বাংলাদেশ ব্যাংক
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেন
আয়কর নথিতে অসংগতি, একের পর এক জমি, সঞ্চয়পত্র কিনেছেন
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪৩ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের অন্যতম কাজ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সন্দেহজনক লেনদেন তদারক করে ব্যবস্থা নেওয়া। অথচ এই বিভাগের একজন যুগ্ম পরিচালক নিজেই জড়িয়েছেন সন্দেহজনক লেনদেনে। তাঁর আয়কর নথিতে উল্লেখ নেই এমন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা ও উত্তোলন হয়েছে। বেতন-ভাতার পুরো টাকা ঋণ ও বাসা ভাড়ার জন্য কেটে নেওয়ার পরও তিনি একের পর এক জমি কিনেছেন। নিজের ও স্ত্রীর নামে বড় অংকের সঞ্চয়পত্র, এফডিআর খুলেছেন। শেয়ারবাজারেও করেছেন বিনিয়োগ। নিজের তথ্য গোপন করে মুদি দোকানদার পরিচয়ে খুলেছেন ‘বিকাশ’ অ্যাকাউন্ট ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর প্রভাবশালী হয়ে ওঠা ওই কর্মকর্তার নাম মো. মোশাররফ হোসেন। তিনি ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দেন। এখন পঞ্চম গ্রেডে বেতনভুক্ত কর্মকর্তা। মূল বেতন ৫৬ হাজার ৩০ টাকা এবং অন্যান্য ভাতাসহ সব মিলিয়ে প্রতি মাসে চাকরি বাবদ পান ৯০ হাজার টাকার মতো। মোশাররফের গৃহনির্মাণ ও গাড়ির ঋণ বাবদ কর্তন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কোয়ার্টারে থাকার বাসা ভাড়ার টাকা কেটে নেওয়ার পর বেতন-ভাতার এক টাকাও তাঁর অ্যাকাউন্টে যায় না।
মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে অপেশাদার আচরণের বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনা তদন্তাধীন। প্রথম ঘটনা গত ২৬ ফেব্রুয়ারির; নতুন গভর্নর নিয়োগের দিন। ওই দিন মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি গভর্নর ড. কবির আহম্মদ ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলামকে জোরপূর্বক কিছু আদেশে সই করতে বাধ্য করেন মোশাররফের নেতৃত্বে কয়েক কর্মকর্তা। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকে তদন্ত চলছে।
দ্বিতীয় ঘটনা তদবিরের। আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. এইচবিএম ইকবালের বিরুদ্ধে বিএফআইইউ যেন কোনো ব্যবস্থা না নেয়, সে জন্য একজন নির্বাহী পরিচালকের কাছে তদবির নিয়ে যান তিনি। এ ক্ষেত্রে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতার রেফারেন্স দেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
মোশাররফ হোসেনকে প্রায়ই নিজ দপ্তরের কাজ বাদ দিয়ে উচ্চপদস্থ নির্বাহীদের ফ্লোরে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তদবির নিয়ে অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রুমে সরাসরি ঢুকে যান। গত মাসে তিনি বিতর্কিত এক ব্যবসায়ীকে সঙ্গে নিয়ে বিএফআইইউ প্রধানের রুমে ঢুকে পড়েন। গত বছরের জানুয়ারিতে ঘোষিত বিশেষ ঋণ পুনঃতপশিলের আওতায় কিছু গ্রাহকের সুবিধা আদায় করে দিতে তিনি তৎপর ছিলেন। তাঁর বেপরোয়া আচরণ নিয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিএনপিপন্থি কর্মকর্তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে গভর্নরের হস্তক্ষেপ চেয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
সমকালের অনুসন্ধানে দেখা যায়, মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২০১৯ সালে গৃহনির্মাণের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নেন। এখন যার বকেয়া স্থিতি এক কোটি ২ লাখ ২৯ হাজার টাকা। এর বাইরে গাড়ি কিনতে ঋণ নিয়েছেন ৩০ লাখ টাকা। এখন যার বকেয়া ২৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। তাঁর আয়কর নথিতে কৃষি সম্পত্তি ক্রয় দেখানো হয়েছে ৭৯ লাখ টাকার। অকৃষি জমি বা ভবন নির্মাণ ব্যয়ের ঘর দেখানো হয়েছে শূন্য। এর মানে, তিনি ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেননি।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মচারী সমবায় সমিতিতে মোশাররফের হিসাবের ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২২ মাসের লেনদেনের তথ্য রয়েছে সমকালের হাতে। এতে দেখা যাচ্ছে, সব কর্তনের পর প্রতি মাসে বেতন বাবদ প্রতীকী ৫ পয়সা জমা হয়েছে তাঁর হিসাবে। বেতনের বাইরে তাঁর হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া উৎসব বোনাস, বৈশাখী ভাতা, উৎসাহ বোনাস জমা হয়। এর বাইরে দুপুরের খাবারের বিল, ইন্টারনেট ও মোবাইল ভাতা যায়। এসব ভাতা বাবদ প্রতি মাসে গড়ে ১০ হাজার টাকার মতো পান তিনি।
