মাহে রমজান
চাই সংযম ও সহমর্মিতা
×
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২০ | ১২:০০
বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণের এই সময়ে পবিত্র রমজানের বাঁকা চাঁদ এক নতুন রূপে আমাদের মাঝে উদিত হয়েছে। বস্তুত রমজানের এক মাস রোজা পালনের কেবল ধর্মীয় গুরুত্বই নেই, রয়েছে সামাজিক তাৎপর্যও। কিন্তু এ বছর এমন সময়ে রমজান শুরু হচ্ছে যখন সবাই করোনা থেকে সুরক্ষায় কার্যত গৃহবন্দি। সারাদেশে চলছে লকডউন। রমজানে ইফতার কেন্দ্র করে যে সামাজিক যোগাযোগ ঘটে সে সুযোগ নেই। তারাবির নামাজের ব্যাপারেও ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে এসেছে বিশেষ নির্দেশনা। তবে বাইরের কার্যক্রমে বিধিনিষেধ থাকলেও ঘরে রোজা পালনসহ ধর্মপ্রাণ মুসলমান অন্যান্য কার্যাবলি নিশ্চয়ই সম্পন্ন করবেন। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সমকালের লেখক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আমাদের শুভেচ্ছা। আমরা জানি, মুসলিম ধর্মমতে রমজানের এক মাসের সিয়াম সাধনার বহুবিধ উদ্দেশ্য রয়েছে। যার প্রধানতম উদ্দেশ্য হলো খোদাভীতি। এ ছাড়া ব্যক্তিজীবনে সংযম ও সামাজিক পরিবেশে সহমর্মিতার শিক্ষাও দেয় রমজান। করোনা-দুর্যোগে রমজানের শিক্ষার বাস্তব অনুশীলন জরুরি এ কারণে যে, লকডাউনের কারণে অনেকের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে; অনেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, শ্রমজীবী-দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষের অনেকেই বেরোতে না পারায় খাবারের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে, সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াও রোজাদারের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেকেই ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে সত্য, কিন্তু লকডাউন দীর্ঘতর হওয়ায় এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা চাই। রমজানে দানের হাত বাড়িয়ে দেওয়া যেমন সামাজিক সহমর্মিতার প্রকাশ, তেমনি পুণ্য অর্জনের দিক থেকেও এর গুরুত্ব কম নয়।
রমজান উপলক্ষে অনেকেই যাকাত প্রদান করেন। যাকাত হিসেবে প্রচলিত শাড়ি, কাপড়, লুঙ্গি না দিয়ে বিত্তবানরা এবার অসহায় মানুষকে ত্রাণসামগ্রী দিতে পারেন। মনে রাখা দরকার, করোনা দুর্যোগের কারণে আগের দারিদ্র মানুষের পাশাপাশি নতুন করে যেসব নিম্ন মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তের মানুষ সমস্যায় পড়েছেন তারাও যাকাতের হকদার হবেন। যাকাতদাতারা ব্যাপক হারে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে পারেন। তবে সেটা মাইকিং করে মাঠে মানুষ জড়ো করে নয়। এমনিতেই করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কঠোর নির্দেশ রয়েছে, তার ওপর এভাবে দরিদ্র মানুষদের একত্রিত করা শোভন চর্চাও নয়। এসব অপচর্চার কারণে দুঃখজনকভাবে আমরা দেখেছি, যাকাতের সামগ্রী গ্রহণ করতে গিয়ে অনেকেই মানুষের চাপা পড়ে মারাও গেছেন। ফলে যাকাত যথাসম্ভব গ্রহীতার ঘরে ঘরে পৌঁছার ব্যবস্থা করা উচিত। জাতীয়ভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যাকাত ফান্ড আছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন যাকাত কার্যক্রম শক্তিশালী করে বিত্তবানদের থেকে যাকাত তুলে এলাকাভিত্তিক অভাবী মানুষের তালিকা করে বিতরণের ব্যবস্থা করতে পারে।
রমজান সংযমের শিক্ষা দিলেও বাস্তব ক্ষেত্রে আমরা দেখি এ সময় অনেক খাদ্যসামগ্রীর চাহিদা বেড়ে যায়। এ কারণে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সংবাদমাধ্যম আমরা দেখেছি, পবিত্র রমজান আসার আগেই বাজারে মাছ মাংস, সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ের দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ কাম্য। বিগত বছরগুলোতে ইফতারিতে যে ধরনের অপচয় আমরা লক্ষ্য করেছি, এবার অন্তত করোনাভাইরাসের কারণে তা দেখতে চাইব না। এমনিতেই ইফতারিতে প্রচলিত তেলের যে ভাজাপোড়া খাবারের আধিক্য দেখা যায়, তা স্বাস্থ্যসম্মতও নয়। এবার রমজান শুরু হচ্ছে গ্রীষ্ফ্মকালে, বৈশাখের তপ্তদিনের সঙ্গে সঙ্গে কালবৈশাখীর কিছু চিত্র রমজানের আগমুহূর্তে আমরা দেখেছি। আমরা প্রত্যাশা করব স্বস্তিকর বৃষ্টিবাদল দীর্ঘ দিবাভাগে রোজাদারের জন্য অনকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবে। আর এ সময়টা বাংলাদেশে দেশি ফলের মৌসুম বলে সুস্বাদ আম, কাঁঠাল,তরমুজ, লিচু রোজায় ভিন্ন মাত্রা দেবে।
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে হাজির হওয়া রমজান বস্তুত স্রষ্টার দরবারে আনুগত্য প্রকাশের মহিমা শিক্ষা দেয়। আগে সবাই সদলবলে মসজিদে গিয়ে যেভাবে ইবাদতে মশগুল থাকতেন, করোনার কারণে এবার ঘরে বসেই সেটি করতে হবে। ঘরে পরিবারের সবাইকে নিয়ে কিংবা একাকী নিবিষ্টমনে নিষ্ঠার সঙ্গে প্রভুর ইবাদতে নিয়োজিত করার সুযোগ এখন। করোনা মহামারী থেকে বাঁচতে স্রষ্টার দরবারে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বের সবার জন্য প্রার্থনা করা চাই। এবার আমরা ত্যাগের বদলে ভোগ, কৃচ্ছ্রের বদলে অপচয়, অল্প আহারের বদলে ভূরিভোজ ও মিতব্যয়িতার বদলে অপব্যয়ের দেখনেপনা দেখতে চাই না। মনে রাখা দরকার, করোনার এ সময়ে এবং পরে এর ধাক্কা সামলে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে গোটা বিশ্বের জন্যই। অর্থনীতি, সমাজ, শিক্ষা, ব্যবসা, কৃষি, স্বাস্থ্য সর্বত্রই করোনার প্রভাব স্পষ্ট। বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব যাতে সে চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারে, সেজন্য প্রার্থনা করা দরকার। আমরা আশা করি নিষ্ঠা সংযম ও সহমর্মিতা অনুশীলনের মাধ্যমে বাংলাদশসহ গোটা বিশ্ব করোনার এই মহাদুর্যোগ থেকে মুক্তি পাবে।
রমজান উপলক্ষে অনেকেই যাকাত প্রদান করেন। যাকাত হিসেবে প্রচলিত শাড়ি, কাপড়, লুঙ্গি না দিয়ে বিত্তবানরা এবার অসহায় মানুষকে ত্রাণসামগ্রী দিতে পারেন। মনে রাখা দরকার, করোনা দুর্যোগের কারণে আগের দারিদ্র মানুষের পাশাপাশি নতুন করে যেসব নিম্ন মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তের মানুষ সমস্যায় পড়েছেন তারাও যাকাতের হকদার হবেন। যাকাতদাতারা ব্যাপক হারে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে