ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বিদেশি ঋণ

জাপান ছাড়া বড় কোনো উন্নয়ন সহযোগী প্রতিশ্রুতি দেয়নি

জাপান ছাড়া বড় কোনো উন্নয়ন সহযোগী প্রতিশ্রুতি দেয়নি
×
×

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১৪ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

গত কয়েক মাস ধরে বিদেশি ঋণ পরিশোধেচাপ ক্রমেই বাড়ছে। সেই অনুপাতে অর্থছাড় করছে না উন্নয়ন সহযোগীরা। অন্যদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জাপান ছাড়া বড় আর কোনো উন্নয়ন সহযোগী নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। বড় বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশিয়ান অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংকের (এআইআইবি) পক্ষ থেকে প্রথম প্রান্তিকে নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি মেলেনি। চীন, ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকেও পাওয়া যায়নি কোনো প্রতিশ্রুতি। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জাপান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে নতুন বেশ কিছু চুক্তির কারণে মোট প্রতিশ্রুতির পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। গতকাল সোমবার সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ঋণ বা অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সেটিকে প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। 

ইআরডির প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জাপান ৩৫ লাখ ১০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অবশ্য গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে জাপানেরও কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান সফরে রয়েছেন। এই সফরে আগামী ৫ বছরের জন্য ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও বিনিয়োগ চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে গতকাল সমকালকে জানিয়েছেন ইআরডির জাপান উইংয়ের একজন কর্মকর্তা। 

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পাওয়া বাকি প্রতিশ্রুতি এসেছে ‘অন্যান্য’ ক্যাটেগরির দেশ থেকে। এই ক্যাটেগরির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে ১১৫ কোটি ডলার। দুটি ঋণ চুক্তির অধীনে এই প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে এই দেশগুলোরও কোনো ঋণ প্রতিশ্রুতি ছিল না। ইউরোপ থেকে ৬ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যা ৩টি অনুদান চুক্তির অধীনে এসেছে। সব মিলিয়েমোট দুটি ঋণচুক্তি ও ১১টি অনুদান চুক্তি হয়েছে গত প্রান্তিকে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইআরডির কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ দিয়ে থাকেন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে। সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের গতি দীর্ঘদিন ধরে শ্লথ। গত প্রান্তিকে এডিপি বাস্তবায়নের হার এযাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে কম হয়েছে। এডিপি বাস্তবায়নের এই ধীরগতির কারণে নতুন করে ঋণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না বড় উন্নয়ন সহযোগী অনেক সংস্থা ও দেশ। একই কারণে ঋণের অর্থছাড়ও কমে যাচ্ছে। 

গত প্রান্তিকে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড়ের পরিমাণ মাত্র ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ডলারে নেমে এসেছে। আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ১০০ কোটি ডলারের ওপরে। অর্থাৎ ছাড় কমেছে ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ বা ৪৮ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। পাওয়া অর্থের মধ্যে ঋণ বাবদ এসেছে ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ডলার। বাকি ১১ কোটি ডলার পাওয়া গেছে অনুদান হিসেবে।

প্রতিবেদন বলছে, গত প্রান্তিকে পরিমাণে বেশি অর্থছাড় এসেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সফট লোন উইনডোখ্যাত সংস্থা আইডিএ থেকে। অর্থছাড়ের পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ কোটি ডলারের অর্থছাড় এসেছে এডিবি থেকে। ভারত থেকে এসেছে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। জাপানের অর্থছাড় খুব বেশি নয় মাত্র ৪ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। অন্যান্য ক্যাটেগরির দেশ থেকে এসেছে ১২ কোটি ডলারের মতো। 

ঋণের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থছাড় কমলেও সুদাসলে পুরোনো ঋণ পরিশোধ বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি, যা বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ও রাষ্ট্রীয় তহবিলে প্রভাব ফেলছে। গত প্রান্তিকে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ১২৮ কোটি ডলারের কিছু কম। পরিশোধিত দেনার মধ্য মূল ঋণ প্রায় ৮৬ কোটি ডলার। বাকি ৪৯ কোটি ডলার সুদ। 

আরও পড়ুন

×