এ কেমন 'বদলা'
×
ফাইল ছবি
সুদীপ্ত সাইফুল
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২০ | ১২:০০
অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসকদের চ্যালেঞ্জ আমরা বুঝতে চেষ্টা করি না। রোগাক্রান্ত হলে মানুষ চিকিৎসকের শরনাপন্ন হন। নিজের ক্ষেত্রে যা-ই হোক, আপনজনের অসুস্থ্য অবস্থায় মানুষ বড় অসহায় হয়ে পড়েন, তখন একজন ডাক্তারের সামান্য দুটো কথাতেই মনে অনেক জোর পাওয়া যায় চিকিৎসকও মনেপ্রাণে চেষ্টা করেন যাতে রোগি সুস্থ হয়। সুস্থতার জন্য চিকিৎসক সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও অনেকসময় ব্যর্থ হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় তার নয়, কারণ চিকিৎসক চাইলেই কাউকে সুস্থ করতে পারেন না। অথচ অনেকসময় দেখা যায় রোগীর কিছু হলে চিকিৎসকের দায় না থাকলেও চিকিৎসকের ওপর হামলা, হাসপাতাল ক্লিনিক ভাংচুরের মতো নানা ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় চিকিৎসক যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন একইসঙ্গে কখনো কখনো নিজের জীবন নিয়েও সংশয় দেখা দেয়। সর্বশেষ আমরা খুলনার ডা. আব্দুর রকিব খানের দুঃখজনক ঘটনা আমরা দেখলাম।
করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। ইতোমধ্যে করোনা মহামারিতে বিশ্বব্যাপী সাড়ে চার লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় নব্বই লাখ মানুষ। বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে হুহু করে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে করোনা সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত হয়েছে। এসময় আমাদের চিকিৎসকরা সামনে এসে মানুষের সেবা করছে। ইতোমধ্যে সেবা দিতে গিয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক মারাও গেছেন। ঠিক এ সময়ে খুলনায় রোগীর স্বজনদের হামলায় চিকিৎসক নিহতের ঘটনা কতটা মর্মন্তুদ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ডা. আব্দুর রকিব খানকে তারা কৌশলে বাইরে ডেকে এনে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ১৬ জুন সন্ধ্যায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আপাতদৃষ্টে এই হামলা কোনো সাধারণ হামলা ছিল না। সম্পূর্ণ পরিকল্পনামাফিক ডা. আব্দুর রকিব খানকে আক্রমণ করা হয়েছিল বলেই প্রতীয়মান হয়।
ডা. আব্দুর রকিব খানের ওপর হামলা ও তার মৃত্যুর ঘটনা স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে ব্যথিত করেছে তো বটেই, ভীত-সন্ত্রস্তও করেছে। আমাদের দেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার একধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি কোনো হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু হলে অনেক সময় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে হাসপাতাল ভাংচুর ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়ে থাকে। সাধারণত এ ধরনের ঘটনার কোনো বিচার হয় না। এখানে প্রশ্ন জাগে- চিকিৎসা ভুল হয়েছে না ঠিক হয়েছে তা রোগীর স্বজনরা কীভাবে নির্ধারণ করে? আর যদি তারা কোনোভাবে নিশ্চিত হয়েও থাকে যে, চিকিৎসায় ভুল ছিল কিংবা রোগীর প্রতি অবহেলা করা হয়েছে; তাহলেও কি তারা হামলা করতে পারে? একজন চিকিৎসককে হত্যা করতে পারে? আমাদের দেশে আইন-আদালত আছে, তারা তো আইনের দ্বারস্থ হতে পারত। তা না করে হামলা করা কোনো সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না।
ডা. আব্দুর রকিব খানের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে খুলনায় সরকারি-বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের ডাক্তাররা কর্মবিরতি পালন করছেন। পরে অবর্শ শর্তসাপেক্ষে তারা কাজে ফিরে এসেছেন। তবে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার পর চিকিৎসকরা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে শঙ্কিত থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। ইতোমধ্যে অনেক চিকিৎসক তাদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনার লাগাম টেনে ধরার সময় এসেছে। সময় এসেছে মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করার। এ ঘটনার বিচার না হলে বা পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকলে সেবা দেওয়ার প্রতি চিকিৎসকদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সংকুচিত হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব এ ধরনের হামলা বন্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। খুলনায় হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে মূল আসামিদের অধিকাংশই গ্রেপ্তার হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা করায় খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা- হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনা মোকাবিলায় নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করবেন। আর রোগী হিসেবে চিকিৎসকদের বেদনাটাও যাতে আমরা বোঝার চেষ্টা করি।