পারেন। তবে সেটা মাইকিং করে মাঠে মানুষ জড়ো করে নয়। এমনিতেই করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কঠোর নির্দেশ রয়েছে, তার ওপর এভাবে দরিদ্র মানুষদের একত্রিত করা শোভন চর্চাও নয়। এসব অপচর্চার কারণে দুঃখজনকভাবে আমরা দেখেছি, যাকাতের সামগ্রী গ্রহণ করতে গিয়ে অনেকেই মানুষের চাপা পড়ে মারাও গেছেন। ফলে যাকাত যথাসম্ভব গ্রহীতার ঘরে ঘরে পৌঁছার ব্যবস্থা করা উচিত। জাতীয়ভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যাকাত ফান্ড আছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন যাকাত কার্যক্রম শক্তিশালী করে বিত্তবানদের থেকে যাকাত তুলে এলাকাভিত্তিক অভাবী মানুষের তালিকা করে বিতরণের ব্যবস্থা করতে পারে।
রমজান সংযমের শিক্ষা দিলেও বাস্তব ক্ষেত্রে আমরা দেখি এ সময় অনেক খাদ্যসামগ্রীর চাহিদা বেড়ে যায়। এ কারণে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সংবাদমাধ্যম আমরা দেখেছি, পবিত্র রমজান আসার আগেই বাজারে মাছ মাংস, সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ের দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ কাম্য। বিগত বছরগুলোতে ইফতারিতে যে ধরনের অপচয় আমরা লক্ষ্য করেছি, এবার অন্তত করোনাভাইরাসের কারণে তা দেখতে চাইব না। এমনিতেই ইফতারিতে প্রচলিত তেলের যে ভাজাপোড়া খাবারের আধিক্য দেখা যায়, তা স্বাস্থ্যসম্মতও নয়। এবার রমজান শুরু হচ্ছে গ্রীষ্ফ্মকালে, বৈশাখের তপ্তদিনের সঙ্গে সঙ্গে কালবৈশাখীর কিছু চিত্র রমজানের আগমুহূর্তে আমরা দেখেছি। আমরা প্রত্যাশা করব স্বস্তিকর বৃষ্টিবাদল দীর্ঘ দিবাভাগে রোজাদারের জন্য অনকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবে। আর এ সময়টা বাংলাদেশে দেশি ফলের মৌসুম বলে সুস্বাদ আম, কাঁঠাল,তরমুজ, লিচু রোজায় ভিন্ন মাত্রা দেবে।
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে হাজির হওয়া রমজান বস্তুত স্রষ্টার দরবারে আনুগত্য প্রকাশের মহিমা শিক্ষা দেয়। আগে সবাই সদলবলে মসজিদে গিয়ে যেভাবে ইবাদতে মশগুল থাকতেন, করোনার কারণে এবার ঘরে বসেই সেটি করতে হবে। ঘরে পরিবারের সবাইকে নিয়ে কিংবা একাকী নিবিষ্টমনে নিষ্ঠার সঙ্গে প্রভুর ইবাদতে নিয়োজিত করার সুযোগ এখন। করোনা মহামারী থেকে বাঁচতে স্রষ্টার দরবারে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বের সবার জন্য প্রার্থনা করা চাই। এবার আমরা ত্যাগের বদলে ভোগ, কৃচ্ছ্রের বদলে অপচয়, অল্প আহারের বদলে ভূরিভোজ ও মিতব্যয়িতার বদলে অপব্যয়ের দেখনেপনা দেখতে চাই না। মনে রাখা দরকার, করোনার এ সময়ে এবং পরে এর ধাক্কা সামলে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে গোটা বিশ্বের জন্যই। অর্থনীতি, সমাজ, শিক্ষা, ব্যবসা, কৃষি, স্বাস্থ্য সর্বত্রই করোনার প্রভাব স্পষ্ট। বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব যাতে সে চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারে, সেজন্য প্রার্থনা করা দরকার। আমরা আশা করি নিষ্ঠা সংযম ও সহমর্মিতা অনুশীলনের মাধ্যমে বাংলাদশসহ গোটা বিশ্ব করোনার এই মহাদুর্যোগ থেকে মুক্তি পাবে।
- বিষয় :
- রমজান
