাকায় রয়েছে  জহিরুল ইসলাম, নান্নু, আবদুল আলী, আমজাদ হোসেনের গ্যারেজসহ আরও ৮-১০টি অটোরিকশার গ্যারেজ। ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাইনাদি এলাকায় কাশেম, রিয়াজুল ইসলাম ও মো. ফারুকের গ্যারেজ রয়েছে। চৌধুরীবাড়ি এলাকার ভবঘুরে আশ্রয়কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে মো. শাকিলের অটোরিকশার গ্যারেজে অভিযান পরিচালিত হলেও একই এলাকায় রয়েছে আরও ১০টি গ্যারেজ।  
চৌধুরীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ছানোয়ার হোসেন বলেন, এই এলাকায় কমপক্ষে ১০টি অটোরিকশার গ্যারেজ রয়েছে। কিন্তু ডিপিডিসি শুধু একটি গ্যারেজে গেছে।

আরও পড়ুন

×