ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

পরিবর্তনের বাঁক

পরিবর্তনের বাঁক
×

বারাক ওবামা

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

জর্জ ফ্লয়েড হত্যা ও চলমান অবিচারের প্রতিবাদে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। অনেকেই ভাবছেন, সত্যিকারের পরিবর্তনের জন্য এই আন্দোলন কীভাবে গতিশীল রাখা যায়। নতুন প্রজন্মের কৌশল নির্ধারণের এটাই উপযুক্ত সময়। তবে আমি মনে করি, অতীতে এ ধরনের যে ঘটনা ঘটেছে তা থেকেও ধারণা নেওয়া যেতে পারে।
প্রথমত, গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি কর্মকাণ্ড ও সার্বিক বিচার ব্যবস্থা সংস্কারের ব্যর্থতার কারণেই মূলত দেশজুড়ে মানুষ বিক্ষোভ করছে। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর বেশিরভাগই শান্তিকামী, সাহসী, দায়িত্ববান ও উৎসাহী। তাদের বিরোধিতা নয় বরং তারা আমাদের থেকে সম্মান ও সমর্থন প্রত্যাশা করে। তবে কিছু কিছু শহর, যেমন ক্যামডেন ও ফ্লিন্টে পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
অন্যদিকে, কিছু সুযোগসন্ধানী সংখ্যালঘুদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে তাদের আশপাশের সেবা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মাধ্যমে। আমরা অবশ্যই সহিংসতা থেকে বিরত থাকব। যদি আমরা ন্যায়বিচার ও নৈতিক সমাজ চাই তাহলে আমাদেরই এর মডেল হতে হবে।
দ্বিতীয়ত, আমাদের জাতিগত বর্ণবাদের যে সমস্যা, প্রতিবাদ ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই এর সমাধান হতে পারে। প্রতিবাদের উদ্দেশ্য হলো জনগণকে সচেতন করা এবং অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহার সামনে আনা। আমেরিকান ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিবাদ ও নাগরিক অসন্তুষ্টির প্রতিক্রিয়ায় আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দিকে গুরুত্ব দিয়েছে। গণতন্ত্রে জনআকাঙ্ক্ষাকে নির্দিষ্ট আইনে বা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হয়। তবে তা কেবল তখনই ঘটে, যখন আমরা আমাদের দাবির পক্ষের লোকদের সরকারি কর্মকাণ্ডের জন্য নির্বাচিত করব।
অনেকেই কেবল প্রেসিডেন্ট ও ফেডারেল সরকারের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। আমাদের প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেস, বিচার বিভাগ এবং একটি ফেডারেল বিচার বিভাগ রয়েছে। তারা অবশ্যই সমাজে বিদ্যমান বর্ণবাদ রোধে কিছু করতে চায়। তবে তা বাস্তবায়নে আমাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে মেয়র ও বিভাগীয় নির্বাহীরা বেশিরভাগ পুলিশপ্রধানদের নিয়োগ দেয় এবং পুলিশ ইউনিয়নের সঙ্গে সামষ্টিক দর কষাকষির চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করে। কোথাও কোনো পুলিশ সদস্য অন্যায় বা অসদাচরণ করলে তা তদন্ত করা হবে কিনা সে বিষয়ে জেলা ও রাজ্য অ্যাটর্নি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তারা সবাই নির্বাচিত হয়ে পদে আসীন থাকেন। কিছু জায়গায় পুলিশি আচরণের ওপর নজরদারি করার ক্ষমতাসহ পুলিশ রিভিউ বোর্ড নির্বাচন করা হয়।
মূল বিষয় হলো, আমরা যদি সত্যিকার অর্থেই পরিবর্তন আনতে চাই, তবে শুধু প্রতিবাদ ও রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; আমাদের দুটি কাজ করতে হবে। এক. জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে হবে; দুই. সংগঠিত হয়ে সেসব প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে হবে, যারা সংস্কারের জন্য কাজ করবে।
এছাড়া বিচার বিভাগ ও পুলিশ বিভাগ সংস্কারের জন্য সর্বোচ্চ দাবি জানাতে হবে। তা না করে কেবল বিক্ষোভ শেষে কর্মস্থলে ফিরলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। একটি বড় শহরে এক ধরনের সংস্কার ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য অন্য ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে। কিছু পক্ষের বৃহদাকারে পুনর্বাসন প্রয়োজন; আর অন্যদের সামান্য অগ্রগতি হলেই যথেষ্ট হবে। প্রতিটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার স্বতন্ত্র নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। যার মধ্যে একটি স্বতন্ত্র সংস্থা থাকবে, যা তার সদস্যদের অপরাধের অভিযোগগুলো তদন্ত করার ক্ষমতা রাখবে। প্রতিটি সংস্থাকে যথাযথভাবে সংস্কারের উদ্দেশ্যে স্থানীয় কর্মী ও সংগঠনগুলোকে গবেষণা করে যেসব কৌশল সংস্থার কর্মীদের জন্য বেশি উপযোগী সেগুলো শিক্ষা দিতে হবে।
কয়েক মাস ধরে চলমান মহামারির কারণে কষ্ট ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেও আমেরিকানদের বিপুলসংখ্যক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জাতির তরুণদের ব্যাপক কর্মকাণ্ড আমাকে আশাবাদী করে তুলেছে। আমরা যদি আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ, টেকসই ও কার্যকর উপায়ে পরিচালিত করতে পারি, তাহলে এই আন্দোলন আদর্শ জাতি গঠন ও দীর্ঘ পথপরিক্রমার টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট
মিডিয়াম থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর সাইফুল ইসলাম

আরও পড়ুন

×