সাংবাদিক
করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। ইতোমধ্যে করোনা মহামারিতে বিশ্বব্যাপী সাড়ে চার লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় নব্বই লাখ মানুষ। বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে হুহু করে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে করোনা সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত হয়েছে। এসময় আমাদের চিকিৎসকরা সামনে এসে মানুষের সেবা করছে। ইতোমধ্যে সেবা দিতে গিয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক মারাও গেছেন। ঠিক এ সময়ে খুলনায় রোগীর স্বজনদের হামলায় চিকিৎসক নিহতের ঘটনা কতটা মর্মন্তুদ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ডা. আব্দুর রকিব খানকে তারা কৌশলে বাইরে ডেকে এনে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ১৬ জুন সন্ধ্যায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আপাতদৃষ্টে এই হামলা কোনো সাধারণ হামলা ছিল না। সম্পূর্ণ পরিকল্পনামাফিক ডা. আব্দুর রকিব খানকে আক্রমণ করা হয়েছিল বলেই প্রতীয়মান হয়।
ডা. আব্দুর রকিব খানের ওপর হামলা ও তার মৃত্যুর ঘটনা স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে ব্যথিত করেছে তো বটেই, ভীত-সন্ত্রস্তও করেছে। আমাদের দেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার একধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি কোনো হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু হলে অনেক সময় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে হাসপাতাল ভাংচুর ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়ে থাকে। সাধারণত এ ধরনের ঘটনার কোনো বিচার হয় না। এখানে প্রশ্ন জাগে- চিকিৎসা ভুল হয়েছে না ঠিক হয়েছে তা রোগীর স্বজনরা কীভাবে নির্ধারণ করে? আর যদি তারা কোনোভাবে নিশ্চিত হয়েও থাকে যে, চিকিৎসায় ভুল ছিল কিংবা রোগীর প্রতি অবহেলা করা হয়েছে; তাহলেও কি তারা হামলা করতে পারে? একজন চিকিৎসককে হত্যা করতে পারে? আমাদের দেশে আইন-আদালত আছে, তারা তো আইনের দ্বারস্থ হতে পারত। তা না করে হামলা করা কোনো সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না।
ডা. আব্দুর রকিব খানের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে খুলনায় সরকারি-বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের ডাক্তাররা কর্মবিরতি পালন করছেন। পরে অবর্শ শর্তসাপেক্ষে তারা কাজে ফিরে এসেছেন। তবে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার পর চিকিৎসকরা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে শঙ্কিত থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। ইতোমধ্যে অনেক চিকিৎসক তাদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনার লাগাম টেনে ধরার সময় এসেছে। সময় এসেছে মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করার। এ ঘটনার বিচার না হলে বা পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকলে সেবা দেওয়ার প্রতি চিকিৎসকদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সংকুচিত হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব এ ধরনের হামলা বন্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। খুলনায় হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে মূল আসামিদের অধিকাংশই গ্রেপ্তার হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা করায় খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা- হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনা মোকাবিলায় নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করবেন। আর রোগী হিসেবে চিকিৎসকদের বেদনাটাও যাতে আমরা বোঝার চেষ্টা করি।
সাংবাদিক
- বিষয় :
- 'বদলা'