কাকে প্রশ্ন করব
×
আরিফুর রহমান দোলন
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২০ | ১০:৫৩ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশের মতো কলকারখানাগুলোতেও যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি, সেখানে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর তৎপরতা আসলে কী? সাধারণ ছুটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে, সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়-বিভাগের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করে কলকারখানাগুলো খোলা থাকবে কিনা, শ্রমঘন কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলে এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কতখানি এবং গার্মেন্ট মালিক বা শ্রমিকদের জন্যই-বা নির্দেশনা কী- সেটি ঠিক করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা দেওয়া উচিত ছিল। দরকার ছিল স্পষ্ট করা- যতদিন সাধারণ ছুটি থাকবে, ততদিন গার্মেন্ট শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। শুধু এর আগে গার্মেন্ট মালিকদের প্রতিনিধিদের
সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া যেত।
শুনেছি, এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়ে বিজিএমইএ সভাপতি শ্রম প্রতিমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন ৩০ মার্চ। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী কোনো সদুত্তর দেননি। একে কি দায়িত্বহীনতা, নাকি উদাসীনতা বলব? যাই বলি না কেন, এভাবে ভিড়ে ঠাসা লোকজন দলে দলে রাজধানীতে ঢুকে নিজেদের ও অন্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও রোববার অনলাইন সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেছেন। গার্মেন্ট শ্রমিকরা মূলত জীবিকার তাগিদেই রাজধানীমুখী হতে বাধ্য হয়েছেন- এ কথা তারা অনেকেই বলেছেন, যা বিভিন্ন টেলিভিশনে দিনভর প্রচার হয়েছে। কারখানা খোলার কথা না হলে শ্রমিকরা যারা গ্রামে চলে গিয়েছিলেন, তারা ঢাকায় ফিরতেন না এটি পরিস্কার। এ শ্রমিকদের এই মুহূর্তে ঢাকায় ফিরে আসা এবং তাদের নিজের ও অন্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হওয়ার দায়টা বাণিজ্যমন্ত্রীও এড়াতে পারেন না। কারণ বাণিজ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিধিবিধান মেনে গার্মেন্ট খোলা রাখা যেতে পারে। কীসের ভিত্তিতে বাণিজ্যমন্ত্রী এমন কথা বললেন তা বোধগম্য নয়। যেখানে সরকার সমানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে সরকারের মন্ত্রীই আবার পরোক্ষে শ্রমঘন কারখানা চালু রাখার পক্ষে সওয়াল করে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ানোর কাজ করলেন।
বিজিএমইএ, বিকেএমইএ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়- এমন মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। গত ৫ এপ্রিল সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, গার্মেন্ট খোলার বিষয় তাদের কেউ নাকি জানায়নি বা আলাপ করেনি। তবে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। দেশে এখন সংক্রামক ব্যাধি আইন কার্যকর রয়েছে। সেই আইন কীভাবে প্রয়োগ হবে এটি অন্যান্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করাই জরুরি।
জীবন আর জীবিকাকে একসঙ্গেই বাঁচাতে হবে। কারণ আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ), বিশ্ব ব্যাংক সবাই বলছে, মন্দায় ঢুকে গেছে বিশ্ব অর্থনীতি। জীবন বাঁচানোর জন্য ঘরে বসে থাকার সময় যত দীর্ঘ হবে, অর্থনৈতিক সংকট তত বাড়বে, এটিও সত্য। বিশ্ব অর্থনীতির পতন এখন পরিস্কার দেখতে পাচ্ছেন বড় বড় অর্থনীতিবিদরা।
