ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ট্রাম্প ও টুইটার

ট্রাম্প ও টুইটার
×

সুদীপ্ত সাইফুল

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও টুইটারের মধ্যে এক ধরনের শীতল যুদ্ধ আমরা দেখছি। গত সপ্তাহে ই-মেইলের মাধ্যমে ব্যালট নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে ট্রাম্পের দুটি টুইটের সঙ্গে একটি তথ্য যাচাইয়ের 'বিশেষ বার্তা' জুড়ে দেয় টুইটার। সঙ্গে লিঙ্কও দেওয়া হয়, যাতে সংশ্নিষ্ট বিষয়ে ভিন্ন মতামতও জানতে পারে অন্যরা। টুইটারের ওই পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে টুইটারের সিইও জানান, তারা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকবেন। বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের নির্বাচন সম্পর্কে কোনো টুইটে ভুল বা বিতর্কিত কোনো তথ্য থাকলে তারা ভবিষ্যতেও একই ব্যবস্থা নেবেন। টুইটারের সঙ্গে বিবাদের পর হুমকি অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতোমধ্যে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যা সরাসরি কোম্পানিগুলোর স্বাধীনতা খর্ব করতে না পারলেও এমন কিছু কোম্পানির বিশেষ রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করতে পারবে। ফলে ফেসবুক ও টুইটারের মতো কোম্পানির দায়বদ্ধতা সীমিত রাখার লক্ষ্যে এত দিন যে বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা ছিল, তা লোপ পেতে চলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মঞ্চে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বক্তব্য তুলে ধরলে কোম্পানিকে তার দায় বহন করতে হতো না। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে সহজেই মামলা করা যাবে।

গত ২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিসে পুলিশ জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে হত্যা করলে বিক্ষোভ শুরু হয়। টানা তিন দিন বিক্ষোভের পর সেখানে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের হুমকি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি এ প্রসঙ্গে এক টুইট বার্তায় লেখেন, 'কোনো জটিলতা আমরা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারি, যখনই লুটপাট শুরু হবে, তখনই গুলিও শুরু হবে।' ট্রাম্প তার এ বার্তায় সহিংসতার প্রশংসা করে টুইটারের নিয়ম ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ করেছে সামাজিক যোগাযোগের প্ল্যাটফর্মটি। অভিযোগ আনার পর পোস্টটি গোপন করে দিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। তবে তা মুছে ফেলা হয়নি। আমরা জানি, একটি বেসরকারি সংস্থা হিসেবে নিজস্ব নিয়মনীতি প্রণয়নের অধিকার রাখে টুইটার। চলতি মাসে টুইটার বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের বিষয়ে নতুন নীতিমালা চালু করেছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে সতর্কবার্তা দিয়ে লেবেলের ব্যবহার আরও বাড়াবে টুইটার। কিন্তু সমস্যা হলো তখনই, যখন আমেরিকান প্রেসিডেন্টের টুইট নিয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ নিল সংস্থাটি। কয়েক বছর ধরেই টুইটারের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিতর্কিত টুইট পোস্ট করা নিয়ে সমালোচনা হয়ে আসছে। গত সপ্তাহের এ দুটি ঘটনা ট্রাম্প-টুইটার দ্বন্দ্বকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে।

বিস্ফোরক মন্তব্যের জন্য গণমাধ্যমে ট্রাম্পের সমালোচনা কম হয়নি। ট্রাম্পও যে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন, সে বিষয়টিও স্পষ্ট। সংগত কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অনুসারীদের কাছ থেকে সমর্থন আদায়ে প্রায়ই টুইটার ব্যবহার করেন। কোটি কোটি ভক্ত-সমর্থকের কাছে নিজের মত পৌঁছে দিতে তিনি মূলত টুইটার ব্যবহার করেন। আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষগুলোকে লক্ষ্য করে পোস্ট দেওয়া থেকে শুরু করে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার জন্য সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমকে তিনি ব্যবহার করেন। সম্প্রতি কভিড-১৯ প্রসঙ্গে চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দায়ী করেও টুইট করেন। এখন তিনি খোদ এই প্ল্যাটফর্মকে ঘায়েল করার লড়াইয়ে নেমেছেন।

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই বিশ্বনেতার ছাপ রাখেননি। ট্রাম্পের বিস্ম্ফোরক মন্তব্য নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনা থাকলেও সামাজিক মাধ্যমগুলো বিশেষত, টুইটার এবারে নড়েচড়ে বসেছে। এখন টুইটার তার পোস্ট হাইড করায় তিনি সামাজিক মাধ্যমগুলো প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করেছেন। এক ধরনের যুদ্ধ শুরু করেছেন। টুইটার অন্তত বোঝাতে সক্ষম হয়েছে, প্রেসিডেন্টও নিয়মনীতির ঊর্ধ্বে নন। আমরা মতামত প্রকাশ, তথ্য আদানপ্রদান ও বিনোদিত হতে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে থাকি। এসব মাধ্যম কোনোভাবেই সহিংসতা, আক্রমণ, উস্কানি, গুজব বা ভুল তথ্যের প্ল্যাটফর্ম হতে পারে না। আমরা সচরাচরই সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেখতে পাই। এখন সময় এসেছে সামাজিক মাধ্যমকে যাবতীয় অশুভ প্রচেষ্টা থেকে মুক্ত রাখার।

সাংবাদিক

আরও পড়ুন

×