ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

অন্যদৃষ্টি

'টাকা পয়সা সব ঝুট হ্যায়...'

'টাকা পয়সা সব ঝুট হ্যায়...'
×

আব্দুল হাই মুন্সী

জাঁ-নেসার ওসমান

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ২১ জুন ২০২০ | ১৪:৪৩

'তফাৎ যাও, সব ঝুট্‌ হ্যায়...' মেহের আলী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ক্ষুধিত পাষাণে চিৎকার করে সবাইকে সাবধান করছেন।

"এ্যই, ভাই দ্যেইখ্যা দেইখ্যা, লাগব লাগব, সাবধান সাবধান, সইরা সইরা"

কালের মেহের আলী, বাজারের ভিড়ের মাঝে ঝাঁকামুটে মাথায় একমণি বাজার নিয়ে সবাইকে সাবধান করছেন। বিরক্তিতে সরতে সরতে বলি, "ওই ব্যাডা দেইখ্যা হাঁটস না!!"

বাজারের শত হৈচৈয়ের মাঝে আমার প্রতিবাদ ঢাকা পড়ে যায়।

কিন্তু এ কোন বাজার!

'লকডাউনে' শান্ত নীরব, নিঝুমপুরীর জিয়ন কাঠি মরণ কাঠির মতো গমগমে বাজারের উষ্ণতা আর নেই। সবাই ঘুমিয়ে রয়েছে। দু-একটা পথের সারমেয় গভীর ঘুমে। নিঃসাড়।

ঝাঁপটানা সব সারি সারি দোকানের তালাগুলো যেন চিৎকার করছে, মিছিল করে, নীরবে স্লোগান দিচ্ছে, আক্কেলে তালা মারলে ধরিত্রীর এই হবে।

পাহাড় কেটে অ্যাপার্টমেন্ট, নদী গিলে কলকারখানা, ব্যাংক লুটে সেকেন্ড হোম! বিবেক বেচে ম্যানপাওয়ার...

এইসব কারণে নাকি ধরিত্রী মাতা প্রতিশোধ নিচ্ছেন, "নেচার'স রিভেঞ্জ!!"

অকালকুষ্ফ্মাণ্ডরা, মায়ের কপালে এই কালিমা লেপনে দ্বিধা করে না।

মা কি কখনো সন্তানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পারেন??

সেতু বদ্যি লিখলেন, "এক পুত্র তার প্রেমিকার কাছে প্রেমের পরীক্ষা স্বরূপ নিজ মা'কে খুন করে,

মা'র হৃদয় প্রেমিকার জন্য উপহার হিসেবে নিয়ে যাচ্ছে। যেতে যেতে পথে হোঁচট খেয়ে পুত্রটি মাটিতে পড়ে গেলে, মা'র হৃদয়টি বলে উঠলেন, "বাবা, তুই কি ব্যথা পেলি?"

এই হলো মা।

তাহলে ধরিত্রী মাতার প্রতিশোধ তো মানুষের নিজের বানানো কল্পকাহিনী।

মা কখনো পুত্রের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করেন না।

আমরা নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে বেশ একটা প্রশান্তি লাভ করি।

করোনার ভয়াবহতার সঙ্গে হাত মিলিয়ে চাল-চুরি, প্রণোদনা লোপাট, কম দামে মাস্ক কিনে মহামারির সহায়তা করা। আড়াই হাজার টাকার জন্য একই সেল ফোন নম্বর বিশবার লেখা!!

এসব রোধের জন্য কোথাও কোনো সোচ্চার প্রতিবাদ নেই। কেউ কোথাও নেই। সবাই কেমন এক নিশিডাকা মানুষের মতো হেঁটে বেড়াচ্ছে।

প্রতিদিনই কেবলই অভাব বোধ করি, রাজপথ দাপানো রাজনৈতিক নেতা মোহাম্মদ নাসিম নেই, নীলুফার মঞ্জুর নেই, শান্ত মরিয়মের ইনামুল কবীর শান্ত চিরদিনের মতো প্রশান্তিতে চলে গেলেন। চিরশান্তির কোলে ঢলে পড়লেন নাজির উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, অনীতা রানী রায়, হুমায়ুন কবীর খোকন, মঈন উদ্দিন আহমেদ, আবদুল মোকারিম, রাজিয়া সুলতানা, মীরা রানী দাশ, এমনি শত শত নামের তালিকাই বাড়ছে!!

আর একবার কি মানুষ মানুষ হবে না!!

এই জাগতিক লোভ-লালসা যা মানুষের কোনো কাজেই আসবে না।

মৃত্যুর মিছিলে, তোমার এই সামান্য টাকাকড়ির কোনো বেইল নাইরে ভাই,।

তবে কিসের ছলনায় এই মানব পাচার! ব্যাংক লুট, খাদ্যে ভেজাল- রোগীর টেস্টের কমিশন, ৪০% (শতকরা চল্লিশ) পার্সেন্ট! কোনো কিছুই তো তোমাদের বিপদের সময় কাজে আসছে না।

কী লাভ ব্যাংকের এমডিরে গোলাগুলি করা! ইয়াবা বেচা।

একবার পৃথিবীর দিকে তাকাও, নিজের দিকে তাকাও, কোটিপতি ডাক্তার হাওয়াই জাহাজ চড়ে ঢাকায় এসেও রক্ষা নেই। চার চাকার অ্যাম্বুলেন্সেই হাসপাতাল টু হাসপাতাল, ঘুরে ঘুরে সিট না পেয়ে, অক্সিজেন না পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই মৃত্যু।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনা কার কাছে বলে মন হাল্ক্কা করব!!

বলবেন আপনারা কার কাছে বলব এ রোদন ভরা বেদনার কথা!!

কয়েকশ' বছর ধরে, "তফাৎ যাও, টাকা পয়সা সব ঝুট হ্যায়..." মেহের আলী চিৎকার করে সবাইকে সাবধান করছেন। কালের ঝাঁকামুটেও চিৎকার করে সাবধান করেই চলেছে;

"এ্যই, ভাই দ্যেইখ্যা দেইখ্যা, লাগব লাগব, সাবধান সাবধান...

আপনারা এখনও সাবধান না হলে মেহের আলী আর কালের ঝাঁকামুটেও অনন্ত কাল চিৎকার করেই চলবে,

"এ্যই, ভাই দ্যেইখ্যা দেইখ্যা, লাগব লাগব, সাবধান সাবধান সাবধান...

চলচ্চিত্র নির্মাতা

আরও পড়ুন

×