ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

করোনা চিকিৎসা

সুবিধা সম্প্রসারিত হোক, ব্যয় নয়

সুবিধা সম্প্রসারিত হোক, ব্যয় নয়
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের সংখ্যা বাড়িয়েও যখন ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই পরিস্থিতি, তখন সর্বব্যাপ্ত এই ভাইরাসজনিত রোগের চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত সময়োচিত। আমরা দেখছি, প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত বাড়ছে 'জ্যামিতিক হারে'। এটাও মনে রাখতে হবে, অনেকে পরীক্ষার সুযোগও পাচ্ছেন না। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার চিত্রও অনেককে যে নিরুৎসাহিত করছে, অস্বীকার করা যায় না। প্রকৃত চিত্র নিঃসন্দেহে আরও ব্যাপক। আর করোনা চিকিৎসা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা যেন ততটাই সীমিত। যে হারে রোগী বাড়ছে, নির্ধারিত ১৪টি হাসপাতালের অবকাঠামোগত সামর্থ্য তার তুলনায় অনেক কম। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষা ও চিকিৎসার হার বাড়াতেই হবে। বস্তুত এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেও আমরা আগে একাধিকবার এমন তাগিদ দিয়েছি। বলেছি, দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও যদি এই রোগের চিকিৎসা সম্প্রসারিত হয়, তাহলে নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে যেমন চাপ কমবে, তেমনই নিয়ন্ত্রণে আসবে অব্যবস্থাপনা। আশার কথা, শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও এর যৌক্তিকতা অনুধাবন করতে পেরেছে। সোমবার মন্ত্রণালয় থেকে জারি হওয়া এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ৫০ বা তার বেশি শয্যার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বিলম্বে হলেও এমন ব্যবস্থাকে আমরা নিশ্চয়ই স্বাগত জানাই। কিন্তু একই সঙ্গে এই প্রজ্ঞাপন ঘিরে ওঠা প্রশ্নগুলোরও মীমাংসা চাই।

আমরা দেখেছি, এর আগে সরকারি হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি যেসব হাসপাতালকে কভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলোর পরিচালন ব্যয় সরকারের পক্ষ থেকে মেটানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কিন্তু সোমবারের প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত ৫০ বা তার বেশি শয্যার বেসরকারি হাসপাতালগুলোর পরিচালন ব্যয় নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি। ফলে এই 'আশঙ্কা' অমূলক হতে পারে না যে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে যারা চিকিৎসা নিতে যাবেন, ব্যয় তাদেরই করতে হবে। সমকালের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যথার্থই বলেছেন, যদি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীদের অর্থ ব্যয় করতে হয়, তা হবে 'দ্বৈতনীতি'। এই অভিযোগও সঙ্গত যে, শুধু পরিচালন ব্যয় নয়, বেসরকারি হাসপাতালগুলো কীভাবে করোনা চিকিৎসায় যুক্ত হবে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই আলোচ্য প্রজ্ঞাপনে। আমরা করোনা চিকিৎসার সম্প্রসারণ নিশ্চয়ই চাই; কিন্তু তা হতে হবে সুস্পষ্ট ও সুশৃঙ্খল। চিকিৎসা ব্যয়সহ অন্যান্য বিষয় আগে থেকে স্পষ্ট করা না হলে বিশৃঙ্খলাই বরং বাড়বে। বস্তুত প্রজ্ঞাপনে যেভাবে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি করোনা চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে, তাতে বিশৃঙ্খলার নূ্যনতম অবকাশ নেই।

আমরা চাই, একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্পষ্টতা অবিলম্বে দূর হবে। প্রয়োজনে আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বেসরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার পরিচালন ব্যয়সহ অন্যান্য বিষয় স্পষ্ট করা হোক। বিশেষত সাধারণ রোগের সঙ্গে করোনার চিকিৎসা কীভাবে হবে, সেই নির্দেশনা কেবল বেসরকারি নয়, সরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এমনিতেই চিকিৎসা ব্যয় বেশি। করোনার মতো বিশেষ রোগের চিকিৎসায় তা আরও বাড়বে বৈ কমবে না। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে এজন্য দোষ দেওয়ারও অবকাশ নেই। তারা তো আগেই করোনা চিকিৎসার মাধ্যমে এই দুঃসময়ে জাতির পাশে থাকার আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। কিন্তু বিষয়টি নিছক সদিচ্ছার প্রশ্ন নয়। চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি এর সঙ্গে অবকাঠামোগত বিপুল ব্যয়ও জড়িত। শনিবার প্রকাশিত সমকালের শীর্ষ প্রতিবেদনেও একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়েছে। কভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত আইসিইউ বা কেবিন প্রস্তুত ছাড়াও চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দিতে গিয়ে তারা বাড়তি ব্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। এই অর্থ কোথা থেকে আসবে?

আমরা মনে করি, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যেও দুই ভাগ করা যেতে পারে। কিছু হাসপাতালে সরকারি হাসপাতালের মতোই করোনা চিকিৎসার পরিচালন ব্যয় সরকার বহন করবে। ইতোমধ্যে যুক্ত বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এই ব্যবস্থাই রয়েছে। আবার কিছু হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার ব্যয় বহন করবে সংশ্নিষ্ট রোগী। 'ভিড়ের মধ্যে' না গিয়ে সামর্থ্যবান কেউ চাইলে যাতে নিজের মতো চিকিৎসা করাতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রেও সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ফি বেঁধে দেওয়ার বিকল্প নেই। আমরা নিশ্চয়ই চাই, করোনা চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারিত হোক। আর সরকারি বা বেসরকারি যে কোনো পর্যায়েই এর ব্যয় থাকুক সীমিত।

আরও পড়ুন

×