প্রাণ আসুক প্রাণে
×
ফকির আলমগীর
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২০ | ১২:০০
অচেনা এক অবরুদ্ধ পৃথিবী। ব্যস্ততম শহরগুলো এখন ভূতুড়ে, শীতল পৃথিবী অবশনগর। বিবর্ণ সারা দুনিয়া, স্তব্ধ ব্যস্ততম জনপদগুলো। পৃথিবীর বড় শহরগুলো- রোম, ভিয়েনা, প্যারিস, লন্ডন, মাদ্রিদ, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, সিঙ্গাপুর, বার্লিন ও নিউইয়র্ক এখন কেবল উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগের শহর। আমরা চিরদিন জেনে এসেছি ব্যস্ততম নিউইয়র্ক শহর কখনও ঘুমায় না, সেই বিশ্বরাজধানীখ্যাত আলোকোজ্জ্বল নিইউয়র্ক নগরী এখন বিবর্ণ, ভূতুড়ে আর প্রাণঘাতী করোনার সংক্রমণে নিহতদের লাশের মিছিল। যার মধ্যে অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যুতে এখানকার আকাশ-বাতাস ভারি করেছে। কবর দেওয়ার নেই মাটি, অবশেষে গণকবর, স্বজনের আহাজারি এখানকার শোকার্ত পরিবেশকে করেছে উদ্বেগাকুল। আমাকে আরও বেশি উদ্বেগাকুল করেছে আরও একটি বিশেষ কারণে, তা হচ্ছে আমার আপন ভাতিজা ফকির হুমায়ুন স্বপন সপরিবারে ২০১৩ সাল থেকে এই শহরের প্রথমে ওজোনপার্ক আর এখন জ্যামাইকায় বসবাস করছে। বউমা লাকী, দুই নাতি শুভ, শ্রাবণ আর নাত বউ নিয়ে তাদের সংসার অনেক আনন্দ আর নিরাপদে কাটছিল। আর বর্তমানে করোনা আতঙ্কে আমি সবসময় তাদের জন্য চিন্তায় থাকি। যদিও ঢাকায় আমরা আর নিউইয়র্কে স্বপনরা দীর্ঘদিন এই কোয়ারেন্টাইনে আছি। এখানকার বাঙালিদের মিলনমেলা যেন একটি মিনি বাংলাদেশ। সেই ১৯৮৯ সাল থেকে এই শহরে গান করছি, সব সময়ই মনে হয়েছে আমি যেন দেশেই আছি।
এই স্বপ্নের শহরে বসতি গেড়েছেন অনেক পরিচিত শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। এখানে বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে। ঢাকার মতোই এখানে অনুষ্ঠিত হয় বৈশাখী উৎসব, পিঠা উৎসব, পথমেলা, কখনও কখনও ফোবানা সম্মেলন, ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন আয়োজিত অভিষেক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজিত অভিষেক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন জেলা সমিতিগুলো পাল্লা দিয়ে আয়োজন করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এ ছাড়া ঈদ, পূজা, বড়দিন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় নানা বরণের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। তাই এই করোনাকালে এই স্মৃতির শহরের অনেক কিছুর কথাই আমার মনে পড়ে। করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক সমস্যা। কেবল নিউইয়র্ক নয়, নিউজার্সি, লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটনসহ অন্য শহরগুলোতেও মরছে মানুষ, মরছে বাংলাদেশি প্রবাসী। এ ছাড়া সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশের অনেক প্রবাসী এই প্রাণঘাতী করোনায় প্রাণ হারাচ্ছেন। তাদের সবার আত্মার শান্তি কামনা করি। দেশে দিন দিন সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার কারণ সামাজিক দূরত্ব না মানা। চলাচলে সচেতনতার অভাব। কেবল লকডাউনই সমাধান নয়, সংক্রমণ ঠেকাতে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে চলাচলে। প্রকৃতিসৃষ্ট দুর্যোগ ও ভাইরাসজনিত মহামারির কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ মানুষের ধর্ম নয়। বিরূপ পরিবেশ, বৈরী প্রকৃতির বিরুদ্ধে অবিরাম প্রতিরোধ গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই অগ্রসর হয়েছে মানব সভ্যতা। অনেক সময় সাহস নিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেই কেটে যাবে আঁধার। আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে সচেতন হওয়া বেশি জরুরি। যে মুহূর্তে প্লেগ, কলেরা, বসন্ত এবং ম্যালেরিয়া মানুষ বিশ্ব থেকে উচ্ছেদ করেছে। মানুষ তৈরি করেছে মহৌষধ, যার ফলে কমেছে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার। যার ফলে আমরা গর্ব করে বলি, মানুষের গড় পরমায়ু বেড়েছে। সেই মুহূর্তে নভেল করোনাভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে সংক্রামিত করছে মানুষকে। প্রাণ হারাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। মানবসৃষ্ট এ ভাইরাসটি এক মহামারির রূপ ধারণ করেছে। এই বিশ্বায়নের যুগে সমগ্র বিশ্ব এখন একে অপরের কাছাকাছি চলে এসেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্যে, পণ্যসামগ্রী আদান-প্রদানে এক দেশের মানুষ অন্য দেশে সহজেই যাতায়াত করছে। যার ফলে মানববাহিত রোগটিও সহজেই চলে যাচ্ছে এক দেশ থেকে অন্য দেশে। আপামর মানব সভ্যতার দুশ্চিন্তার কারণ এখন একটাই। অচেনা এই অবরুদ্ধ বিবর্ণ পৃথিবীর দায় আমরা কেউ এড়াতে পারি না এটাও যেমন সত্য, তেমনি মনে হয় নিঃসঙ্গ একাকী আমি এত বোঝা একা একা বইছি। এও সত্য, আমার মতো লক্ষ কোটি মানুষ আজ পৃথিবীর একই বিষাদের নিচে চাপা পড়ে আছে। জানি, এক সময় আমাদের আনন্দের সূর্যোদয় হবেই। এখনও সে স্বপ্ন দেখি। প্রাণ আসবে প্রাণে। উদিত রবির প্রথম আলো। দূর করবে সকল কালো। নতুন রঙে, নতুন চেতনায় আবার ঘুরে দাঁড়াবে চেনা পৃথিবী। সবার সঙ্গে সবার দেখা হবে মহামারি শেষে, দেখা হবে বিজয়ীর বেশে। আমরা আশাবাদী 'নতুন সূর্য নতুন গান নতুন সুর নতুন প্রাণ, নতুন ঊষার নতুন আলো, নতুন বছর কাটুক ভালো।' পরিশেষে গণসংগীতের সুরে গাইতে চাই সেই গান- প্রাণে প্রাণে মিল করে দাও,/তুফানের ঘূর্ণি ঘোরাও/ জীবনের ঝরাপাতা উড়িয়ে দিয়ে/পুড়িয়ে দিয়ে বিশ্ব কাঁপাও/ প্রাণে প্রাণে মিল করে দাও।
গণসংগীতশিল্পী
এই স্বপ্নের শহরে বসতি গেড়েছেন অনেক পরিচিত শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। এখানে বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে। ঢাকার মতোই এখানে অনুষ্ঠিত হয় বৈশাখী উৎসব, পিঠা উৎসব, পথমেলা, কখনও কখনও ফোবানা সম্মেলন, ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন আয়োজিত অভিষেক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজিত অভিষেক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন জেলা সমিতিগুলো পাল্লা দিয়ে আয়োজন করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এ ছাড়া ঈদ, পূজা, বড়দিন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় নানা