বিভিন্ন ভাতা ও বিলের বাইরে গত ২২ মাসে মোশাররফের হিসাবে ৩৭ লাখ ৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে ভাউচারে নগদ জমা করেছেন ২৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অন্য ব্যাংক থেকে ক্লিয়ারিং হয়ে ঢুকেছে ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। হিসাব বিবরণীতে এসব অর্থের উৎস সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই।
মোশাররফের সমিতির হিসাবে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ৮৫ হাজার টাকা জমা হয়। একই মাসের ২৬ তারিখ অন্য ব্যাংক থেকে ক্লিয়ারিং হয়ে ঢুকেছে ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। চলতি বছরের মার্চে পাঁচ দফায় নগদ ভাউচারে ১২ লাখ ৫ হাজার টাকা জমা হয়। এরপর কিছুটা বিরতি দিয়ে গত ১২ জুলাই নগদ ভাউচারে ৫ লাখ টাকা জমা করেন তিনি। সবশেষ গত ৪ আগস্ট নগদ জমা হয় আরও ৫ লাখ টাকা। গত বছরের ১ জানুয়ারি নগদ ভাউচারে তাঁর হিসাবে জমা হয় এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৯০ টাকা। এভাবে ধারাবাহিক তিনি নগদ অর্থ জমা করেছেন।
ব্যাংক হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেন
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণদান সমিতির বাইরে মোশাররফ হোসেনের নামে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছে সমকাল। ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ সঞ্চয়ী হিসাবটি খোলা হয়। এই হিসাবের তথ্য তাঁর আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ নেই। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এখানে মোট ২ কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার টাকা জমা হয়েছে। প্রায় সমপরিমাণ উত্তোলন এবং সার্ভিস চার্জসহ অন্যান্য কর্তনের পর এখন স্থিতি মাত্র ৩ হাজার ৪৫০ টাকা।
এই হিসাবে মোশাররফের নামে সঞ্চয়পত্র ক্রয় বাবদ ৪০ লাখ টাকা জমার তথ্য রয়েছে। তাঁর আয়কর নথিতে এর উল্লেখ নেই। এই হিসাবে বিভিন্ন সময়ে তিনি নগদ জমা করেছেন ৪০ লাখ ৪০ হাজার ৭৩৭ টাকা। আরটিজিএসসহ বিভিন্ন উপায়ে অন্য ব্যাংক থেকে স্থানান্তর করে এনেছেন ২৪ লাখ ৮০ হাজার ৫০ টাকা। শেয়ার বেচাকেনা ও লভ্যাংশ হিসেবে জমা হয়েছে ২৯ লাখ ৪০ হাজার ১৮৮ টাকা। এর বাইরে মোবাইল ওয়ালেট, এটিএম রিভার্স ও সঞ্চয়ী হিসাবের মুনাফার বিপরীতে বাকি অর্থ জমা হয়েছে তাঁর এই হিসাবে।
মুদি দোকানদার পরিচয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্ট
মোশাররফ হোসেনের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দিয়ে এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’-এ ২০২১ সালে অ্যাকাউন্ট খোলেন। যেখানে পেশার ঘরে লিখেছেন ‘মালিক, মুদি দোকান সবুজবাগ, ঢাকা’। ব্যাংক বা এমএফএসের অ্যাকাউন্টে ব্যক্তি হিসাবে বড় লেনদেন হলে সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন হিসেবে তা বিএফআইইউতে রিপোর্ট হয়। অ্যাকাউন্টে লেনদেনের তথ্য আড়াল করতে তিনি মুদি দোকানদার পরিচয়ে ‘বিকাশ’ অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। তথ্য গোপনের মাধ্যমে তিনি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ করেছেন।
স্ত্রীর হিসাবে বিপুল লেনদেন
মোশাররফের স্ত্রী উম্মে হাসান ডলির হিসাবেও বিপুল অংকের টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি জনতা ব্যাংকে ২০২১ সালে ২৬ হাজার ৪০০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করে এখন সাকল্যে বেতন-ভাতা বাবদ মাসে পান ৩০ হাজার টাকা। চাকরির শুরু থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেতন-ভাতা হিসেবে তিনি মোট ১৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা পেয়েছেন। অথচ বেতনের ১০ গুণ তথা এক কোটি ৮৭ লাখ টাকা জমা হয়েছে ব্যাংকটির কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ শাখায় তাঁর হিসাবে। এর বাইরে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকে তাঁর আরেকটি হিসাবে জমা হয় এক কোটি ১৫ লাখ টাকা। এসব অর্থের বড় অংশই মোশাররফের অ্যাকাউন্ট থেকে এসেছে।
২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জনতা ব্যাংকে মোশাররফের স্ত্রীর হিসাবে শুধু বেতন-ভাতার টাকা জমা হয়। তবে ওই বছর নভেম্বরে হঠাৎ নগদ ৮ লাখ টাকা জমা হয়। এরপর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়। এরপর চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ২২ লাখ টাকা নগদে জমা হয় তাঁর হিসাবে।
