ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মী

এক যাত্রায় পৃথক ফল নয়

এক যাত্রায় পৃথক ফল নয়
×

এ. কে. আজাদের নেতৃত্বে নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠক করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ - সমকাল

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১১ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য প্রণোদনা ও বীমা না থাকার যে চিত্র সোমবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে বিত্তশালী বা দরিদ্র জনগোষ্ঠী, উন্নত বা অনুন্নত দেশের মধ্যে পার্থক্য করছে না, আমরা দেখছি। বৈশ্বিক এই দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও দেশে দেশে রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তি খাতের ভেদরেখাও মুছে যেতে দেখছি আমরা। বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে, যেমন সরকারি হাসপাতাল তেমনই বেসরকারি হাসপাতালগুলো এই রোগের চিকিৎসায় যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। এ পর্যন্ত রাজধানীতে যে ১৪টি হাসপাতাল করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত, তার মধ্যে অন্তত সাতটিই বেসরকারি- এই চিত্র যথেষ্ট উৎসাহব্যঞ্জক। করোনা উপসর্গ থাকলেই যেখানে চিকিৎসা মিলছে না, সেখানে বেসরকারি হাসপাতালের এভাবে এগিয়ে আসা নিশ্চয়ই সাধুবাদযোগ্য। আমরা জানি, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আরও কয়েকটি বেসরকারি হাসাপাতাল ইতোমধ্যে করোনা চিকিৎসার অনুমতি চেয়েছে। বস্তুত রোববারই সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে আমরা জানছি যে- 'ডেডিকেটেড' এসব হাসপাতাল ছাড়াও সারাদেশে শতাধিক বড় হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। দেশে যেভাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এবং এই ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূলের সম্ভাবনা এখনও যতটা অনিশ্চিত, তাতে করে এমন প্রস্তুতির বিকল্প নেই। কিন্তু মনে রাখতে হবে- প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রণোদনাও জরুরি। কেবল সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীকে বীমা বা প্রণোদনার আওতায় আনা না গেলে এ প্রস্তুতি টেকসই হবে না।
আমরা দেখছি, ইতোমধ্যে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে কর্মরতদের জন্য সরকার প্রণোদনা, বীমা ও ঝুঁকিভাতা ঘোষণা করেছে। বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এমন ব্যবস্থা তো নেই-ই, অনেক হাসপাতালে নির্ধারিত বেতন-ভাতাও অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। ই চিত্র সত্যিই হতাশাজনক। ভুলে যাওয়া চলবে না, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কর্মরতদের চাকরি কিংবা অবসরকালীন সুবিধাও সরকারি হাসপাতালগুলোর তুলনায় অপ্রতুল কিংবা অনিশ্চিত। এখন করোনা চিকিৎসা করতে গিয়ে যে ঝুঁকি তৈরি হবে, তার দায় কে নেবে? এও মনে রাখতে হবে, করোনাভাইরাসজনিত রোগ চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলোর বাইরে অন্যান্য হাসপাতালও রয়েছে ঝুঁকিতে। আমরা দেখেছি, ইতোমধ্যে কোনো কোনো রোগী তার করোনার উপসর্গ গোপন করে চিকিৎসা নেওয়ায় কয়েকটি বড় বড় হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। দেশে করোনায় প্রথম মারা যাওয়া চিকিৎসক ছিলেন এমন অঘটনেরই বলি। সেদিক থেকে সরকারি বা বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্বিশেষে সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রণোদনা, বীমা বা ঝুঁকিভাতার আওতায় আনা জরুরি। আমরা জানি, দেশে সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংখ্যা বেশি। নানা কারণেই সেগুলোতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষের সংখ্যাও কম নয়। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই বিপুল অংশকে বঞ্চিত করে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নেওয়া কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থাই যথার্থ হতে পারে না।
আমরা মনে করি- করোনার বিরুদ্ধে যে লড়াইয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা অবতীর্ণ হয়েছে, তা অভিন্ন। আগামী দিনগুলোতেও এ রোগের প্রতিষেধক বা চিকিৎসার জন্য সরকারি বা বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞ সফল করে তুলতে হলে সুফল বণ্টনে বিভেদ করা যাবে না। এক যাত্রায় পৃথক ফল হবে কেন? সমকালে প্রকাশিত প্রতিদেনের শিরোনাম করা হয়েছে- 'চিকিৎসায় থাকলেও প্রণোদনায় নেই'। আমরা দেখতে চাইব অবিলম্বে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি হাসাপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা যেমন চিকিৎসায় আছেন, তেমনই রয়েছেন প্রণোদনাতেও। শুধু চিকিৎসায় নয়, করোনা চিকিৎসা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথাও কি ভুলে যাওয়া উচিত? আলোচ্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত যে প্রায় দেড় হাজার স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তার মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের হার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। হতাশার মধ্যেও আশার কথা, সমকালের সঙ্গে আলাপে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী এর যৌক্তিকতা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বেসরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্যও প্রণোদনা ও বীমা জরুরি। এও স্বীকার করে নিয়েছেন, সরকারি ওই প্রণোদনা প্রণয়নের সময় এ ব্যাপারে সংশ্নিষ্টরা সময়োচিত আলোকপাত করতে পারেননি। আমরা মনে করি, সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সদিচ্ছা থাকলে স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রণোদনা ও বীমা ঘোষণা করা সম্ভব।

আরও পড়ুন

×