সংবাদপত্রই নির্ভরযোগ্য বন্ধু
মো. শফিকুল ইসলাম
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২০ | ১৩:১৭ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
সকালে ঘুম থেকে উঠে খবরের কাগজ পড়া এক ধরনের নিত্যদিনের বিষয়। অধিকাংশ মানুষের কাছে এটা এক ধরনের চমৎকার অভ্যাস। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। ঘুম থেকে দরজার সামনে খবরের কাগজ দেখতে না পেয়ে অনেকেই মনও খারাপ করেন। অপেক্ষা করেন কখন হকার এসে দরজার কড়া নাড়বেন এবং পত্রিকাটি হাতে নিয়ে চোখ বুলিয়ে জানবেন দেশ ও বিশ্বের কোথায় কী ঘটল। সকালে চা-বিস্কুটের সঙ্গে পত্রিকা পড়া এক অন্য ধরনের অনুভূতি। এটা যারা খবরের কাগজ পড়েন, তারা সহজেই উপলব্ধি করতে পারেন। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অনেক জায়গায় পত্রিকা বিতরণ বন্ধ রাখা হচ্ছে; যা আমি সচেতন নাগরিক হিসেবে সঠিক বলে সমর্থন করি না। পাঠকরাও কেউ কেউ বাসায় সাময়িক সময়ের জন্য পত্রিকা রাখা বন্ধ রেখেছেন। পত্রিকা দিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কোনো আশঙ্কা আছে বলে আমি মনে করি না। এমনকি আজ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি কোনো পত্রিকায় এ প্রসঙ্গে কোনো তথ্য পাইনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাইরে থেকে আসা মোড়ক, কাগজ বা খবরের কাগজে ভাইরাস বিস্তারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনও বলেছে, খবরের কাগজ দিয়ে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নেই। ১০ মার্চ ২০২০ বিবিসি রেডিও স্কটল্যান্ডে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জন ইন্স সেন্টারের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ জর্জ লোমনোসফ বলেন, যেভাবে বা যে প্রক্রিয়ায় খবরের কাগজ ছাপা হয়, তাতে পত্রিকা এমনিতে বেশ জীবাণুমুক্ত থাকে। এ কারণে আমরা ভাজা ও শুকনো খাবার নিউজপ্রিন্ট কাগজে রেখে খেয়ে থাকি। বিজ্ঞানীদের মতে, ছাপা কাগজ, ছাপা পত্রিকা, ছাপা ম্যাগাজিন, ছাপা চিঠিপত্র থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি। আমি তখন চীনের উহানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি অধ্যয়নরত ছাত্র হিসেবে অবস্থান করেছিলাম। আমার জানামতে, তখন খবরের কাগজ প্রিন্ট বা বিলি করা বন্ধ রাখেনি। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি রাজ্যে আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছে। তার কাছে জানতে পারি, সেখানেও খবরের কাগজ বিলি করা বন্ধ হয়নি। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য চিকিৎসাসেবার সঙ্গে তথ্য সেবারও গুরুত্ব কম নয়। তথ্য সেবা দিয়ে থাকে খবরের কাগজ। তেমনি সংবাদপত্রের মাধ্যমে করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে নানা তথ্য পেয়ে থাকি। যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় খবরের কাগজ অনেক ভূমিকা পালন করে। সাংবাদিকরা খবরের কাগজের মাধ্যমে মানুষকে করোনা মোকাবিলায় সচেতন করতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখেন। পত্রিকা বরং হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষের সময় কাটানোর মাধ্যম হতে পারে।
হকারের মাধ্যমে কিছুটা করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও থাকতে পারে, যদি হকার নিজে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আপনার সংস্পর্শে আসে বা হ্যান্ডশেক করে। তা ছাড়া খবরের কাগজ দিয়ে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নেই বললেই চলে। প্রয়োজনে হকারকে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভসসহ অন্য দ্রব্যাদি দিয়ে পেপার বিলির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া উচিত।
খবরের কাগজ পড়ে আমরা নিজেরা যেমন সচেতন হতে পারি, তেমনি অন্যদের সচেতন হতে উৎসাহিত করতে পারি। সামাজিক মিডিয়া থেকে নানা গুজব ছড়াচ্ছে। যেটা কাম্য নয়। এসব গুজব পরিত্যাগ করা উচিত। করোনা নিয়ে আতঙ্ক নয়, দরকার গণসচেতনতা। সচেতনতাই করোনার মহামারি থেকে মুক্তি দিতে পারে।
বাসায় সংবাদপত্র ক্রয় বা বিলি বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়, বরং সতর্ক ও সচেতনতার মাধ্যমে করোনা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখা সম্ভব। অতএব আমরা সবাই সংবাদপত্র বন্ধ না করে বাসায় বা অফিসে রাখি, সেলফ কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করি এবং করোনা সম্পর্কিত তথ্য জেনে সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে সহায়তা করি।
শিক্ষক, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল ময়মনসিংহ
[email protected]