উম্মে হাসান ডলির নামে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয় ২০২০ সালে। এই হিসাবের বিপরীতে তাঁর সঞ্চয়পত্র রয়েছে আরও ৪৩ লাখ টাকার। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কিনেছেন ২৩ লাখ টাকা; ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ১০ লাখ; ২৮ সেপ্টেম্বর ৫ লাখ এবং ২৬ নভেম্বর ২ লাখ টাকার। এই হিসাবে নগদ জমা হয়েছে ২৯ লাখ ৬৫ হাজার এবং অন্য হিসাব থেকে ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দুই ধাপে এসেছে ১৯ লাখ টাকা।
আয়কর রিটার্নে অসংগতি
আয়কর রিটার্নে মোশাররফ হোসেন ভূরুলিয়া মৌজায় ৭৯ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের তিনটি জমির মালিকানা দেখিয়েছেন। এর মধ্যে ২৭৪৩ নম্বর দলিলে ২০১৯ সালে মোছা. আছমা আক্তার ও জামান মোল্লার কাছ থেকে কিনেছেন ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ জমি। যার মূল্য দেখানো হয় ৪০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আর ১৪৫৮০ নম্বর দলিলে ৩৮ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ টাকায় কিনেছেন ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জমি। এর মধ্যে নিজ নামে ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ কিনেছেন ২১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৬ টাকায়। আর নাবালক পুত্রের নামে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি কিনেছেন ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৩৬৪ টাকায়। এই দুটি জমি কিনেছেন স্থানীয় অপূর্ব চন্দ্র পাল, অমল চন্দ্র পাল ও মাধবী পালের কাছ থেকে।
গাজীপুরের ভূরুলিয়া মৌজায় মোশাররফ হোসেনের আয়কর নথিতে উল্লেখ নেই এ রকম ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ জমির সন্ধান মিলেছে। দুটি দলিলের বিপরীতে অন্য দুজনের সঙ্গে যৌথভাবে এই জমিও কিনেছেন অপূর্ব চন্দ্র পাল ও অমল চন্দ্র পালের কাছ থেকে। একই মৌজায় ২৬৬৬ নম্বর দলিল ও ৮১৪৪ নম্বর দলিলে কেনা উভয় জমির পরিমাণ ৩১ দশমিক ৩৩ শতাংশ করে। যৌথ মালিকানায় কেনা দুই ব্যক্তির বাড়ি মোশাররফের গ্রামের পার্শ্ববর্তী গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাওনাট এলাকায়।
মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য
সমকালের কাছে মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, তাঁর সমস্ত লেনদেনের পেছনে ব্যাংকিং রেকর্ড রয়েছে এবং কোনো অনুপার্জিত বা অবৈধ অর্থ তাঁর হিসাবে ঢোকেনি। সমস্ত অর্থই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া তাঁর গৃহনির্মাণ ও গাড়ি ঋণ, সঞ্চয়পত্র ভাঙানো টাকা এবং সহকর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া ধারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
জমি বিক্রেতা অমল চন্দ্র পালকে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব থেকে ৪৮ লাখ টাকা স্থানান্তর বিষয়ে মোশাররফ হোসেন জানান, এই অর্থ মূলত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া তাঁর গৃহনির্মাণ ঋণ এবং মেয়াদি সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর টাকা থেকে এসেছে। সঞ্চয়পত্র মেয়াদপূর্তির পর জমি বায়নার টাকা পরিশোধের সুবিধার্থে তিন মাসের জন্য স্ত্রীর নামে একটি এফডিআর করা হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষে জমি পেমেন্টে ব্যবহৃত হয়। এত অল্প মেয়াদের হওয়ায় এটি আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
সমিতির হিসাব ছাড়াও নিজ ও স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে সুনির্দিষ্টভাবে বড় অঙ্কের লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এগুলো সহকর্মীদের থেকে নেওয়া ঋণ। ক্যাশ ভাউচারে প্রচুর টাকা জমা ও উত্তোলনের কারণ হিসেবে তিনি জানান, এসব অর্থের বড় একটি অংশ সহকর্মীদের থেকে নেওয়া ধার। গত তিন-চার মাসে সহকর্মীদের থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা ধার নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারি কর্মকর্তা হয়েও পেশা ‘মুদি দোকানদার’ উল্লেখ করে বিকাশ নাম্বার খোলার কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ২০১৯ সালে বিকাশ এজেন্টের কাছে গিয়ে বিকাশ হিসাব খোলার সময় এজেন্টই ভুলবশত পেশা হিসেবে তা উল্লেখ করেছে। এমন ভুল তথ্যের বিষয়টি জানা ছিল না বলেও দাবি তাঁর।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ ব্যাংক
- মানি লন্ডারিং