বরণের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। তাই এই করোনাকালে এই স্মৃতির শহরের অনেক কিছুর কথাই আমার মনে পড়ে। করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক সমস্যা। কেবল নিউইয়র্ক নয়, নিউজার্সি, লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটনসহ অন্য শহরগুলোতেও মরছে মানুষ, মরছে বাংলাদেশি প্রবাসী। এ ছাড়া সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশের অনেক প্রবাসী এই প্রাণঘাতী করোনায় প্রাণ হারাচ্ছেন। তাদের সবার আত্মার শান্তি কামনা করি। দেশে দিন দিন সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার কারণ সামাজিক দূরত্ব না মানা। চলাচলে সচেতনতার অভাব। কেবল লকডাউনই সমাধান নয়, সংক্রমণ ঠেকাতে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে চলাচলে। প্রকৃতিসৃষ্ট দুর্যোগ ও ভাইরাসজনিত মহামারির কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ মানুষের ধর্ম নয়। বিরূপ পরিবেশ, বৈরী প্রকৃতির বিরুদ্ধে অবিরাম প্রতিরোধ গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই অগ্রসর হয়েছে মানব সভ্যতা। অনেক সময় সাহস নিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেই কেটে যাবে আঁধার। আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে সচেতন হওয়া বেশি জরুরি। যে মুহূর্তে প্লেগ, কলেরা, বসন্ত এবং ম্যালেরিয়া মানুষ বিশ্ব থেকে উচ্ছেদ করেছে। মানুষ তৈরি করেছে মহৌষধ, যার ফলে কমেছে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার। যার ফলে আমরা গর্ব করে বলি, মানুষের গড় পরমায়ু বেড়েছে। সেই মুহূর্তে নভেল করোনাভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে সংক্রামিত করছে মানুষকে। প্রাণ হারাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। মানবসৃষ্ট এ ভাইরাসটি এক মহামারির রূপ ধারণ করেছে। এই বিশ্বায়নের যুগে সমগ্র বিশ্ব এখন একে অপরের কাছাকাছি চলে এসেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্যে, পণ্যসামগ্রী আদান-প্রদানে এক দেশের মানুষ অন্য দেশে সহজেই যাতায়াত করছে। যার ফলে মানববাহিত রোগটিও সহজেই চলে যাচ্ছে এক দেশ থেকে অন্য দেশে। আপামর মানব সভ্যতার দুশ্চিন্তার কারণ এখন একটাই। অচেনা এই অবরুদ্ধ বিবর্ণ পৃথিবীর দায় আমরা কেউ এড়াতে পারি না এটাও যেমন সত্য, তেমনি মনে হয় নিঃসঙ্গ একাকী আমি এত বোঝা একা একা বইছি। এও সত্য, আমার মতো লক্ষ কোটি মানুষ আজ পৃথিবীর একই বিষাদের নিচে চাপা পড়ে আছে। জানি, এক সময় আমাদের আনন্দের সূর্যোদয় হবেই। এখনও সে স্বপ্ন দেখি। প্রাণ আসবে প্রাণে। উদিত রবির প্রথম আলো। দূর করবে সকল কালো। নতুন রঙে, নতুন চেতনায় আবার ঘুরে দাঁড়াবে চেনা পৃথিবী। সবার সঙ্গে সবার দেখা হবে মহামারি শেষে, দেখা হবে বিজয়ীর বেশে। আমরা আশাবাদী 'নতুন সূর্য নতুন গান নতুন সুর নতুন প্রাণ, নতুন ঊষার নতুন আলো, নতুন বছর কাটুক ভালো।' পরিশেষে গণসংগীতের সুরে গাইতে চাই সেই গান- প্রাণে প্রাণে মিল করে দাও,/তুফানের ঘূর্ণি ঘোরাও/ জীবনের ঝরাপাতা উড়িয়ে দিয়ে/পুড়িয়ে দিয়ে বিশ্ব কাঁপাও/ প্রাণে প্রাণে মিল করে দাও।
গণসংগীতশিল্পী
- বিষয় :
- ভাইরাস