তাহলে করণীয় কী? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আইএমএফের দুই শীর্ষ নির্বাহী পরিস্কারভাবে বলেছেন, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ। প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের স্বাস্থ্য খাতের বিনিয়োগ ও এর যথাযথ ব্যবহার নিয়ে। স্বাস্থ্য খাতের অপরিকল্পিত ব্যয় ফি বছরই আলোচনার বিষয়। এই খাতে সরকারিভাবে যথেষ্ট কেনাকাটা হয়। যন্ত্রপাতি আছে তো জনবল নেই, বছরের পর বছর এ কথাই শুনতে হয়, হচ্ছে। আবার যে যন্ত্রপাতির আদৌ প্রয়োজন নেই, তাও কেনা হয় পাল্লা দিয়ে। আমাদের অনেক বেশি দক্ষতা, যোগ্যতা, সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের বিনিয়োগকে রক্ষা করতে হবে। অন্যান্য খাতের সরকারি বিনিয়োগেও এ কথা প্রযোজ্য। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন- কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। এই মুহূর্তে এটি আরও বেশি কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।
হ সাংবাদিক
সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া যেত।
শুনেছি, এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়ে বিজিএমইএ সভাপতি শ্রম প্রতিমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন ৩০ মার্চ। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী কোনো সদুত্তর দেননি। একে কি দায়িত্বহীনতা, নাকি উদাসীনতা বলব? যাই বলি না কেন, এভাবে ভিড়ে ঠাসা লোকজন দলে দলে রাজধানীতে ঢুকে নিজেদের ও অন্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও রোববার অনলাইন সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেছেন। গার্মেন্ট শ্রমিকরা মূলত জীবিকার তাগিদেই রাজধানীমুখী হতে বাধ্য হয়েছেন- এ কথা তারা অনেকেই বলেছেন, যা বিভিন্ন টেলিভিশনে দিনভর প্রচার হয়েছে। কারখানা খোলার কথা না হলে শ্রমিকরা যারা গ্রামে চলে গিয়েছিলেন, তারা ঢাকায় ফিরতেন না এটি পরিস্কার। এ শ্রমিকদের এই মুহূর্তে ঢাকায় ফিরে আসা এবং তাদের নিজের ও অন্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হওয়ার দায়টা বাণিজ্যমন্ত্রীও এড়াতে পারেন না। কারণ বাণিজ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিধিবিধান মেনে গার্মেন্ট খোলা রাখা যেতে পারে। কীসের ভিত্তিতে বাণিজ্যমন্ত্রী এমন কথা বললেন তা বোধগম্য নয়। যেখানে সরকার সমানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে সরকারের মন্ত্রীই আবার পরোক্ষে শ্রমঘন কারখানা চালু রাখার পক্ষে সওয়াল করে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ানোর কাজ করলেন।
বিজিএমইএ, বিকেএমইএ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়- এমন মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। গত ৫ এপ্রিল সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, গার্মেন্ট খোলার বিষয় তাদের কেউ নাকি জানায়নি বা আলাপ করেনি। তবে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। দেশে এখন সংক্রামক ব্যাধি আইন কার্যকর রয়েছে। সেই আইন কীভাবে প্রয়োগ হবে এটি অন্যান্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করাই জরুরি।
জীবন আর জীবিকাকে একসঙ্গেই বাঁচাতে হবে। কারণ আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ), বিশ্ব ব্যাংক সবাই বলছে, মন্দায় ঢুকে গেছে বিশ্ব অর্থনীতি। জীবন বাঁচানোর জন্য ঘরে বসে থাকার সময় যত দীর্ঘ হবে, অর্থনৈতিক সংকট তত বাড়বে, এটিও সত্য। বিশ্ব অর্থনীতির পতন এখন পরিস্কার দেখতে পাচ্ছেন বড় বড় অর্থনীতিবিদরা।
তাহলে করণীয় কী? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আইএমএফের দুই শীর্ষ নির্বাহী পরিস্কারভাবে বলেছেন, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ। প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের স্বাস্থ্য খাতের বিনিয়োগ ও এর যথাযথ ব্যবহার নিয়ে। স্বাস্থ্য খাতের অপরিকল্পিত ব্যয় ফি বছরই আলোচনার বিষয়। এই খাতে সরকারিভাবে যথেষ্ট কেনাকাটা হয়। যন্ত্রপাতি আছে তো জনবল নেই, বছরের পর বছর এ কথাই শুনতে হয়, হচ্ছে। আবার যে যন্ত্রপাতির আদৌ প্রয়োজন নেই, তাও কেনা হয় পাল্লা দিয়ে। আমাদের অনেক বেশি দক্ষতা, যোগ্যতা, সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের বিনিয়োগকে রক্ষা করতে হবে। অন্যান্য খাতের সরকারি বিনিয়োগেও এ কথা প্রযোজ্য। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন- কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। এই মুহূর্তে এটি আরও বেশি কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।
হ সাংবাদিক
